ক্লাইমেট চেঞ্জ ট্রাস্ট ফান্ডের 'থ্রি আর' প্রকল্প-আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের দশ মাসেও চালু হয়নি-আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে প্রকল্পের কাজ দীর্ঘায়িত হচ্ছে by ভূঁইয়া নজরুল,

নুষ্ঠানিক উদ্বোধনের দশ মাসেও চালু হয়নি ক্লাইমেট চেঞ্জ ট্রাস্ট ফান্ডের 'থ্রি আর' প্রকল্পের কার্যক্রম। গৃহস্থালির বর্জ্য সংগ্রহের মাধ্যমে জৈবসার তৈরি ও রিসাইক্লিংয়ের মাধ্যমে আবার ব্যবহারের জন্য ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরে ১৯ কোটি ৯ লাখ টাকার প্রকল্পটি গত ফেব্রুয়ারিতে পরিবেশ ও বন প্রতিমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ উদ্বোধন করেন।অনুমোদনের এক বছর পর উদ্বোধন হওয়া ওই প্রকল্পের মেয়াদ আগামী মার্চে শেষ হচ্ছে।


'গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ হ্রাসের লক্ষ্যে ঢাকা ও চট্টগ্রাম শহরে বর্জ্যের পুনর্ব্যবহার ও পুনর্চক্রায়ন পাইলট উদ্যোগ বাস্তবায়ন' (থ্রি আর) শীর্ষক প্রকল্পটি সম্পর্কে জানা যায়, ঢাকা মহানগরীর গুলশান, বারিধারা, ধানমণ্ডি, গণভবন ও মিন্টো রোডের ৫০ হাজার পরিবার এবং চট্টগ্রাম মহানগরের খুলশি আবাসিক, নাসিরাবাদ হাউজিং সোসাইটি, সুগন্ধা, হিলভিউ, ওআর নিজাম রোড, মৌসুমী আবাসিক এলাকা, পাঁচলাইশ ও জামালখান এলাকার ৩০ হাজার পরিবার থেকে প্রতিদিন রিকশা-ভ্যানের মাধ্যমে বর্জ্য সংগ্রহ করা হবে। এ জন্য প্রতিটি ঘরে লাল, হলুদ ও সবুজ রঙের বিন সরবরাহ করা হবে। রান্নাঘরের পচনশীল বর্জ্যগুলো সবুজ বিনে, প্লাস্টিক, কাচ, রাবার, কাগজ, লোহা, অ্যালুমিনিয়ামসহ অজৈব বর্জ্যগুলো হলুদ বিনে এবং বিপজ্জনক ব্যাটারি, থার্মোমিটার ও ক্লিনিক্যাল বর্জ্যগুলো লাল বিনে রাখতে হবে। রিকশা-ভ্যানের মাধ্যমে বর্জ্যগুলো সংগ্রহ করে ট্রিটমেন্ট প্লান্টে সার প্রস্তুত করা হবে।
এ প্রকল্পের অধীনে ঢাকায় দৈনিক ৭৫ টন বর্জ্য ব্যবহার করে ১৫ টন জৈবসার ও চট্টগ্রামে ৫০ টন বর্জ্য ব্যবহার করে ১০ টন জৈবসার উৎপাদিত হবে। এতে প্রতিবছর ঢাকায় ৯ হাজার ৫৮১ টন ও চট্টগ্রামে ছয় হাজার ৩৮৭ টন গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমবে। দুই বছর মেয়াদি এ প্রকল্পের মাধ্যমে বায়ুমণ্ডল গ্রিনহাউস গ্যাসমুক্ত করার পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবেও সমৃদ্ধ হবে বাংলাদেশ। কিন্তু এখনো এ প্রকল্পের কাজই শুরু হয়নি। অথচ আগামী মার্চে প্রকল্পটি শেষ হবে।
চট্টগ্রাম ও ঢাকার কোথাও মাঠপর্যায়ে এই প্রকল্পের কাজ শুরু হয়নি স্বীকার করে 'থ্রি আর' প্রকল্পের পরিচালক ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব অপরূপ চৌধুরী বলেন, 'বিশেষ কারণে প্রকল্পটি একটু আগে উদ্বোধন করায় এখনো মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। দুটি উপাদানের দরপত্র আহ্বান করা গেলেও একটি উপাদানের এখনো দরপত্র আহ্বান করা যায়নি। আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে প্রকল্পের কাজ দীর্ঘায়িত হচ্ছে।'
প্রকল্পের বাস্তব অবস্থা প্রসঙ্গে ঢাকা বিভাগীয় পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক ও উপপ্রকল্প পরিচালক সুকুমার বিশ্বাস বলেন, প্রকল্পের আওতায় একটি এনজিও সংস্থা ঢাকা ও চট্টগ্রামের প্রকল্প এলাকা সার্ভে করবে।
অন্যদিকে দেরিতে হলেও প্রকল্পের বাস্তবায়ন হবে জানিয়ে চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক ও প্রকল্পের উপপরিচালক জাফর আলম বলেন, প্রকল্পের অধীনে বিন কেনার জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। বাকি উপাদানগুলোও পর্যায়ক্রমে চালু করা হবে।
উল্লেখ্য, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় ধানমণ্ডির শেখ জামাল ক্রীড়াচক্র মাঠে ও পরদিন চট্টগ্রামের নাসিরাবাদ হাউজিং সোসাইটি জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ড অর্থায়নের প্রকল্প উদ্বোধন করেন পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস, বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সচিব মেছবাহ-উল-আলম, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মনোয়ার ইসলাম, প্রকল্পের পরিচালক অপরূপ চৌধুরী, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মনজুর-ই-ইলাহী প্রমুখ।
 

No comments

Powered by Blogger.