আবিষ্কারে বিশ্ব

টাইটানিক জাহাজের ছিটেফোঁটাও থাকবে না ভাবতে অবাক লাগছে, টাইটানিক জাহাজটির ছিটেফোঁটাও থাকবে না। প্রেমিকজুটির গৌরবময় স্মৃতিকে এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া ছিন্নভিন্ন করে একেবারে নিশ্চিহ্ন করে দেবে। নতুন আবিষ্কৃৃত মরিচাখাদক ব্যাকটেরিয়াটি এর জন্য দায়ী। টাইটানিক ডোবার পর থেকেই বিবিধ ব্যাকটেরিয়া এবং ফানজি বাস করে টাইটানিকের ধ্বংসাবশেষে। কিন্তু এই প্রথমবারের মতো মরচে ধরা ধাতুখাদক ব্যাকটেরিয়ার সন্ধান পাওয়া গেছে।


ডিএনএ প্রযুক্তি ব্যবহার করে ডালহাউসিয়ার বিজ্ঞানী ড. হানরিয়েটা মান এবং ডাবলেন কেওর ও অন্টারিও সায়েন্স সেন্টার এবং স্পেনের ইউনিভার্সিটি অব সাভিলিয়ার গবেষকরা নতুন ধরনের ব্যাকটেরিয়া শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছেন। মরিচা থেকে লোহার অক্সাইড চিবানো ব্যাকটেরিয়ার উপযুক্ত বৈজ্ঞানিক নামকরণ হয়েছে হলোমনাস টাইটানিসিয়া।
পৃথিবীর ঘূর্ণন গতির পরিবর্তন
এ বছর বিজ্ঞানীরা হিসাব কষে দেখেছেন, পৃথিবীর ঘূর্ণনগতিতে পরিবর্তন এসেছে। এটা ঘটেছে ২০১০ সালে চিলিতে ভূমিকম্পের ফলে। ক্যালিফোর্নিয়ায় অবস্থিত নাসার জেট প্রপালশন ল্যাবরেটরিতে (জেপিএল) কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত গাণিতিক বিশ্লেষণে এ পরিবর্তনের সম্ভাব্য হিসাব পাওয়া গেছে। ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারিতে চিলিতে ঘটে যায় এ যাবত রেকর্ডকৃত পঞ্চম শক্তিশালী ভূমিকম্প, যা ৩ মিনিট স্থায়ী ছিল। ৮ দশমিক ৮ ম্যাগনিচিউট ভূমিকম্পে পৃথিবীর ঘূর্ণনগতিতে পরিবর্তন ঘটে। ফলে একদিনে পৃথিবীর গতি প্রায় এক সেকেন্ডে ১.২৬ মিলিসেকেন্ড কমে গেছে।
প্রাণের খোঁজে কেপলার
সৌরজগতের বাইরে পৃথিবীর মতো আর কোনো গ্রহ আছে কি-না, কেপলারের এই অভিযান সে কারণেই। উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে কেপলার মহাকাশযান দিয়ে পৃথিবীর সমআকারের গ্রহ আবিষ্কারের কাজ শুরু করা হয়। আগামী সাড়ে তিন বছরে এ গবেষণা চালাতে খরচ হবে ৫৯ কোটি ডলার। এ প্রকল্পের মাধ্যমে এক লাখ থেকে দেড় লাখ নক্ষত্রের চতুর্দিকে ঘূর্ণায়মান গ্রহের উপস্থিতি আছে কি-না তা দেখা হবে উন্নত প্রযুক্তির ক্যামেরা দিয়ে। এদিকে এবার যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম ভার্জিনিয়ায় একটি বিশাল রেডিও টেলিস্কোপ বসিয়েছেন জ্যোতির্বিদরা। এ টেলিস্কোপটি পৃথিবীর মতো সম্ভাব্য ৮৬টি গ্রহে প্রাণীর অস্তিত্ব রয়েছে কি-না তার সন্ধান করবে।
জোডি ফস্টারও এগিয়ে এসেছেন
