যমুনাতীরে সুরের মেলা-সিটিসেল-চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ডস

মুনার জলতরঙ্গে মিশে গিয়েছিল বিচিত্র সুরের ঝংকার। এর আবেশ ছুঁয়ে গিয়েছিল গোধূলির বর্ণিল আকাশ। সব মিলিয়ে উন্মাতাল হয়েছিল বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম প্রান্তের জনপদ। প্রাণচাঞ্চল্যে জেগে উঠেছিল নদীতীরের হাজার হাজার মানুষ। সুরের মূর্ছনায় উদ্ভাসিত হয়েছিল মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ।গতকাল শুক্রবার নদীতীরের বিশাল উন্মুক্ত প্রান্তরে বসেছিল 'সিটিসেল-চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ডস'-এর সপ্তম আসর। অগ্রহায়ণের স্নিগ্ধ দিনে খোলা প্রান্তরে


এ আসর ঘিরে বসেছিল ঐতিহ্যবাহী নানা পণ্যের মেলা।মোবাইল ফোন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান সিটিসেল ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল চ্যানেল আইয়ের যৌথ উদ্যোগে সংগীতসহ ১৬টি ক্যাটাগরিতে এ পুরস্কার দেওয়া হয়। স্বাধীনতার ৪০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এবারের আয়োজন ছিল মহান মুক্তিযুদ্ধকে ঘিরে। মূল প্রতিপাদ্য ছিল 'স্বাধীনতার সুরে ৪০ বছর'। অনুষ্ঠানমালার শুরুতেই মঞ্চে ভেসে ওঠে একাত্তরের বাংলাদেশ। স্বাধীনতার প্রস্তুতি থেকে শুরু করে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নির্মমতা তুলে ধরা হয় ১৫ মিনিটের পরিবেশনায়। এরপর সমবেত কণ্ঠে শিল্পীরা গেয়ে শোনান দেশের গান। পণ্ডিত রবিশংকর ও জর্জ হ্যারিসনের 'কনসার্ট ফর বাংলাদেশ'-এর 'বাংলাদেশ বাংলাদেশ' গেয়ে শোনান আইয়ুব বাচ্চুর নেতৃত্বে জনপ্রিয় ব্যান্ডদলের সদস্যরা।
এবারের আসরে আজীবন সম্মাননা দেওয়া হয় শিল্পী সংগ্রামী আবদুল জব্বারকে। তাঁর নাম ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে হাজারো মানুষ দাঁড়িয়ে শ্রদ্ধা জানায় 'সালাম সালাম হাজার সালাম' গানের এ শিল্পীকে। প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে আবদুল জব্বার বলেন, '৫০ বছরের সংগীত জীবনে গান নিয়েই আছি এবং থাকব। ৭ মার্চে বঙ্গবন্ধুর পাশে দাঁড়িয়ে হাজারো মানুষ দেখেছিলাম, আজ আবার দেখলাম যমুনা পারে হাজার হাজার মানুষ। আমার জীবন আজ সার্থক।' তিনি এ সময় গেয়ে শোনান 'সালাম সালাম হাজার সালাম/আমার হৃদয় রেখে যেতে চাই তাদের স্মৃতির চরণে।'
শিল্পীর হাতে ক্রেস্ট ও এক লাখ টাকার সম্মাননা তুলে দেন অনুষ্ঠান আয়োজক সিটিসেলের নির্বাহী কর্মকর্তা মেহ্বুব চৌধুরী ও চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর।
এ সময় ফরিদুর রেজা সাগর বলেন, 'নদীর সঙ্গে গভীর সম্পর্ক বাংলাদেশের, মুক্তিযুদ্ধেরও ছিল নিবিড় সম্পর্ক। এ সম্পর্ককে আরো গাঢ় করার জন্য যমুনাতীরে আয়োজন করা হলো শুধুই সংগীতকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ এশিয়ার এই বৃহত্তম আসর।'
তিন ঘণ্টার অনুষ্ঠানে দেশের স্বনামধন্য শিল্পীদের পরিবেশনায় ছিল স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের গান, চর্যাপদের গান, লোকসংগীত, পপ গান, চলচ্চিত্রের গান, ব্যান্ডের গান ইত্যাদি।
এবার প্রথমবারের মতো অন্তর্ভুক্ত করা হয় বিদেশি শিল্পীদের। ভারত, ভুটান, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার সংগীতশিল্পীরা যোগ দেন অনুষ্ঠানে।
গত বছর প্রকাশিত গানের অ্যালবামের ভিত্তিতে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে বিজয়ীদের নির্বাচন করা হয়। রবীন্দ্রসংগীত, নজরুলসংগীত, লোকগীতি, আধুনিক গান, উচ্চাঙ্গসংগীত, ছায়াছবির গান, ব্যান্ডসংগীত, আন্ডারগ্রাউন্ড ব্যান্ড, গীতিকার, নবাগত গায়ক-গায়িকা, সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, কাভার ডিজাইন, মিউজিক ডিরেক্টর, মিউজিক ভিডিও ও আজীবন সম্মাননাসহ মোট ১৬টি ক্যাটাগরিতে পুরস্কার দেওয়া হয়। ১৫টি ক্যাটাগরিতে এসএমএস ভোটিংয়ের মাধ্যমে নির্বাচিতকে দেওয়া হয় 'পপুলার অ্যাওয়ার্ড'।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এ বছরের প্রতিযোগিতায় প্রায় ২০ হাজার গান গৃহীত হয়েছে বিভিন্ন সংগীতশিল্পীদের কাছ থেকে।
প্রতিযোগিতার বিচারকদের মধ্যে ছিলেন বশির আহমেদ, আবদুল জব্বার, ইমন সাহা, সুবীর নন্দী, সুধীন দাস, আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল, ফাহমিদা খাতুন প্রমুখ। অনুষ্ঠান উপস্থাপনায় ছিলেন আফজাল হোসেন ও ফারজানা ব্রাউনিয়া।

No comments

Powered by Blogger.