মদনটাকের ঘরে নতুন অতিথি

তুন বছরের শুরুতেই নতুন অতিথি এসেছে ঢাকা চিড়িয়াখানায়। ডিম ফুটে এক জোড়া বাচ্চা হয়েছে মদনটাক দম্পতির। বাবা-মায়ের আদরে বেশ ভালো আছে ছানা দুটো। এই মদনটাক দম্পতি ঢাকা চিড়িয়াখানায় আছে ১৯৯৭ সাল থেকে। এবারই প্রথম এদের উত্তর প্রজন্ম ঘরে এল। গত বছর ১১ ডিসেম্বর স্ত্রী মদনটাক ডিম দেয় এবং এ বছর ৯ জানুয়ারি ডিম ফুটে ছানা দুটোর জন্ম।


চিড়িয়াখানার কিউরেটর এ বি এম শহীদ উল্লাহ জানান, চিড়িয়াখানায় মদনটাকের ছানা হওয়ার ঘটনা এ-ই প্রথম। মদনটাক স্বল্প জলাভূমিতে চরে বেড়ায়। প্রধান খাদ্য মাছ। এদের বৈজ্ঞানিক নাম Lesser Adjutant। মদনটাক এখন সুন্দরবন এলাকায়ই কিছু টিকে আছে। সারা দেশে এদের তেমন চোখে পড়ে না, অস্তিত্ব বিপন্নের পর্যায়ে। মদনটাক বাংলাদেশে টিকে থাকা পাখিগুলোর মধ্যে আকারে সবচেয়ে বড়।
ছানা দুটির গায়ে এখন পালক গজাতে শুরু করেছে। প্রথম দিকে ছোট মাছ খেলেও এখন এরা টাকি, নলা মাছের পাশাপাশি শামুক-গুগলিও খেতে শিখেছে।
কিউরেটর জানান, ২০১১ সাল ছিল চিড়িয়াখানায় পাখি ও প্রাণীদের প্রজননের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সফল বছর। জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ২০ প্রজাতির প্রাণী ও পাখির ৮০টি বাচ্চা হয়েছে। এর মধ্যে প্রাণীর ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য হলো: বাঘ, জলহস্তি, মেছোবাঘ, হনুমান, বানর এবং পাখির মধ্যে উটপাখি, নীল ময়ূর, সাদা ময়ূর ইত্যাদি। সব বাচ্চাই ভালোভাবে রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে এসব ছানা ও শাবকের দাম প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা। চার বছরের মধ্যে ২০১১ সালেই চিড়িয়াখানায় পাখি-প্রাণীর প্রজনন ও বাচ্চাদের টিকে থাকার হার সবচেয়ে বেশি।
গতকাল সোমবার দুপুরে চিড়িয়াখানায় গিয়ে দেখা যায়, মা মদনটাক চঞ্চুতে মাছের টুকরো নিয়ে ছানাদের মুখে তুলে দিচ্ছে। ডানা ঝাপটে টলমলে পায়ে দাঁড়িয়ে মায়ের মুখ থেকে খাবার খাচ্ছে ছানারা। পরমানন্দ নিয়ে পাখিদের অপত্যস্নেহের দৃশ্যটি উপভোগ করছেন দর্শকেরা। নানার সঙ্গে সাত বছরের রিজমি নোয়াখালী থেকে চিড়িয়াখানায় এসেছিল বাঘ-ভালুক দেখতে। কিন্তু এখানে এসে এত্ত বড় এক পাখির ছানাদের মায়ের ঠোঁট থেকে মাছ খেতে দেখে সে খুবই খুশি।

No comments

Powered by Blogger.