উন্নয়ন কাজ বন্ধ কেন?

মহাজোট ক্ষমতায় আসার পর দেশব্যাপী নানা ধরনের উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছিল। জাতীয় জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তনের সম্ভাবনায় জনগণ ছিল আশাবাদী। সবাই আশা করেছিল, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই এসব প্রকল্পের কাজ শেষ হবে।


কিন্তু নানা কারণে প্রকল্পের কাজে অগ্রগতি নেই; অনিয়ম ও অর্থের অভাবের কারণে ইতোমধ্যে কিছু কিছু প্রকল্প মুখ থুবড়ে পড়েছে। বাংলাদেশের মতো নানা সমস্যায় জর্জরিত উন্নয়নশীল দেশে উন্নয়ন কাজ বন্ধ থাকার বিষয়টি জাতির জন্য দুর্ভাগ্যজনক। এ কারণে পূর্ব নির্ধারিত সময়ে কাক্সিক্ষত অগ্রগতি অর্জিত হবেন। দেশে উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ অব্যাহত থাকলে জনগণ নানাভাবে উপকৃত হয়। এসব কাজে অনেকেরই কর্মসংস্থান হয়; ব্যবসায়ী ও নানা ধরনের পেশাজীবীরা এসব প্রকল্পে জড়িত হতে পারে। তাই উন্নয়ন কাজ বন্ধ হওয়ায় সবারই অসুবিধা। অথচ প্রথম থেকেই সরকারের সদিচ্ছার এতটুকু অভাব ছিল না। কিন্তু এবার অনেক ক্ষেত্রেই উন্নয়নমূলক প্রকল্পের বাস্তবায়নে দাতা সংস্থাসমূহের কাছ থেকে যথাযথ সহায়তা পাওয়া যায়নি। সরকার ক্ষমতায় আসার পরই দেশের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ পদ্মা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা ঘোষণা করেছিল। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পদ্মা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়নের ওপর দেশের উন্নয়ন বহুলাংশে নির্ভরশীল। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, বহুমুখী পদ্মা সেতু প্রকল্প যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণবঙ্গের আর্থ-সামাজিক অবস্থার আমূল পরিবর্তন হবে। এর ফলে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে মাদারীপুর, গোপালগঞ্জসহ বরিশালের সঙ্গে রেল যোগাযোগ স্থাপিত হবে। এছাড়া ঢাকার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপিত হওয়ার ফলে মংলা বন্দর দেশের অন্যতম কর্মব্যস্ত বন্দর হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। কিন্তু বিশ্বব্যাংক দুর্নীতির অভিযোগে পদ্মা সেতুর অর্থায়ন বন্ধ রেখেছে। অথচ এ দুর্নীতির অভিযোগ এখনও পর্যন্ত প্রমাণিত হয়নি।
শুধু পদ্মা সেতু প্রকল্প নয়; মেট্রোরেল ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের কাজ এখনও কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ। একই সঙ্গে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু ও দ্বিতীয় এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে এখনও অনিশ্চিত। কারণ দরপত্র আহ্বান করেও কাক্সিক্ষত সাড়া পাওয়া যায়নি। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক চার লেন প্রকল্পের কাজ চলছে খুবই ধীরগতিতে। সরকারের আন্তরিকতা নিয়ে কারোই কোন সন্দেহ নেই; তবে সমস্যা কোথায়? বেশ কিছু উন্নয়ন প্রকল্প থেকে দাতা সংস্থাসমূহের সরে পড়ার কারণ কি? পদ্মা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়নে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সবাই আশাহত। প্রথমদিকে নিজস্ব অর্থায়নের কথা ঘোষণা করা হলেও পরবর্তীতে সরকার বিশ্বব্যাংককে ফিরিয়ে আনতে চেষ্টা করছে। ইতোমধ্যে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নের অনুকূলে প্রায় সব শর্ত পূরণ করা হয়েছে। তবু গোটা পরিস্থিতি এখনও অনিশ্চিত।
সরকারের হাতে এক বছরেরও বেশি সময় আছে। জাপানের সহায়তায় রাজধানী ঢাকার জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ মেট্রোরেল প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়া উচিত; তা না হলে রাজধানীর দুঃসহ যানজট কোনদিনই বন্ধ হবে না। একই সঙ্গে জনস্বার্থে দেশব্যাপী পূর্বপরিকল্পিত উন্নয়ন কাজ শুরু করা অপরিহার্য। দেশে কাজ বন্ধ থাকলে অর্থনীতি কখনই চাঙ্গা হবে না। সর্বস্তরে দুর্নীতি সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে প্রধান বাধা এ বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। দেশব্যাপী উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ আবার শুরু হবে এটাই সবার প্রত্যাশা।

No comments

Powered by Blogger.