টাকা থাকলে উকিল কোর্ট সবই পাওয়া যায় ॥ সুরঞ্জিত

বিচারপতিদের ইমপিচ (অভিশংসন) করার ক্ষমতা সংসদের হাতেই অর্থাৎ জনপ্রতিনিধিদের হাতেই থাকা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন প্রবীণ পার্লামেন্টারিয়ান ও দফতরবিহীনমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। তিনি বলেন, ‘বাহাত্তরের সংবিধানকে পরিবর্তন করে বিচার বিভাগকে ইমপিচ করার ক্ষমতা দেয়া হয়েছিল। কিন্তু আমরা তো তার নজির দেখতে পাইনি।


এখন ভিআইপি আসামির জন্য ভিআইপি উকিল ও ভিআইপি কোর্ট পরিচালনা হচ্ছে। টাকা থাকলে উকিল ও কোর্ট সবই পাওয়া যায়। সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ এখনও আইনের সুফল থেকে বঞ্চিত।’
রবিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এ মন্তব্য করেন। ‘আইন ও মানবাধিকার’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ‘সাউথ এশিয়ান লইয়ার্স ফোরাম’ নামের একটি সংগঠন। এতে সভাপতিত্ব করেন এ্যাডভোকেট শেখ সালাহউদ্দিন।
প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখতে গিয়ে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত আরও বলেন, গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় দেশের বেশ কিছু ক্ষেত্রে উন্নয়ন হয়েছে। তবে কালই বাংলাদেশে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো গণতন্ত্র হয়ে যাবে এ কথা ভাবার কোন সুযোগ নেই।
দেশের চলমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিনা বিচারে মানুষ হত্যা-খুন, গুম, এনকাউন্টার করবেন আর বলবেন ‘ক্রসফায়ারে’ মারা গেছে এটি হতে পারে না। বিগত চারদলীয় জোট সরকারের আমল থেকে গুম চলে আসছে। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। সভ্য ও গণতান্ত্রিক সমাজ তৈরি করতে হলে গুম, হত্যা ও বন্দুকযুদ্ধ বন্ধ করতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ক্রসফায়ার আজকে শুরু হয়েছে, এমনটি তো নয়। তবে যত দ্রুত এ থেকে বের হয়ে আসা যায় ততই মঙ্গল।
মানবাধিকার প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, বইয়ে লেখা থাকলেই সব হয় না। পৃথিবীর দুটি দেশে সংবিধানে মানবাধিকারকে নিশ্চিত করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি আমেরিকা অপরটি হচ্ছে বাংলাদেশ। কিন্তু দারিদ্র্য, কোন্দল, অশিক্ষা, ঝগড়াঝাঁটি- যে কারণেই হোক মানবাধিকার ইউরোপীয় মানে পৌঁছতে পারেনি। এখন দুর্বল শক্তি বিচার বিভাগের সুবিধা নিতে পারছে না। এর থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
সাবেক আইনমন্ত্রী বিএনপি নেতা মওদুদ আহমদের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, সরকার দুর্নীতি প্রতিরোধে কাজ করে যাচ্ছে। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় এই ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ দুর্নীতি দমন কমিশনকে অথর্ব প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছিলেন। দু’জন বুদ্ধিজীবীকে বসিয়েছিলেন। তাঁরা কার চেয়ার বড় হবে সেই প্রতিযোগিতা নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। হলমার্ক কেলেঙ্কারি সম্পর্কে তিনি বলেন, সরকার চায় হলমার্কসহ সকল দুর্নীতির বিচার হোক। হলমার্কের কাছ থেকে ব্যাংক থেকে নেয়া অর্থ আদায় করতে হবে। একই সঙ্গে ক্রিমিনাল মামলাও করতে হবে।
সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব) এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, স্বাধীনতাপরবর্তী ৪১ বছরে সংবিধান ও সাংবিধানিক আইন নিয়ে বেশ জটিলতা তৈরি হয়েছে। এগুলো সমাধান করা না হলে ওয়ান ইলেভেনের মতো আগামীতেও আরও কঠিন পরিস্থিতি আসতে পারে। দেশের চলামান সঙ্কট সমাধানের জন্য সাংবিধানিক আদালত গঠনের পরামর্শ দেন সাবেক ওই নির্বাচন কমিশনার।
নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক ও সাবেক ডাকসু ভিপি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, আমি দলের বিরুদ্ধে কোন কথা বলি না। শুধু সরকারের খারাপ দিকগুলোর সমালোচনা করি। এটি আমার নাগরিক অধিকার। এতে দল থেকে বহিষ্কারের প্রশ্ন আসবে কেন? দেশের চলমান সঙ্কট নিরসনে বড় দুই দলই নয় সব দলের সঙ্গে আলোচনা করার প্রস্তাব দেন তিনি।
গোলটেবিল বৈঠকে আরও বক্তব্য রাখেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, সুপ্রীমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এ্যাডভোকেট আবদুল বাসেত মজুমদার, বৈঠকে আরও বক্তব্য রাখেন সুপ্রীমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি আব্দুল বাসেত মজুমদার, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম।

No comments

Powered by Blogger.