সিরিয়ায় আসাদবিরোধী বিক্ষোভে নিহত ৩ হাজার ৫শ’র বেশি : জাতিসংঘ

সিরিয়ায় প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদবিরোধী বিক্ষোভকারীদের ওপর সরকারি বাহিনীর দমন-পীড়নে ৩ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে বলে জাতিসংঘ জানিয়েছে। জেনেভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার কার্যালয়ের মুখপাত্র রাভিনা শামদাসানি সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, সিরিয়ায় সরকারের হামলায় এ পর্যন্ত সাড়ে তিন হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, গত সপ্তাহে আরব লিগের সহযোগিতায় সিরিয়া শান্তি পরিকল্পনায় সই করার পর থেকে সেনাবাহিনীসহ অন্যান্য সরকারি বাহিনীর হাতে এ পর্যন্ত ৬০ জনেরও বেশি মানুষের নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রোববার ঈদুল আজহার দিনেই অন্ততপক্ষে ১৯ জন মারা গেছে।


আর সিরিয়ার সরকার জাতিসংঘ প্রতিনিধিদের সেদেশে প্রবেশ করতে দেয়নি। তাই ‘বিশ্বাসযোগ্য’ সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এ সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। শামদাসানি বলেন, বারবার অনুরোধ করার পরও সিরিয়ার সরকার কোনো সহযোগিতা করেনি। তবে সিরিয়ার আন্দোলনকারীরা জানিয়েছে, নিহতের সংখ্যা প্রায় ৪ হাজার ২শ’। এর আগে ১৪ অক্টোবর জাতিসংঘ জানায়, নিহতের সংখ্যা তিন হাজার ছাড়িয়ে গেছে। আগস্ট মাসে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার নাভি পিল্লেই সিরিয়ার এ পরিস্থিতিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) তুলে ধরতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি আহ্বান জানান। গত ২ নভেম্বর আরব লিগের প্রস্তাবিত পরিকল্পনার বিষয়ে সম্মত হয় সিরিয়া। এ পরিকল্পনায় আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে সিরিয়ার বিভিন্ন শহর থেকে সেনা প্রত্যাহার, রাজবন্দিদের মুক্তি এবং বিরোধীপক্ষের সঙ্গে আলোচনায় সম্মত হয় সরকার। আরব লিগে থাকা সিরিয়ার প্রতিনিধি জানান, সিরিয়া এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে অনেকটাই এগিয়ে গেছে। এক্ষেত্রে গত সপ্তাহে ঘোষিত সাধারণ ক্ষমার আওতায় প্রায় ৫শ’ বন্দিকে মুক্তি দেয়ার কথা উল্লেখ করেন তিনি। তবে দমনাভিযান বন্ধে দামেস্ক ব্যর্থ হওয়ায় আরব দেশ ও পশ্চিমা দেশগুলো দিন দিন হতাশ হয়ে পড়ছে। এ বিষয়ে শনিবার আলোচনায় বসতে আরব দেশগুলোর প্রতি কাতারের প্রধানমন্ত্রী আহ্বান জানিয়েছেন। সরকারি ভাষ্য অনুযায়ী, সশস্ত্র বাহিনীর বিরুদ্ধে চালানো হামলা বন্ধের চুক্তি সত্ত্বেও জাতিসংঘ ও কর্মীরা জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের অনুগত সেনা ও বিদ্রোহীরা হামলার ৬ দিন পরও হমস শহরে তাদের নিয়ন্ত্রণ অব্যাহত রেখেছে। দেশটিতে বিদেশি কোনো সাংবাদিককে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না। তাই প্রকৃতপক্ষে সেখানে কী ঘটছে সে বিষয়ে তথ্য পাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। শামদাসানি জানান, সিরিয়া তাদের অঙ্গীকার পূরণে বদ্ধপরিকর নয়। তিনি বলেন, ঈদ উপলক্ষে শনিবার সিরিয়ার সরকার ৫৫৪ জন বন্দিকে মুক্তির ঘোষণা দিলেও এখনও কয়েক হাজার ব্যক্তি আটক রয়েছে এবং প্রতিদিনই বেশকিছু ব্যক্তি গ্রেফতারের শিকার হচ্ছেন। জাতিসংঘ মানবাধিকার কার্যালয়ের মুখপাত্র জানান, হমস শহরে ট্যাঙ্ক ও ভারী অস্ত্র দিয়ে হামলা চালাচ্ছে সরকারি বাহিনী। শামদাসানি আরও বলেন, জাতিসংঘ মানবাধিকার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত সাত দিন ধরে এ এলাকা ঘিরে রাখা হয়েছে। আর এখানকার অধিবাসীরা খাবার, পানি ও চিকিত্সা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

No comments

Powered by Blogger.