ঢাকায় আসতে শুরু করেছে দলগুলো

ছরের শুরুর দিকে আইসিসি বিশ্বকাপ আয়োজনের পর ২০১৩ আইসিসি মহিলা বিশ্বকাপের বাছাই পর্ব আয়োজন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। সপ্তাহান্তেই শুরু হতে যাচ্ছে বাছাই পর্বের লড়াই। এ লড়াইয়ে অংশ নিতে ঢাকায় আসতে শুরু করেছে বিদেশি দলগুলো। বাছাই পর্বে বাংলাদেশসহ মোট ১০টি দল অংশগ্রহণ করবে। এরই মধ্যে ৭ নভেম্বর ঢাকায় এসে পৌঁছছে শ্রীলঙ্কা ও আমেরিকা দল। দু’একদিনের মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকা, হল্যান্ড, জিম্বাবুয়ে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, পাকিস্তান, আয়ারল্যান্ড ও জাপান দলের ঢাকায় পৌঁছার কথা রয়েছে।


বিশ্বকাপে নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করতে ১৪ নভেম্বর থেকে অংশগ্রহণকারী দলগুলো বাছাই পর্বের লড়াইয়ে নামতে যাচ্ছে। বাছাই পর্বের খেলাগুলো হবে মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়াম, নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়াম ও বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি)। একদিনে চারটি করে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি খেলাই শুরু হবে সকাল নয়টা থেকে। দুই বছর পর ২০১৩ সালে ভারতে অনুষ্ঠিত হবে মহিলা বিশ্বকাপ ক্রিকেটের মূল আসর। এদিকে আসন্ন বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের টিকিট আগে থেকেই নিশ্চিত হয়ে আছে গত আসরের সেরা চারটি দলের। গত আসরের সেরা চার হলো—চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড, রানার্সআপ নিউজিল্যান্ড, তৃতীয় স্থানে থাকা ভারত ও চতুর্থ স্থানে থাকা অস্ট্রেলিয়া। ১৪ থেকে ২৬ নভেম্বর বাংলাদেশে অনুষ্ঠেয় বাছাইপর্ব শেষে সেমিফাইনালিস্ট চারদল ২০১৩ সালের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের টিকিট পাবে। মোট আটটি দল নিয়ে অনুষ্ঠিত হবে ’১৩ সালের আইসিসি মহিলা বিশ্বকাপ। বাছাই পর্বের পারফরম্যান্স অনুযায়ী বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের টিকিটের পাশাপাশি মিলবে ওয়ানডে স্ট্যাটাসও। বাছাই পর্বে খেলতে যাওয়া দলগুলোর মধ্যে জিম্বাবুয়ে, যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশেরই কেবল ওয়ানডে স্ট্যাটাস নেই। বাছাই পর্বের সেরা চারদল খেলবে সরাসরি বিশ্বকাপে। আর সেরা ছয় দলের মধ্যে থাকা যেসব দেশের ওয়ানডে স্ট্যাটাস নেই সেসব দেশ ওয়ানডে স্ট্যাটাস পাওয়ার গৌরব অর্জন করবে।
দুটি (‘এ’ এবং ‘বি’) গ্রুপের হয়ে অংশগ্রহণকারী দলগুলো বাছাই পর্বে প্রতিযোগিতা করবে। ‘এ’ গ্রুপে রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা, শ্রীলঙ্কা, হল্যান্ড, জিম্বাবুয়ে ও যুক্তরাষ্ট্র। ‘বি’ রয়েছে স্বাগতিক বাংলাদেশসহ ওয়েস্ট ইন্ডিজ, পাকিস্তান, আয়ারল্যান্ড ও জাপান।
উদ্বোধনী ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে ১৪ নভেম্বর মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। পরের দিনই স্বাগতিকরা বিকেএসপি-২ মাঠে জাপানের মুখোমুখি হবে। ১৮ নভেম্বর আয়ারল্যান্ডের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। আর গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের সবশেষ ম্যাচটি হবে ২০ নভেম্বর ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে। এর মধ্যে অন্যদলগুলোরও খেলা শেষ হয়ে যাবে। দুই গ্রুপের পয়েন্ট তালিকায় শীর্ষে থাকা দুই দল সরাসরি উঠে যাবে সেমিফাইনালে। এই পর্বের জন্য আরও দুটি দল নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পয়েন্ট তালিকায় ‘এ’ গ্রুপের দ্বিতীয় এবং ‘বি’ গ্রুপের তৃতীয় দলের মধ্যে একটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। এই ম্যাচে জয়ী দলের সঙ্গে ২৪ নভেম্বর ফতুল্লায় ‘বি’ গ্রুপের সেরা দলের প্রথম সেমিফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। একইভাবে ‘এ’ গ্রুপের তৃতীয় এবং ‘বি’ গ্রুপের দ্বিতীয় সেরা দলের সঙ্গে আরেকটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। এই ম্যাচের জয়ী দল ২৪ নভেম্বর মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে ‘এ’ গ্রুপের সেরা দলের মধ্যে দ্বিতীয় সেমিফাইনাল ম্যাচে মুখোমুখি হবে। সেমিফাইনালের দুই বিজয়ী দল ২৬ নভেম্বর মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ফাইনাল ম্যাচে মুখোমুখি হবে।
এদিকে বাছাইপর্বে স্বাগতিক বাংলাদেশের পারফরম্যান্স কী রকম হবে? এ নিয়ে ক্রিকেটামোদিদের আগ্রহের কোনো কমতি নেই। বিশ্বকাপ উপলক্ষে দলে নিয়োগ দেয়া হয়েছে ভারতীয় কোচ মমতা মাভেনকে। তার অধীনে দল সম্প্রতি ভারতের সৌরাষ্ট্র ও শ্রীলঙ্কা সফরে যায়। সৌরাষ্ট্রের মহিলা দলের সঙ্গে সালমা বাহিনী ভালো পারফরম্যান্স দেখালেও শ্রীলঙ্কা মহিলা দলের সঙ্গে নিয়মিত ব্যর্থ হতে হয়। এদিকে এরই মধ্যে অন্যসব দলের মতো বাছাই পর্ব উপলক্ষে ১৪ সদস্যের বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়দের নাম ঘোষণা করা হয়েছে।

No comments

Powered by Blogger.