মহাকাশ নিয়ে চিন্তাভাবনা এখন শুধু বিজ্ঞানীদের একার নয়, সাধারণের মাঝেও লক্ষ্য করা যায়। এ ব্যাপারে বিশ্বখ্যাত অভিনেত্রী জোডি ফস্টারও এগিয়ে এসেছেন এলিয়েন খোঁজার কাজটি পরিচালনা করতে। 'সার্চ ফর এক্সট্রা-টেরেস্ট্রিয়াল ইন্টেলিজেন্স' প্রতিষ্ঠানটির দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২ হাজার ৪০০ ব্যক্তি। এদের মধ্যে বিখ্যাত অভিনেত্রী জোডি ফস্টার একাই দুই লাখ ডলার পরিমাণ অর্থ দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
পৃথিবীতে বেড়ে যাচ্ছে বাতাস
পৃথিবীতে বাতাস বেড়ে যাচ্ছে। আর এ বাড়তি বাতাসের অবস্থান এখন মহাসাগরগুলোর ওপর। নতুন এক গবেষণায় এমন গুরুত্বপূর্ণ অথচ ভীত হওয়ার মতো বিষয়টিই তুলে ধরেছেন অস্ট্রেলিয়ার বিজ্ঞানীরা। পৃথিবীতে বাতাস বাড়ছে দ্রুতগতিতে। গবেষকরা নানা তথ্য-উপাত্ত, পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর দেখতে পেয়েছেন, সাগরের ওপরের সবচেয়ে উচ্চ স্তরের বাতাসের পরিমাণ বেড়েছে গত ২৩ বছরে সবচেয়ে বেশি। কিন্তু কী কারণে বেড়ে গেল বাতাসের পরিমাণ? এ প্রশ্নের সঠিক উত্তরটা কি বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তন? না, এ কথা সরাসরি বলছেন না তারা। হতে পারে এটা নিছকই প্রকৃতির খেয়াল।
পিঁপড়ার গতিবিধি থেকে ভূমিকম্পের পূর্বাভাস
প্রযুক্তিতে অগ্রগামী জাপানের মানুষকে ভূমিকম্পের ছোবল থেকে বাঁচাতে পারেনি অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি। তবে বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, পিঁপড়ার গতিবিধি লক্ষ্য করে ভূমিকম্পের পূর্বাভাস দেওয়ার মাধ্যমে বাঁচানো যেতে পারে মানুষের জীবন। এ প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে জার্মান বিজ্ঞানী উলরিশ শ্রাইবারের পর্যবেক্ষণ হচ্ছে, পিঁপড়া আগাম জানাতে পারে ভূমিকম্পের খবর। তবে সব পিঁপড়া নয়, বরং বিশেষ ধরনের লাল রঙের কাঠপিঁপড়াই পারে এ ধরনের পূর্বাভাস দিতে। ডুইসবুর্গ-এসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ববিদ শ্রাইবারের মতে, এ জাতের পিঁপড়াগুলো সাধারণত ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে বাসা বাঁধে। অর্থাৎ ভূনিম্নস্থ অঞ্চলগুলোর সংযোগস্থলের কাছাকাছি এলাকায়। তার মতে, গভীর ভূস্তর থেকে উঠে আসা গ্যাস পিঁপড়ার বাসাগুলোকে উষ্ণ রাখে। ভূনিম্নস্থ প্লেটগুলোর ফাটলের কাছে পর্যাপ্ত মাত্রায় আর্দ্রতাও পায় তারা।
গ্যালিলিওর প্রতি ভ্যাটিকানের শ্রদ্ধা নিবেদন
গ্যালিলিও তার টেলিস্কোপটি দিয়ে তৎকালীন পণ্ডিত ব্যক্তিদের বোঝাতে চেয়েছিলেন পৃথিবীসহ অন্যান্য গ্রহ সূর্যকে কেন্দ্র করে প্রদক্ষিণরত। কিন্তু তৎকালীন ধর্মযাজকরা এটিকে বাইবেলবিরোধী আখ্যা দিয়ে গ্যালিলিওকে নিগৃহীত করেন। এ ঘটনার ঠিক চারশ' বছর পর ২০১১ সালে ভ্যাটিকান থেকে এ মহান জ্যোতির্বিদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।
হকিং বললেন, এটা শুধুই কল্পকথা
