বিএনপিকে বাদ দিয়ে নির্বাচনের স্বপ্ন পূরণ হবে না- আলোচনাসভায় ড. মোশাররফ

নির্দলীয় সরকারের দাবিতে ১৮ দল ঘোষিত শান্তিপূর্ণ কর্মসূচীই গণঅভ্যুত্থান সৃষ্টি করতে পারবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। শুক্রবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে স্বদেশ জাগরণ পরিষদ নামে একটি সংগঠন আয়োজিত আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।


সরকারকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, যতই চেষ্টা করুন বিএনপিকে বাদ দিয়ে নির্বাচনের স্বপ্ন পূরণ হবে না।
ড. মোশাররফ বলেন, বিএনপি আরেকবার ক্ষমতায় গেলে জঙ্গী উত্থান হবে উল্লেখ করে প্রকাশিত টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবর ভিত্তিহীন ও অমূলক। আমরা উদ্দেশ্যমূলক এই খবর প্রকাশিত হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করছি। তবে বিএনপি পরবর্তী নির্বাচনে ক্ষমতায় যাবে উল্লেখ করে টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রকাশিত খবরকে স্বাগত জানাচ্ছি।
ড. মোশাররফ বলেন, নির্বাচন নিয়ে সরকার দেশকে সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। বর্তমান ব্যর্থ সরকার গৃহপালিত বিরোধী দল বানিয়ে আবার ক্ষমতায় যাওয়ার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। আমরা দেশে কোন সংঘাত ও বিশৃঙ্খলা চাই না। তাই সরকারকে বলব, এই রকম পরিস্থিতিতে কারও লাভ হবে না। সরকার সংবিধান সংশোধন করে নির্দলীয় সরকারের গঠন কাঠামো ও রূপরেখা নিয়ে আলোচনা করতে চাইলে বিএনপি তাতে রাজি আছে।
ড. মোশাররফ বলেন, আমাদের আন্দোলন কর্মসূচী নিয়ে সরকারী দল যে সমালোচনা করছে তা ঠিক নয়। আমাদের কর্মসূচীকে নরম কর্মসূচী বলে খুশি হওয়ার কিছু নেই। আমরা আন্দোলনে পিছু হটিনি। কারণ আন্দোলনের কৌশল অবলম্বন করতে এমন কর্মসূচী দেয়া হয়েছে। জনগণকে আন্দোলনে সম্পৃক্ত করতে আগামীতে ধাপে ধাপে কর্মসূচী দেয়া হবে। তবে আমরা জনগণকে সম্পৃক্ত করার জন্য এখন যে কর্মসূচী দিয়েছি, কখন তা গণঅভ্যুত্থানে পরিণত হবে, কেউ বলতে পারে না।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি ফিরিয়ে আনা হবে না বলে সরকারী দলের নেতাদের বক্তব্যের জবাবে ড. মোশাররফ বলেন, আগামী নির্বাচন নিয়ে সরকার ষড়যন্ত্র করছে। আগামী নির্বাচনের বিষয়ে আওয়ামী লীগের খোঁড়া অজুহাত আমরা মানি না। নির্দলীয় সরকারের অধীনেই আগামী নির্বাচন হতে হবে। কারণ এটা এখন গণদাবিতে পরিণত হয়েছে। তবে আমরা স্পষ্টভাষায় বলে দিতে চাই, শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী রেখে দলীয় সরকারের অধীনে কোন নির্বাচন জনগণ মেনে নেবে না। নির্দলীয় সরকারের অধীনেই নির্বাচন হতে হবে। তা না হলে আমাদের আন্দোলন ছাড়া আর কোন বিকল্প থাকবে না।
টাইমস অব ইন্ডিয়ায় প্রকাশিত প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করে ড. মোশাররফ বলেন, ওই প্রতিবেদনে বিএনপি আগামীতে ক্ষমতায় গেলে জঙ্গীবাদ উত্থানের যে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে তা সঠিক নয়। কারণ চারদলীয় জোট সরকার যখন ক্ষমতায় ছিল, তখন বাংলাভাই ও শায়খ আবদুর রহমানসহ উগ্র জঙ্গীবাদীদের গ্রেফতার করে বিচার করেছে। আগামীতে খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী হলে আবার জঙ্গীবাদ দমন করবে।
ড. মোশাররফ হোসেন বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে বিএনপি স্পষ্ট অবস্থানে থাকলেও সরকার দোদুল্যমান অবস্থায় আছে। লন্ডনে বিবিসিকে দেয়া সাক্ষাতকারে প্রধানমন্ত্রী সকল দলের অংশগ্রহণে আগামী নির্বাচনের কথা বললেও তাদের আচরণে মনে হচ্ছে, বিএনপিকে বাদ দিয়েই নির্বাচন করতে চায়।
