সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় : সার্ক সম্মেলনে যোগ দিতে মালদ্বীপ গমন

ন্য অনেকের মতোই ১৩ বছরের বালক তোফাজ্জল আহমেদ নয়নও সোমবার (ঈদের প্রথম দিন) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার সরকারি বাসভবন গণভবনে সাক্ষাত্ করেছে। দিনটি নয়নের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবে। কারণ, প্রধানমন্ত্রী যে তার পড়াশোনার ব্যয় নির্বাহের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।প্রধানমন্ত্রী সুনামগঞ্জের সাতগাঁওয়ের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র অনাথ বালক নয়নের দুঃখের কাহিনী শুনে তার অফিসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ঢাকা মহানগরীর একটি স্কুলে তাকে ভর্তির ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিয়েছেন।


স্থানীয় কয়েকজন নেতার পরামর্শে নয়ন ঈদের দিন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ গ্রহণের জন্য ঢাকা আসে এবং প্রধানমন্ত্রীকে উত্সর্গ করে তার নিজের লেখা একটি কবিতা পাঠ করে শোনায়।
নয়নের মতো বিপুলসংখ্যক লোক সোমবার দেশের প্রধান নির্বাহীর সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলে এ অনুষ্ঠান। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সাহায্য-সহযোগিতা পেতে তারা তাদের নানা সমস্যার কথা জানায়।
প্রধানমন্ত্রী তাদের কথা ধৈর্য সহকারে শোনেন এবং কিছু ক্ষেত্রে তিনি এসব সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন। অনুষ্ঠানে সব শ্রেণীর মানুষ অংশ নেন।
প্রধানমন্¿ী সকাল ৯টায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। দলীয় নেতারা ফুলের তোড়া উপহার দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান। পরে প্রধানমন্ত্রী সর্বস্তরের জনগণের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
এর মধ্যে ছিলেন সুশীল সমাজের সদস্য, ঊর্ধ্বতন বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তা, কবি, সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ, ভাইস চ্যান্সেলর, ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ, চিকিত্সক, ইঞ্জিনিয়ার, আইনজীবী ও সাংবাদিক। এদের মধ্যে কয়েকজন প্রধানমন্ত্রীকে বই, কবিতার বই, বিভিন্ন লেখা ও সাময়িকপত্র উপহার দেন।
আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতারাও এ সময় প্রধানমন্¿ীর সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছ বিনিময় করেন। এ সময় যুব মহিলা লীগ নেতারা প্রধানমন্¿ীকে ফুলের তোড়া উপহার দেন।
পরে প্রধানমন্ত্রী ঢাকার বিভিন্ন মিশনের কর্মকর্তা, বিদেশি কূটনীতিক এবং সুপ্রিমকোর্ট ও হাইকোর্টের বিচারপতিদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
সিনিয়র আওয়ামী লীগ নেতা আমির হোসেন আমু, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, সতীশ চন্দ্র রায়, সাহারা খাতুন, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, বাণিজ্যমন্ত্রী ফারুক খান, প্রতিমন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান, অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম ও শিরীন শারমিন চৌধুরী প্রমুখ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী মুখ্য সচিব শেখ মো. ওয়াহিদ-উজ জামাল এবং প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদও উপস্থিত ছিলেন।
সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে মালদ্বীপে প্রধানমন্ত্রী : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) দেশগুলোর রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের ১৭তম শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে গতকাল মালদ্বীপের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছেন।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ভাড়া করা একটি বিমানে প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীরা বেলা ১২টায় হযরত শাহজালাল বিমানবন্দর ত্যাগ করেন। বিমানবন্দরে তাকে বিদায় জানান অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, তথ্যমন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী জি এম কাদের, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুল-উল-আলম হানিফ।
এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন কেবিনেট সচিব মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়া, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনী প্রধান, কূটনৈতিক কোরের ডিন এবং উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় সময় বেলা ৩টা ৩০ মিনিটে মালদ্বীপ পৌঁছেন। প্রধানমন্ত্রী আদ্দু সিটিগান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছলে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহামেদ নাশীদ তাকে স্বাগত জানান। এ সময় বিমানবন্দরে একটি ছোট শিশু শেখ হাসিনাকে ফুলের তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা জানায়।
বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে মালদ্বীপ জাতীয় প্রতিরক্ষা বাহিনীর (এমএনডিএফ) একটি চৌকস দল গার্ড অব অনার দেয়। এ সময় বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের জাতীয় সংগীত বাজানো হয়।
বিমানবন্দরে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব মিজারুল কায়েস, মালেতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত রিয়ার এডমিরাল আ স ম আবদুল আওয়াল এবং মালদ্বীপ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
রাজধানী মালে থেকে ৫শ’ কিলোমিটার দূরে মালদ্বীপের দ্বিতীয় বৃহত্তম জনবসতিপূর্ণ দক্ষিণাঞ্চলীয় দ্বীপ শহর আদ্দুতে আজ দু’দিনব্যাপী সার্ক শীর্ষ সম্মেলন শুরু হচ্ছে।
স্বাগতিক দেশের নেতারা এবারের শীর্ষ সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ঠিক করেছেন ‘সেতুবন্ধন’। কারণ, এবারের শীর্ষ সম্মেলনে সদস্য দেশগুলোর মধ্যকার মতপার্থক্য নিরসনে রাজনৈতিক সংলাপসহ আঞ্চলিক যোগাযোগের ওপর গুরুত্বারোপ করা হবে। সার্ক সচিবালয় সূত্র জানিয়েছে, শীর্ষ সম্মেলনে তিন দেশের প্রেসিডেন্ট এবং পাঁচ দেশের প্রধানমন্ত্রী অংশ নেবেন।
শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপাকসে, আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই, ভারতের প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিং, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানি, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী জিগমে ইওসের থিনলে, নেপালের প্রধানমন্ত্রী ড. বাবুরাম ভট্টরাই ও তাদের সফরসঙ্গীরা শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেবেন।
শীর্ষ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি রবার্ট ব্লেক এবং চীন, ইরান ও জাপানের রাষ্ট্রদূত পর্যায়ের কর্মকর্তারা পর্যবেক্ষক হিসেবে যোগ দেবেন। আজ সকালে শাংগ্রি-লা’র অবকাশযাপন কেন্দ্র ভিলিংজিলিতে শেখ হাসিনার ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় বসার কথা রয়েছে।
শীর্ষ সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন সকালে শেখ হাসিনা অবকাশযাপনে যোগ দেবেন এবং সার্ক নেতাদের সঙ্গে বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় ও আঞ্চলিক ইস্যুতে মতপার্থক্য নিরসনে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা করবেন। একই দিন বিকালে তিনি শীর্ষ সম্মেলনের সমাপনী অধিবেশনে যোগ দেবেন।
প্রধানমন্ত্রী ১২ নভেম্বর দেশে ফিরবেন বলে আশা করা হচ্ছে। মালদ্বীপে এ নিয়ে তৃতীয়বার সার্ক শীর্ষ সম্মেলন আয়োজন করছে। এর আগে ১৯৯০ ও ১৯৯৭ সালে মালেতে পঞ্চম ও নবম সার্ক শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

No comments

Powered by Blogger.