সূচক বাড়লেও কমেছে লেনদেন

টানা ৪ দিনের দরপতনের পর শেয়ারবাজারে সূচক বেড়েছে। গতকাল একদিনেই দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাধারণ সূচক বেড়েছে ১৬৮ পয়েন্ট। লেনদেনে অংশ নেয়া অধিকাংশ কোম্পানিরই শেয়ারের দর বেড়েছে। তবে পতনের ধারা থেকে বাজার বেরিয়ে এলেও আর্থিক লেনদেনের পরিমাণ কমেছে। আগের দিনের তুলনায় ২৫ কোটি ৩৫ লাখ টাকা কমে গতকাল দিনশেষে লেনদেন হয়েছে ২৬৫ কোটি ৫১ লাখ টাকা। গত ১৫ দিনের মধ্যে এটি সর্বনিম্ন লেনদেন। এর আগে গত ১৮ অক্টোবর ডিএসইতে সর্বনিম্ন ১০৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছিল।


গত ২৬ অক্টোবর থেকে শেয়ারবাজারে টানা ৪ দিন দরপতনের ঘটনা ঘটেছে। আর এই সময়ে ডিএসই সূচকের পতন হয়েছে ৪১৯ পয়েন্ট। ২৬ অক্টোবর ডিএসই সাধারণ সূচক ছিল ৫৫৫৫ পয়েন্ট এবং গত ৩১ অক্টোবর তা নেমে আসে ৫০৩৬ পয়েন্টে। সূচক ৫ হাজার পয়েন্টের কাছাকাছি চলে আসায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক দেখা দেয়। তাদের ধারণা, যে হারে শেয়ারবাজারে পতন হচ্ছে তাতে সূচক ৫ হাজার পয়েন্টের নিচ চলে আসবে। আর ৫ হাজার পয়েন্টের নিচে সূচক চলে আসলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরি হবে এবং বাজারে সূচকের পতন আরও ত্বরান্বিত হবে। তবে গতকাল সূচকের বড় ধরনের উত্থানে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে। স্বস্তি ফিরে আসলেও আতঙ্ক এখনও কাটেনি।
এদিকে শেয়ারবাজারে ব্যাংকগুলো বিনিয়োগের ঘোষণা দিলেও বাজারে তার কোনো প্রভাব নেই। বরং ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগের ঘোষণার পর থেকেই বাজারে লেনদেনের পরিমাণ কমছে। গত ২০ অক্টোবর বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ ব্যাংকার্স (এবিবি) শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের ঘোষণা দেয়। যে সব ব্যাংক শেয়ারাবাজারে আমানতের ১০ শতাংশের কম বিনিয়োগ করেছে তারা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ শুরু করবে বলে জানিয়েছিলেন সংগঠনটির সভাপতি মাহমুদ কে সাত্তার। ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগের ঘোষণার পর পরই ব্যাংকের উদ্যোক্তা পরিচালকদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস ৫ হাজার কোটি টাকার একটি আলাদা ফান্ড শেয়ারবাজারে নিয়ে আসারও ঘোষণা দেয়। ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ এবং নতুন ফান্ড গঠনের ঘোষণায় গত ২৩ অক্টোবর শেয়ারবাজারে লেনদেন ৬০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়। কিন্তু এরপর লেনদেনের পরিমাণ দিন দিন কমতে শুরু করে। গতকাল সে লেনদন নেমে এসছে ৩০০ কোটি টাকার কমে। লেনদেন হয়েছে ২৬৫ কোটি টাকা। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ব্যাংকগুলো বিনিয়োগের ঘোষণা দিলেও তা কার্যকর করছে না। ফলে আর্থিক লেনদেনের পরিমাণ কমেই চলছে। যদিও বিএবি প্রেসিডেন্ট নজরুল ইসলাম মজুমদার ব্যাংকগুলো বিনিয়োগ শুরু করেছে বলে জানিয়েছিলেন।
এদিকে গতকাল সূচক বাড়লেও লেনদেন কমে যাওয়ার বিষয়ে বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, গত ৪ দিনের টানা দরপতনের পর সূচক বৃদ্ধি স্বাভাবিক। বর্তমানে বাজারে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারের দর এমন অবস্থায় চলে গেছে যে, তার আর নিচে যাওয়ার কথা নয়। কিন্তু বিনিয়োগকারীদের আস্থার সঙ্কটের কারণে দরপতন ঘটছে। তবে গতকাল বাজারে ঊর্ধ্বমুখী ধারা তৈরি হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের জন্য কিছুটা স্বস্তিদায়ক। তবে এ ধারা কতদিন অব্যাহত থাকবে সেটিই দেখার বিষয়। অপরদিকে গতকাল লেনদেনের শুরুতে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারের দর বৃদ্ধি দিয়ে লেনদেন শুরু হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক ধরনের আশাবাদ তৈরি হয়েছে। শেয়ারের দর আরও বাড়তে পারে—এমন ধারণার কারণে বাজারে শেয়ারের বিক্রি চাপ অন্যান্য দিনের তুলনায় কম ছিল। বিক্রি চাপ না থাকার কারণে লেনদেনের পরিমাণ কমেছে। অব্যাহত দরপতনের কারণে অধিকাংশ বিনিয়োগকারীর ক্রয়ক্ষমতা কমে গেছে। লেনদেন কমে যাওয়ার এটি একটি কারণ হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

No comments

Powered by Blogger.