এ বছরের মে মাসে বিশ্বখ্যাত গার্ডিয়ান জার্নালে বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং এক সাক্ষাৎকার দেন। এ সাক্ষাৎকারে তিনি মৃত্যু ও এম থিওরির ওপর তার ধারণা ব্যক্ত করেন। এ ছাড়া মানবজীবনের উদ্দেশ্য ও অস্তিত্বের আকস্মিকতার ওপর তার চিন্তা-ভাবনা তুলে ধরেন।
মহাজগতের সৃষ্টিকারী হিসেবে ঈশ্বরের ধারণাকে একটি মানবকল্পিত রূপক বলে বর্ণনা করায় ধর্মীয় নেতারা ক্ষুব্ধ হন। ব্রিটেনের ইহুদি ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মগুরু লর্ড স্যাকস সমালোচনা করে বলেন, স্টিফেন হকিং ভ্রান্ত যুক্তি দিচ্ছেন। হকিং বলেন, আমি ৪৮ বছর ধরে যে কোনো মুহূর্তে মারা যাওয়ার আশঙ্কা বয়ে নিয়ে চলেছি। মৃত্যু নিয়ে আমার কোনো ভয় নেই, কিন্তু আবার দ্রুত মরে যাওয়ার তাড়াও অনুভব করছি না। এমন অনেক কাজ আছে, যেগুলো মরার আগে সারতে চাই। মৃত্যুর পরে কোনো জগৎ নেই দাবি করে তিনি বলেন, মানুষ অযথাই মৃত্যুর পরের নিকষ কালো একটি জগতের কল্পকথা মনের মধ্যে স্থান দেয়। তিনি মনে করেন, মানব-মস্তিষ্ক একটি কম্পিউটারের মতো কাজ করে। এর বিভিন্ন অংশ কার্যকারিতা হারানোর একপর্যায়ে পুরোপুরি অচল হয়ে পড়ে। ওই অবস্থাকেই মৃত্যু হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। তিনি জানান, মৃত্যুর ভয় মোটেও তাকে গ্রাস করেনি।
পর্যায় সারণিতে দুটি নতুন মৌল
রাসায়নিক মৌলের পর্যায় সারণিতে যুক্ত হয়েছে নতুন দুটি মৌল। এতে পর্যায় সারণিতে সর্বমোট মৌলের সংখ্যা ১১৪-তে উন্নীত হলো। এগুলোর পারমাণবিক সংখ্যা যথাক্রমে ১১৪ ও ১১৬ এবং আপেক্ষিক ভর যথাক্রমে ২৮৯ ও ২৯২ এএমইউ। গত সপ্তাহে ওটচঅঈ মৌলদ্বয়কে পর্যায় সারণিতে স্থান দেওয়ার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়। এ ঘোষণার ফলে এই মৌলদ্বয় পর্যায় সারণির সবচেয়ে ভারী মৌলের স্থান লাভ করল। মৌলদ্বয় অত্যন্ত তেজস্ক্রিয়। এগুলোর স্থায়িত্ব এক সেকেন্ডেরও কম। উভয়েই আলফা কণা নির্গত করে অপেক্ষাকৃত হালকা মৌল কপার্নিসিয়ামে পরিবর্তিত হয়। মৌলদ্বয়ের আবিষ্কারক রাশিয়ার পারমাণবিক গবেষণা ইনস্টিটিউটের গবেষকরা। তাদের পক্ষ থেকে এগুলোর নাম যথাক্রমে ফ্লেরোভিয়াম ও মস্কোভিয়াম প্রস্তাব করা হয়েছে।
রোগ প্রতিরোধে স্মার্ট স্কিন
মানবদেহের বিভিন্ন রোগ নির্ণয়ের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদানে সক্ষম এ স্মার্ট স্কিনটি। এপিডারমাল ইলেকট্রনিক সিস্টেম (ইইএস) নামে এ যন্ত্রটিতে সংযোজন করা হয়েছে সেন্সর, রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি ক্যাপাসিটর, ওয়্যারলেস অ্যান্টেনা, এলইডি-এস ট্রান্সসিস্টর, কনডাক্টিভ কোয়িলস।
হখালেদা ইয়াসমিন ইতি

No comments

Powered by Blogger.