পিয়নের এত সম্পদ!

রেন্দ্র দেশমুখের প্রতিবেশীদের বুধবার দিনটা শুরু হয় একটু অন্যভাবে। অনেকটা স্বপ্নের ঘোরের মধ্যে। ঘুম ভেঙেই তাঁরা দেখেন, দেশমুখের বাড়ি থেকে তাঁদের আঙিনা আর ছাদে উড়ে আসছে লাখ লাখ টাকার বান্ডিল আর গয়নাপত্র। যেন বাতাসে টাকা উড়ছে। তবে এ স্বপ্ন বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। মিনিট বিশেকের মধ্যেই পুলিশ এসে জব্দ করে নিয়ে যায় সব টাকা-গয়না। আর তাদের শুনিয়ে যায় নরেন্দ্র দেশমুখের চমক লাগানো এক কাহিনী।


ভারতের মধ্যপ্রদেশের উজ্জাইন পৌরসভায় পিয়ন-কাম-স্টোরকিপার হিসেবে কাজ করেন নরেন্দ্র (৫৩)। চতুর্থ শ্রেণীর এই কর্মচারীর বেতন সাকুল্যে ১৫ হাজার রুপি। কর্মকর্তাদের চা-পান দেওয়া আর দর্শনার্থীদের সামাল দেওয়াই তাঁর কাজ। সম্প্রতি তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা বেশ কিছু অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত শুরু করে ভারতের দুর্নীতিবিরোধী পুলিশ। এই তদন্তের অংশ হিসেবে গত বুধবার তাঁর বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। পুলিশের উপস্থিতি বুঝতে পেরে তিনি ও তাঁর বাড়ির সদস্যরা তাঁদের টাকা ও গয়না পাশের বাড়িগুলোর আঙিনা আর ছাদে ছুড়তে শুরু করেন। তবে শেষ রক্ষা হয়নি তাঁর। ২০ মিনিট দরজা ধাক্কানোর পর দেশমুখের বাড়িতে ঢুকে পড়ে পুলিশ। গ্রেপ্তার করা হয় তাঁকে। উদ্ধার করা হয় নগদ অর্থ, গয়নাসহ প্রায় ১২ কোটি রুপি। নরেন্দ্রর বাড়ি থেকে আরো পাওয়া যায়, দুইটি বাড়ি, ১৮ একর জমির পোলট্রি ফার্ম, ১৩ একর কৃষিজমি, মুরগির দোকান এবং ব্যাংকে জমা প্রায় ১৩ লাখ রুপির কাগজপত্র। এ ছাড়া ২০টি ব্যাংকে হিসাব রয়েছে তাঁর। মহারাষ্ট্রের জলগাঁও জেলা এবং হরিয়ানা ও মুম্বাইয়ে রয়েছে সম্পত্তি। এ ছাড়া তাঁর বাড়ি থেকে দুইটি গাড়ি, কয়েকটি মোটরসাইকেল, ছয়টি ল্যাপটপ ও ১০টি সেলফোন উদ্ধার করা হয়। তালিকা দীর্ঘ হলেও তাঁর সম্পদের হিসাব এখানেই শেষ নয়। কেননা তাঁর বিভিন্ন ব্যাংকে যে লকার রয়েছে, তা এখনো খোলেনি পুলিশ।
নরেন্দ্র উজ্জাইন পৌরসভায় পিয়ন হিসেবে কাজ শুরু করেন আশির দশকে। তখন তাঁর বেতন ছিল মাসে দেড় শ রুপি। ইতিমধ্যেই চাকরির ৩১ বছর পার হয়েছে তাঁর।
তবে নানা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগের কারণে কখনোই পদোন্নতি পাননি তিনি। নরেন্দ্রর বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উজ্জাইন পৌরসভার কমিশনার মহেশ চন্দ্রা চৌধুরী বলেন, 'আমরা তাঁকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছি। এ নিয়ে তদন্তেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।' মনে করা হচ্ছে, নরেন্দ্রর মতো পৌরসভার অনেক কর্মকর্তাই দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত। সূত্র : ইন্ডিয়া টুডে, দ্য মেইল, দ্য হিন্দুস্তান টাইমস।

No comments

Powered by Blogger.