বসুন্ধরার দখল করা ৮০ একর জমির মূল্য আদায়ের সুপারিশ

বসুন্ধরা গ্রুপের দখল করা ৮০ দশমিক ২৬ একর সরকারি জমি উদ্ধারে সুপারিশ করেনি ভূমি মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি। তবে কমিটি বাজারদর অনুযায়ী এই জমির মূল্য আদায় করার জন্য সুপারিশ করেছে। গতকাল রোববার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে এ সুপারিশ করা হয়।


কমিটি সূত্র জানায়, বসুন্ধরা গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ইস্ট ওয়েস্ট প্রপার্টি বিভিন্ন সময়ে সরকারের ৮০ একরের বেশি জমি দখল করে বালু দিয়ে ভরাট করেছে। সরকারের পক্ষ থেকে এ জমি উদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হলে বসুন্ধরা গ্রুপ ৮০ একর জমির বিনিময়ে সরকারকে অন্যত্র জমি দেওয়ার প্রস্তাব করে। কিন্তু কমিটি তাদের এই প্রস্তাব নাকচ করেছে। তারা বসুন্ধরা গ্রুপের কাছ থেকে বাজারদরে জমির মূল্য আদায়ের সুপারিশ করেছে। একই সঙ্গে স্থায়ী কমিটি আগামী বৈঠকে এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন চেয়েছে মন্ত্রণালয়ের কাছে।
কমিটির সভাপতি আ ক ম মোজাম্মেল হক সাংবাদিকদের বলেন, বসুন্ধরা গ্রুপ সরকারের সঙ্গে জমি বিনিময় করতে চায়। কিন্তু আইন অনুযায়ী, সরকারের সঙ্গে জমি বিনিময়ের সুযোগ নেই। তাই কমিটি তাদের কাছ থেকে বাজারদরে দাম আদায় করার সুপারিশ করেছে।
সংসদ সচিবালয় সূত্র জানায়, ২০০২ সালে মহানগর জরিপে সরকারের দুই হাজার ৮০০ একর জমি ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি হিসেবে রেকর্ড করা হয়। কমিটি আগামী মাসের মধ্যে এসব জমি পুনরায় এক নম্বর খাস খতিয়ানে (সরকারি খাসজমি) আনার উদ্যোগ নিতে মন্ত্রণালয়ের কাছে সুপারিশ করেছে।
সূত্র জানায়, মহানগর জরিপের সময় সরকারের ৪৪টি খালের অংশবিশেষও ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি হিসেবে রেকর্ড করা হয়। এ কাজের সঙ্গে যেসব জরিপকারী জড়িত ছিলেন, তাঁরা বর্তমানে অবসরে গেছেন। সে জন্য কমিটি কারও বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেনি।
সংসদ সচিবালয় থেকে জানানো হয়, রাজউক কিসের ভিত্তিতে হোটেল পূর্বাণীকে জমি ইজারা দিয়েছে, সে বিষয়ে একটি প্রতিবেদন কমিটির আগামী বৈঠকে উপস্থাপন করতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া বৈঠকে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক বলিয়াদী এস্টেটের আনুমানিক দুই হাজার ৩০০ একর জমি উদ্ধারের সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন।
মোজাম্মেল হকের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য ভূমিমন্ত্রী রেজাউল করিম, রওশন এরশাদ ও মো. শাহাব উদ্দিন অংশ নেন।

No comments

Powered by Blogger.