পারস্য উপসাগরে রণতরী জড়ো করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেন

পারস্য উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেনসহ ২৫টি দেশ রণতরী জড়ো করতে শুরু করেছে। তারা সামরিক মহড়ার অংশ হিসেবে এ কাজ করছে বলে জানিয়েছে। তবে ধারণা করা হচ্ছে, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ইস্যুতে ইসরায়েল যেকোনো সময় তেহরানে হামলা চালাতে পারে। উদ্ভূত সেই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে আগেভাগেই এ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।


যদি লড়াই শুরু হয়ে যায় তবে তা হবে ওই অঞ্চলের সবচেয়ে বড় লড়াই। ব্রিটেনের টেলিগ্রাফ পত্রিকা গত শনিবার এক প্রতিবেদনে এ দাবি করেছে।
টেলিগ্রাফ জানায়, পারস্য ও ওমান সাগরের মধ্যে অবস্থিত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির কাছে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ফ্রান্স, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ ২৫টি দেশ রণতরী জড়ো করতে শুরু করেছে। এর মধ্যে রয়েছে যুদ্ধজাহাজ, বিমানবাহী রণতরী, মাইন অপসারণকারী জাহাজ ও সাবমেরিন। এসব দেশের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের পাল্টা হামলা রুখতেই তারা গত শনিবার থেকে ১২ দিনের মহড়ায় অংশ নিয়েছে।
পশ্চিমা নেতাদের বিশ্বাস, তেহরানের ওপর কোনো হামলা হলে এর পাল্টা জবাবে জ্বালানি তেল পরিবহনের অন্যতম সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেবে ইরান। প্রসঙ্গত, এ পথ দিয়ে দৈনিক এক কোটি ৮০ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি হয়ে থাকে। এই পরিমাণ তেল সমুদ্রপথে তেল-বাণিজ্যের ৩৫ শতাংশ। ওই পথে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হলে তেল ও গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল ব্রিটেন, ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের ভঙ্গুর অর্থনীতির ওপর বিরূপ প্রভাব পড়বে।
বহুজাতিক এ রণতরী বহরের মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নিমিটজ গ্রুপের বিমানবাহী রণতরী। এর একটি রণতরী যেসংখ্যক বিমান ধারণ করতে সক্ষম সেই সংখ্যক বিমান ইরানের বিমান বাহিনীর নেই। দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রবাহী জাহাজ, ফ্রিগেট, দ্রুতগামী রণপোত (ডেসট্রয়ার) এবং মার্কিন মেরিন ও বিশেষ বাহিনীর সদস্যবাহী হামলাকারী জাহাজসহ (অ্যাসাল্ট শিপ) বিমানবাহী রণতরীর সহায়ক হিসেবে ১২টি যুদ্ধজাহাজ রয়েছে এ বহরে। এ ছাড়া ব্রিটিশ রণতরীর মধ্যে রয়েছে চারটি মাইন অপসারণকারী ও রয়্যাল ফ্লিট অঙ্লিারি কার্ডিগান বে নামের জাহাজ।
তবে বহুজাতিক বাহিনীর এ লড়াইয়ে প্রধান হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডসের নৌবাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজকে লক্ষ্য করে তারা পারস্য উপসাগরের বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট বসিয়েছে। প্রতিরক্ষা সূত্রে জানা গেছে, প্রযুক্তিগত দিকে দিয়ে ইরান খুব বেশি দক্ষ নয়। তারা ছোট সাবমেরিন, দ্রুত হামলা করতে পারে এমন ছোট জাহাজ, মাইন ও জাহাজ বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ব্রিটেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার জবাব দিতে পারে।
রেভল্যুশনারি গার্ডসের রিয়ার অ্যাডমিরাল আলী ফাদাভি সম্প্রতি বলেন, 'শত্রুদের যেকোনো ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করা হবে। কেউ এ কাজের সঙ্গে জড়িত থাকলে তাদের এর চড়া মূল্য দিতে হবে।'
তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী লিওন প্যানেটা ইরানকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, সামরিক মহড়ায় বাধা দিলে ইরানকে যথাযথভাবেই জবাব দেওয়া হবে।
ইরান তার পরমাণু স্থাপনা রক্ষার সক্ষমতার জানান দিতে আগামী মাসে ব্যাপক ভিত্তিতে সামরিক রণকৌশল প্রদর্শন করবে। তেল শোধনাগার ও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণসহ দেশের তিন হাজার ৬০০ স্পর্শকাতর স্থাপনার সুরক্ষায় মহড়া দেবে ইরান রেভল্যুশনারি গার্ডস ও বিমান বাহিনী। এরই মধ্যে পারস্য উপসাগরে পশ্চিমারা এ মহড়ার আয়োজন করল।
ওবামা প্রশাসনের অনেক কর্মকর্তার ধারণা, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগেই ইসরায়েল যেকোনো সময় ইরানের পরমাণু স্থাপনায় হামলা চালাতে পারে। তাদের এ কাজকে ওয়াশিংটনের পররাষ্ট্রনীতির দুর্বলতা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। সূত্র : টেলিগ্রাফ।

No comments

Powered by Blogger.