শিক্ষকদের দলাদলিতে বুয়েটে অচলাবস্থা

ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) অচলাবস্থা বিরাজ করছে। চাকরি থেকে অবসরের বয়সসীমা ৬৫ বছর করার দাবিতে বুয়েট শিক্ষক সমিতি অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট ডাকায় এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।বুয়েট শিক্ষক সমিতির ডাকে শিক্ষকদের একাংশ মঙ্গলবার থেকে কর্মবিরতি পালন শুরু করেন। আবার বুয়েট কর্তৃপক্ষের আহ্বানে কিছু কিছু শিক্ষক ক্লাস নিচ্ছেন। তবে গত দু'দিনে অধিকাংশ বিভাগেই ক্লাস হয়নি।


ফলে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে এসে আড্ডা দিয়ে ফিরে গেছেন। কবে থেকে নিয়মিত ক্লাস শুরু হবে তা জানা নেই কারও। এ অবস্থায় হাজার হাজার ছাত্রছাত্রীর শিক্ষাজীবন এখন সংকটাপন্ন। বাধ্য হয়ে শিক্ষকদের ধর্মঘটের প্রতিবাদে গতকাল বুধবার ক্যাম্পাসে মানববন্ধন করেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
বুয়েট কর্তৃপক্ষ ও বুয়েট শিক্ষক সমিতি নেতাদের মধ্যে রেষারেষি-দলাদলির কারণে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। শিক্ষকদের চাকরি থেকে অবসরের বয়সসীমা ৬৫ বছর করার দাবিতে বুয়েট শিক্ষক সমিতি আন্দোলনে গেলেও মূলত স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে বনিবনা না হওয়ায় হার্ড লাইনে গেছেন শিক্ষক নেতারা।
বুয়েট শিক্ষক নেতারা জানান, বুয়েট সংবিধির ৪৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বুয়েটের শিক্ষকদের চাকরি থেকে অবসরের বয়সসীমা ৬০ বছর। অবশ্য বুয়েট কর্তৃপক্ষ ইচ্ছা করলে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের অনুমতিসাপেক্ষে তিন দফায় (২ বছর+ ২ বছর+ ১ বছর) চাকরির মেয়াদ পাঁচ বছর বাড়াতে পারে। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা রাজনৈতিক বিবেচনায় মেয়াদ বাড়িয়ে থাকেন। এতে শিক্ষকদের নাজেহাল হওয়ার ঘটনা ঘটে। এমন পরিস্থিতিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আদলে শিক্ষকদের চাকরির বয়সসীমা ৬৫ বছর করার দাবি জানিয়ে আসছেন শিক্ষকরা। এদিকে বুয়েট কর্তৃপক্ষ জানায়, বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটে ২০০৮ সালের ২৯
ডিসেম্বর সংবিধির ৪৩ অনুচ্ছেদ সংশোধন করে বয়সসীমা ৬৫ করার প্রস্তাব পাস হয়। একই বছরের ৩১ ডিসেম্বর প্রস্তাবটি চ্যান্সেলর সচিবালয়ে (শিক্ষা মন্ত্রণালয়) পাঠানো হয়। ২০০৯ সালের ২৩ মার্চ ওই সংশোধনী প্রস্তাব বিবেচনা করা সম্ভব নয় বলে জানিয়ে দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে এরপরও রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৬ নভেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয় এক পত্রে জানায়, 'দেশের সবক'টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের অবসরের বয়সসীমা ৬৫ বছর করার জন্য ইতিমধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মতিসহ মঞ্জুরি কমিশন কর্তৃক খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে। ওই খসড়া আইনের ওপর মতামত চেয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোয় পত্র দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে কার্যক্রম চলমান আছে। ফলে বুয়েটের জন্য বয়স পুনঃনির্ধারণ সংক্রান্ত সংশ্লিষ্ট সংবিধি ৪৩ অনুচ্ছেদ পৃথকভাবে সংশোধনের প্রয়োজন নেই।'
বুয়েটের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক হাবিবুর রহমান সমকালকে বলেন, শিক্ষকদের অবসরের বয়সসীমা বাড়ানোর ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ আন্তরিক। ক্যাম্পাস অস্থিতিশীল করতেই শিক্ষার্থীদের জীবন জিম্মি করে একটি মহল ধর্মঘট পালন করছে। উপাচার্য অধ্যাপক এসএম নজরুল ইসলাম বলেন, শিক্ষকদের এ কর্মবিরতি সম্পূর্ণ অনৈতিক।

No comments

Powered by Blogger.