৮৪টি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান কিনছে সৌদি আরব

সৌদি আরবের কাছে প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে ৮৪টি বোয়িং এফ-১৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির চুক্তি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এ ছাড়া নিজ দেশে থাকা ৭০টি সৌদি এফ-১৫ বিমান আধুনিকায়নও করবে তারা। বৃহস্পতিবার হাওয়াই থেকে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বর্তমানে অবকাশ যাপনে সেখানে অবস্থান করছেন। এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে আগামী ১০-১৫ বছরের জন্য করা ৬০ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র চুক্তির অংশ হিসেবে। গত বছর কংগ্রেসে এ


বিলটি পাস হয়। এদিকে গতকাল শুক্রবার সৌদি আরব চুক্তির সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছে, নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে তারা এসব যুদ্ধবিমান কিনছে। খবর বিবিসি, এএফপি ও রয়টার্সের।
সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের বরাত দিয়ে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এসপিএ জানায়, সৌদি আরবের জনগণকে রক্ষায় সম্ভাব্য সর্বোচ্চ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ৬০ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩০ বিলিয়ন ডলারে ৮৪টি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান কেনা হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মার্কিন-সৌদি অস্ত্র চুক্তি উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর জন্য একটি শক্তিশালী বার্তা। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের শীর্ষ কর্মকর্তা সাপিরো বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলসহ বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর জন্য এ চুক্তি একটি শক্তিশালী বার্তা। কারণ যুক্তরাষ্ট্র ওই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি বলেন, এটি সৌদি আরবকে বহিঃশক্তির হাত থেকে রক্ষা করবে।
এফ-১৫ বিমান ছাড়াও এ চুক্তির অধীনে অ্যাপাচি হেলিকপ্টার, ব্ল্যাকহক হেলিকপ্টার, ক্ষেপণাস্ত্র এবং বোমা সরবরাহের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। রিয়াদের কাছে ৬০ বিলিয়ন ডলারের সামরিকসামগ্রী বিক্রির সিদ্ধান্ত ছাড়াও ইরাকে ১১ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র সরবরাহ ও প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে তারা।
হনলুলুতে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র জোস আরনেস্ট জানান, দেশটিতে উচ্চমাত্রায় বেকারত্ব চলাকালীন বর্তমান অবস্থায় এ চুক্তিটি ৫০ হাজারেরও বেশি আমেরিকানকে সহায়তা করবে। যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরে সামরিক সহযোগী। তবে ঠিক এ মুহূর্তে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পেছনে ইরানের সাম্প্রতিক উস্কানিই একটি বড় কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।

বর্তমানে সৌদি আরবের আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী ইরানের প্রভাব মোকাবেলায় ওয়াশিংটন কাজ করছে। আর সম্প্রতি তেহরানের তেল রফতানির ওপর ওয়াশিংটন নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং ইইউ দেশটির তেল রফতানিতে নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিলে ইরানও পাল্টা হরমুজ প্রণালি বন্ধের হুমকি দেয়। কিন্তু ইরানের এই হুমকির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে হুশিয়ারি জানিয়েছে। এ ধরনের কোনো পদক্ষেপ ইরান নিলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সঙ্গে নিয়ে তা কঠোরভাবে মোকাবেলার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে তেল সরবরাহের একমাত্র পথ এই হরমুজ প্রণালি।

সৌদি আরব, উপসাগরীয় দেশ ও ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান প্রধান সহযোগী দেশ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে বর্তমানে ইরানকে প্রধান হুমকি হিসেবে বিবেচনা করছে।

No comments

Powered by Blogger.