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদের উদ্দেশে ড. মোশাররফ বলেন, দুই নেত্রীর করুণায় এ পর্যন্ত রাজনীতি করার সুযোগ পেলেও দুই নেত্রী জীবিত থাকা অবস্থায় এ দেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন কোন দিন পূরণ হবে না। শুধু তাই নয়, গৃহপালিত বিরোধী দল হওয়ার স্বপ্নও পূরণ হবে না।
আয়োজক সংগঠনের সভাপতি কামরুজ্জামান সেলিমের সভাপতিত্বে আলোচনাসভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু, দলের আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক আ ন ম এহছানুল হক মিলন, নির্বাহী কমিটির সদস্য হেলেন জেরিন খান, খালেদা ইয়াসমীন ও জিয়া নাগরিক ফোরামের সভাপতি মিয়া আনোয়ার হোসেন।
র‌্যাবকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছেÑ ফারুক ॥ সন্ত্রাস দমনের জন্য র‌্যাব প্রতিষ্ঠা করা হলেও বর্তমান সরকার এ বাহিনীকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় চীফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক। লিমনের ওপর র‌্যাবের অত্যাচারের প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, সরকার চার বছরের শাসনামালে শুধু লিমনকেই নয়, দেশের ১৬ কোটি মানুষকেই পঙ্গু করে রেখেছে। শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে র‌্যাবের গুলিতে পা হারানো লিমনের বিরুদ্ধে মামলার প্রতিবাদে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম আয়োজিত এক মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
ফারুক বলেন, দেশের বড় বড় দুর্নীতির সঙ্গে সরকারের উচ্চমহল জড়িত। হলমার্ক কেলেঙ্কারির সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জড়িত বলে অভিযোগ করে তিনি বলেন, এ সরকারের হাতে ব্যাংকও নিরাপদ নয়। তাই সরকারের সহায়তায় হলমার্ক ব্যাংকের টাকা লুট করেছে। তিনি বলেন, পদ্মা সেতু দুর্নীতির দায়ে মন্ত্রী আবুল হোসেন পদত্যাগ করেছেন। অর্থ উপদেষ্টাও পদত্যাগ করবেন। কিন্তু মন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের পদত্যাগেও সরকারের শেষ রক্ষা হবে না। আগামীতে বিএনপি ক্ষমতায় এলে সব দুর্নীতি খুঁজে বের করে জনসম্মুখে প্রকাশ করা হবে।
সরকারের উদ্দেশে ফারুক বলেন, আপনারা পুলিশ আর দলীয় সন্ত্রাসীদের দিয়ে লাশের ওপর দিয়ে আবারও ক্ষমতায় আসার ষড়যন্ত্র করছেন। কিন্তু আপনাদের সে স্বপ্ন পূরণ হবে না। কারণ চার বছরের শাসনামলে দেশের মানুষের জীবনের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করেছেন। তাই একদলীয় নির্বাচনের মাধ্যমে আবারও ক্ষমতায় আসার চিন্তা বাদ দিয়ে পদত্যাগ করে দেশের মানুষকে রক্ষা করুন।
ফারুক বলেন, এ সরকার আদালতের রায় মানেন না। সে কারণেই লিমনকে রক্ষার জন্য আদালত থেকে সরকারকে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বললেও তা কার্যকর হচ্ছে না। উল্টো লিমনের পরিবারের বিরুদ্ধে নতুন করে মামলা দিয়েছে র‌্যাব। আদালতের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনাদের রায় কার্যকর করার ব্যবস্থা গ্রহণ করুন। লিমনের মায়ের নারাজি আবেদন গ্রহণ করে অভিযুক্ত র‌্যাব সদস্যদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিন।
আয়োজক সংগঠনের সভাপতি ও বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য শ্যামা ওবায়েদের সভাপতিত্বে মানববন্ধন কর্মসূচীতে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ইসমাইল হোসেন বেঙ্গল, খালেদা ইয়াসমীন ও যুবদল নেতা রফিকুল আলম মজনু।

No comments

Powered by Blogger.