মাসব্যাপী কর্মসূচি-খালেদা জিয়া চার জেলায় জনসভা করবেন

নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার পক্ষে জনমত গঠনে মাঠে নামছেন সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এ জন্য মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে চলতি মাসেই তিনি জেলা সফর শুরু করছেন। এই সময় তিনি চারটি জেলায় জনসভা করবেন।


এর আগে পেশাজীবীদের সঙ্গে তাঁর মতবিনিময়ের কর্মসূচি রয়েছে।
বিএনপি নেত্রীর জেলা সফর কর্মসূচির মূল লক্ষ্য রোডমার্চ কর্মসূচির মতো দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে আমেজ ফিরিয়ে আনা। কর্মসূচি বাস্তবায়নে নেওয়া হয়েছে নানামুখী কর্মপরিকল্পনা। তিনি চলতি সেপ্টেম্বরের ২০ তারিখে দিনাজপুর ও ২৯ তারিখ রাজবাড়ী এবং আগামী ৬ অক্টোবর হবিগঞ্জ ও ৯ অক্টোবর বরিশাল জেলায় জনসভা করবেন। জেলা শহরে গণসংযোগ ও জনসভা কর্মসূচি সফল করতে গুলশানে নিজ রাজনৈতিক কার্যালয়ে দেশের বিভিন্ন জেলার নেতা ও পেশাজীবীদের সঙ্গে খালেদা জিয়া মতবিনিময় করবেন। এ ছাড়া আজ শনিবার থেকে আগামী মাসের ৯ তারিখ পর্যন্ত পেশাজীবীদের সঙ্গে ২৩টি পৃথক মতবিনিময় কর্মসূচির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শুধু বিএনপি নয়, ১৮ দলীয় জোটের সব দলের উদ্যোগেই সম্মিলিতভাবে কর্মসূচিগুলো পালন করা হবে।
রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গতকাল শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে এসব কর্মসূচির কথা জানান দপ্তরের দায়িত্বে থাকে দলের যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ধর্মবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার, গণশিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক সানাউল্লাহ মিয়া, সহদপ্তর সম্পাদক আবদুল লতিফ জনি প্রমুখ।
মতবিনিময় কর্মসূচি : গুলশানের কার্যালয়ে ৮ সেপ্টেম্বর রাত ৮টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষদ, ৯ সেপ্টেম্বর গাজীপুর জেলা বিএনপি, ১০ সেপ্টেম্বর প্রকৌশলী, ১১ সেপ্টেম্বর মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপি, ১২ সেপ্টেম্বর চিকিৎসক, ১৩ সেপ্টেম্বর টাঙ্গাইল জেলা বিএনপি, ১৫ সেপ্টেম্বর সাংবাদিক, লেখক-সাহিত্যিক, ১৬ সেপ্টেম্বর জামালপুর জেলা বিএনপি, ১৭ সেপ্টেম্বর কৃষিবিদ, ১৮ সেপ্টেম্বর ডিপ্লোমা কৃষিবিদ, ২২ সেপ্টেম্বর ডিপ্লোমা প্রকৌশলী ও মেডিক্যাল অ্যাসিসট্যান্ট, ২৩ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপি, ২৪ সেপ্টেম্বর আইনজীবী, ২৬ সেপ্টেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপি, ২৭ সেপ্টেম্বর সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপি, ১ অক্টোবর লালমনিরহাট জেলা বিএনপি, ২ অক্টোবর বগুড়া জেলা বিএনপি, ৩ অক্টোবর পাবনা জেলা বিএনপি ও ৪ অক্টোবর ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সঙ্গে মতবিনিময় করবেন খালেদা জিয়া।
সংবিধানে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বহালের দাবি পূরণে বিএনপি ঈদ পর্যন্ত সরকারকে সময় বেঁধে দিয়েছিল। গত ১১ জুন নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত সমাবেশ থেকে বিএনপি চেয়ারপারসন এ সময়সীমা বেঁধে দেন। ওই সময় ঈদের পর কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার ব্যাপারেও সরকারকে হুঁশিয়ার করে দিয়েছিলেন তিনি। ১২ মার্চ 'চলো চলো ঢাকা চলো' কর্মসূচির মাধ্যমে বিএনপি একইভাবে আলটিমেটাম দিলেও সরকার তাতে সাড়া দেয়নি। এ প্রেক্ষাপটে পরবর্তী করণীয় ঠিক করতেই ২৬ আগস্ট দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠক ও ২৭ আগস্ট ১৮ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে খালেদা জিয়া গণসংযোগ ও বিভিন্ন জেলায় জনসভা করার সিদ্ধান্ত নেন। বিরোধীদলীয় জোটের এ নরম কর্মসূচি নিয়ে সরকারি দলের একাধিক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য নেতিবাচক মন্তব্য করলেও আপাতত কঠোর কর্মসূচির কথা ভাবছে না বিএনপি। গণসংযোগ ও বিভিন্ন জেলায় জনসভার পর দলের সাংগঠনিক অবস্থা জোরদারের পরই ১৮ দলীয় জোট সরকারবিরোধী কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার কথা ভাবছে।
