বাচ্চুসহ এজাহারভুক্ত ১৩ আসামি আত্মগোপনে!

রসিংদী পৌর মেয়র লোকমান হত্যার এক মাস পরও মামলার এজাহারভুক্ত ১৩ আসামিকে পুলিশ গ্রেফতার করতে পারেনি। পুলিশ বলছে, আসামিরা আত্মগোপনে! মামলার সন্দেহভাজন আসামি কাজী টিপ্পনকে ঘটনার ১৩ দিন পর গোপালগঞ্জের একটি গ্রাম থেকে গ্রেফতার করা হয়। আর রাজধানী থেকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতিতে পালিয়ে যান ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রীর ভাই সালাহউদ্দিন আহমেদ বাচ্চুসহ তিন জন।


প্রথম দিকে তাদের গ্রেফতার নিয়ে পুলিশ ব্যাপক হাঁকডাক করলেও তা এখন থেমে গেছে। আর এসব পলাতক আসামির গ্রেফতারের কথা জিজ্ঞেস করলে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সেই একই বক্তব্য, চেষ্টা চলছে, আসামিরা আত্মগোপন করেছে।
অপরদিকে লোকমান হত্যা মামলায় পুলিশ রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে সন্দেহভাজন তিন আসামির। তারা হচ্ছেন মাহফুজ হোসেন ওরফে তাওয়াব ওরফে সবুজ, নাসির মিয়া ও কাজী আলম। আজ রোববার সবুজ ও নাসির মিয়াকে দু'দফায় ১৪ দিনের রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করার সম্ভাবনা রয়েছে।
নরসিংদী পুলিশ সুপার খন্দকার মহিদ উদ্দিন সমকালকে বলেন, গতকাল পর্যন্ত নতুন কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। আসামিদের ধরতে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।
লোকমান হত্যা মামলায় পুলিশ মামলার এজাহারভুক্ত আসামি নরসিংদী শহর যুবলীগ সভাপতি আশরাফ হোসেন সরকারসহ ৮ জনকে গ্রেফতার করে। তাদের মধ্যে হাজী সেলিম, আশরাফ হোসেন সরকার, হাজী ফারুক ও শাহিন মিয়া হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। আর দু'দফায় রিমান্ড শেষে কাজী টিপ্পনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, টিপ্পনকে আবারও রিমান্ডে আনা হবে।
মামলার তদন্ত সূত্র জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত এমন বেশ কয়েকজন এখনও পলাতক। তাদের গ্রেফতারে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তাদের গ্রেফতার করা সম্ভব হলে মূল পরিকল্পনাকারীদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে।
এদিকে নরসিংদী প্রতিনিধি জানান, গতকাল শনিবার নরসিংদী শহরে প্রতিবাদ ও শোকসভার আয়োজন করা হয়। সমাজসেবক নজরুল ইসলাম মন্টুর সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি ছিলেন নরসিংদী সদরের সাংসদ লে. কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম হীরু বীরপ্রতীক। এ সময় বক্তব্য রাখেন মেয়র লোকমান হোসেনের ছোট ভাই ও মামলার বাদী মোঃ কামরুজ্জামান কামরুল, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাবেক সহ-সভাপতি এসএম কাইয়ুম, নরসিংদী জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শাহ আলম, জেলা আওয়ামী লীগ নেতা সাখাওয়াত হোসেন মোল্লা, পৌর কাউন্সিলর জহিরুল ইসলাম জহির, সাবেক পৌর কমিশনার পীরজাদা মোহাম্মদ আলী, ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জুবায়ের আহমেদ জুয়েল প্রমুখ। বক্তারা জনপ্রিয় মেয়র লোকমান হোসেন হত্যা মামলার আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার ও বিচার দাবি করেন।

No comments

Powered by Blogger.