রূপালী ব্যাংকের অটোমেশনে অনিয়মের অভিযোগ

রূপালী ব্যাংকের ১২০ কোটি টাকার অটোমেশন প্রকল্পের দরপত্র প্রক্রিয়ায় অস্বচ্ছতা ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ প্রকল্পে সর্বনিম্ন দর প্রস্তাবকারীকে কাজ না দিয়ে অবৈধভাবে টাকার বিনিময়ে ফ্লোরা টেলিকমকে কাজ দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ব্যাংকের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তারা। অভিযোগে বলা হয়, পে-অর্ডারের পরিমাণ বাড়ানোর পাশাপাশি বেশকিছু শর্ত জুড়ে দিয়ে দরপত্র প্রক্রিয়ায় যেন অন্যান্য প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করতে না পারে সে ধরনের ব্যবস্থাও করা হয়। সম্প্রতি অর্থমন্ত্রীর কাছে এ সংক্রান্ত একটি অভিযোগ করা হয়েছে।


জানা গেছে, রাষ্ট্রায়ত্ত রূপালী ব্যাংকে অনলাইন ব্যাংকিং চালুর জন্য একটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ১২০ কোটি টাকা। গত ২৪ মে ১২০ কোটি টাকার অনুমোদিত বাজেট নিয়ে দরপত্র আহ্বান করে ব্যাংকটি। ১১টি প্রতিষ্ঠান দরপত্র ক্রয় করে এবং ৭টি প্রতিষ্ঠান দরপত্র জমা দেয়। ব্যাংকের টেকনিক্যাল কমিটি ১২ দিন যাচাই-বাছাই করে তিন প্রতিষ্ঠানকে শর্ট লিস্ট করে যোগ্য হিসেবে বিবেচনা করে। এগুলো হচ্ছে ফ্লোরা টেলিকম, ডাটাএজ এবং থ্রিআই ইনফোটেক-গ্লোবাল বিডি। আর্থিক দরপত্র খুলে দেখা যায় সর্বনিম্ন দরদাতা থ্রিআই ইনফোটেক লিমিটেডের দর হলো ৯১ কোটি ৮৯ লাখ ৫১ হাজার টাকা। আর দ্বিতীয় সর্বনিম্ন দরদাতা হলো ফ্লোরা টেলিকম লিমিটেড। যাদের দর হলো ১২৫ কোটি টাকা। আর সর্বোচ্চ দরদাতা ডাটাএজের দর হলো ১৮৭ কোটি ১৩ লাখ ৪২ হাজার টাকা। নিয়ম অনুযায়ী সর্বনিম্ন দরপ্রস্তাবকারীকে কাজ না দিয়ে ঊর্ধ্বতন কিছু কর্মকর্তা ফ্লোরা টেলিকমকে কাজ দেয়ার জন্য কয়েক কোটি টাকা ওই প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে নিয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
সাধারণত দরপত্রের আর্থিক প্রস্তাব খোলার আগে একটি প্রাক-দরপত্র বৈঠক করতে হয়। পরে নিয়ম অনুযায়ী যেসব কোম্পানি আর্থিক প্রস্তাব দিয়েছে তাদের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। কিন্তু রূপালী ব্যাংক দর প্রস্তাবের ব্যাপারে কোনো ধরনের ব্যাখ্যা (ক্লারিফিকেশন) চায়নি প্রাথমিকভাবে বাছাইকৃত ওই তিন কোম্পানির কাছে। এ বিষয়ে এরই মধ্যে দরপত্র দাখিলকারী প্রতিষ্ঠান থাকরাল-পোলারিস ও ডাটাএজ অর্থ মন্ত্রণালয়, রূপালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান, সব পরিচালক, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অধীন বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) সচিব ও সেন্ট্রাল প্রকিউরমেন্ট টেকনিক্যাল ইউনিটে (সিপিটিইউ) অভিযোগ করেছে বলে জানা গেছে। অর্থমন্ত্রীর কাছে কর্মকর্তাদের করা অভিযোগে বলা হয়েছে, রূপালী ব্যাংকের কিছু কর্মকর্তা অটোমেশনের কাজটি ফ্লোরা টেলিকমকে পাইয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছেন। ফ্লোরা টেলিকম যাতে কাজটি পায়, সেজন্য দরপত্রে এমন সব পণ্যের নাম উল্লেখ করা হয়েছে যেগুলো কেবল ফ্লোরাই বিক্রি করে, যা সরকারি ক্রয় বিধিমালার (পিপিআর) লঙ্ঘন। এসব অভিযোগের ব্যাপারে রূপালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. আহমেদ আল কবিরের সঙ্গে কথা বলার চেষ্ট করেও সম্ভব হয়নি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এর আগে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের মধ্যে জনতা ব্যাংকের অনলাইন ব্যাংকিংয়ের কাজ পেয়েছিল ফ্লোরা টেলিকম। কিন্তু কাজে অসন্তুষ্ট হয়ে ফ্লোরার বিরুদ্ধে সমন জারি করেছিল জনতা ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। ফ্লোরার অপর সহযোগী কোম্পানিকেও জরিমানা করা হয়। জনতা ব্যাংক ওই প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ৩ কোটি টাকা জরিমানা করে বলেও জানা গেছে। তাছাড়া অগ্রণী ও জনতা ব্যাংকের অটোমেশনের ক্ষেত্রে ফ্লোরার কাজের বেশকিছু ত্রুটি লক্ষ্য করা গেছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। এসব ত্রুটির মধ্যে রয়েছে কোনো অ্যাকাউন্টে টাকা না থাকলেও ওই সফটওয়্যারে টাকা উত্তোলন করা যায়। চেক নম্বর ভুল হলেও চেক ইস্যু করে টাকা উত্তোলন করা যায়।

No comments

Powered by Blogger.