দুর্বার আন্দোলনের হুমকি : নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের মতো সরকারের বিরুদ্ধে দুর্বার আন্দোলনের হুমকি দিয়েছে বিএনপি। দলটির পক্ষে গতকাল দুটি পৃথক অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান ও হান্নান শাহ এ কথা জানান।
জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের উদ্যোগে সকালে আয়োজিত আলোচনা সভায় নজরুল ইসলাম খান বলেন, অনিয়মের মাধ্যমে রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংকের একটি শাখা থেকে হলমার্কসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান কয়েক হাজার কোটি টাকা সরিয়েছে। দুর্নীতিতে নিমজ্জিত এ সরকারের আমলে দেশের মানুষ আজ প্রায় নিঃস্ব। এর ওপর বিদ্যুতের দাম ৩০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। জনগণ সরকারের এই 'লুটপাটের' শাসনের অবসান চায়।
আন্দোলন জোরদার করতে মাসব্যাপী গণসংযোগ কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে নজরুল ইসলাম খান বলেন, 'কেউ কেউ বলছেন বিএনপি আন্দোলন থেকে পিছু হটেছে। এটা ঠিক নয়। বিএনপি আন্দোলনকে ভয় পায় না। জনগণকে আন্দোলনে আরো সম্পৃক্ত করতেই গণসংযোগের কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে স্বৈরাচার এরশাদের পতন ঘটানোর মতোই সামনে দুর্বার আন্দোলন আসছে।'
স্থায়ী কমিটির এই সদস্য হলমার্ক কেলেঙ্কারি নিয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সাম্প্রতিক বক্তব্যের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ওই বক্তব্যের পর অর্থমন্ত্রী দেশের মানুষের কাছে একজন 'ঘৃণিত' ব্যক্তিতে পরিণত হয়েছেন।
সংগঠনের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে সরকারি কর্মকমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক জেড এম তাহমিনা বেগম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আ ন ম ইউসুফ হায়দার, অধ্যাপক আবু আহমেদ, অধ্যাপক বোরহান উদ্দিন খান, অধ্যাপক মিজানুর রহমান, অধ্যাপক এম করিম, প্রকৌশলী আ ন হ আখতার হোসেন, চলচ্চিত্র নির্মাতা চাষী নজরুল ইসলাম, সানাউল্লাহ মিয়া প্রমুখ বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন অধ্যাপক এ জেড জাহিদ হোসেন।
এদিকে গতকাল জাতীয় প্রেসক্লাবে 'হৃদয়ে বাংলাদেশ' আয়োজিত 'সোনালী ব্যাংকে অর্থ কেলেঙ্কারি : পদ্মা সেতু দুর্নীতি এবং সরকারের ভূমিকা' শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন হান্নান শাহ। তিনি বলেন, স্বেচ্ছায় যেতে না চাইলে দুর্বার আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারের পতন ঘটানো হবে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, হলমার্ক কেলেঙ্কারির সঙ্গে অর্থ মন্ত্রণালয় জড়িত। এতো বড় একটি অর্থ কেলেঙ্কারি হয়েছে আর অর্থ মন্ত্রণালয় জানবে না, তা মানা যায় না। তিনি আরো বলেন, স্বাস্থ্য উপদেষ্টা রূপসী বাংলা হোটেলের সোনালী ব্যাংকের শাখায় বসে নিজে টাকা দেওয়ার নির্দেশ দেন। আর সোনালী ব্যাংকের গোপালগঞ্জের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এ ঋণ পাস করার পেছনে কাজ করেন।
সংগঠনের সভাপতি মেজর (অব.) হানিফের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. ওসমান ফারুক, সাবেক মন্ত্রী এয়ার মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, বিএনপির পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক কর্নেল (অব.) শাহজাহান প্রমুখ।

No comments

Powered by Blogger.