চিকিৎসকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রী-স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে বাণিজ্য নয়, সপ্তাহে এক দিন গ্রামে যান

কেবল ক্ষুদ্রস্বার্থে স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে যাতে বাণিজ্য না চলে, চিকিৎসকদের প্রতি সেই আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, অসামর্থ্যবান মানুষও যেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ পায় সে দিকটি খেয়াল রাখতে হবে। একই সঙ্গে সপ্তাহে এক দিন নিজ গ্রামে গিয়ে মানুষকে ফ্রি চিকিৎসা দিতে হবে। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে কার্ডিওলজি ও কার্ডিয়াক সার্জারি বিষয়ক চতুর্থ আন্তর্জাতিক সম্মেলন ও দ্বিতীয় ঢাকা লাইভের


উদ্বোধনী বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান।ল্যাবএইড আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, কায়িক পরিশ্রমে অনাগ্রহ, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন ও অসচেতনতার কারণে প্রায় প্রতিটি পরিবারে হৃদরোগী খুঁজে পাওয়া যায়। এ বিষয়ে আধুনিক ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে। চিকিৎসকদের আরো তৎপর হতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আমরা হৃদরোগ প্রতিরোধব্যবস্থাকে দেশের প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিচর্যা কৌশলে অন্তর্ভুক্ত করার পদক্ষেপ নিয়েছি।' তিনি বলেন, হৃদরোগ প্রতিরোধে জীবনব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা জরুরি। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের দায়িত্ব অনেক। স্বাস্থ্যশিক্ষা কর্মসূচি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে চিকিৎসক, বেসরকারি সংস্থা ও সেবা প্রদানকারীদেও এগিয়ে আসতে হবে।
ল্যাবএইডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. এম এ শামীমের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে আরো বক্তৃতা করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ক্যাপ্টেন (অব.) ডা. মজিবুর রহমান ফকির ও সম্মেলন উদ্যাপন কমিটির চেয়ারম্যান ডা. এম জালালউদ্দীন। অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী টেলিকনফারেন্সের মাধ্যমে ল্যাবএইড কার্ডিয়াক হাসপাতালের দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, 'স্বাস্থ্যসেবা জনগণের সাংবিধানিক অধিকারের মধ্যে অন্যতম। এ অধিকার রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। এ ক্ষেত্রে আমরা যথেষ্ট সফলতা অর্জন করেছি। মেডিক্যাল কলেজ, নার্সিং ইনস্টিটিউট এবং কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। চিকিৎসা শাস্ত্রে উচ্চশিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করেছি। গ্রামের প্রতি ছয় হাজার মানুষের জন্য একটি করে কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণের মাধ্যমে আমরা পল্লী অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করেছি। ১১ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক চালু হয়েছে, আরো সাত হাজার নির্মিত হবে।'
শেখ হাসিনা বলেন, '১৯৯৬ সালে সরকারে থাকার সময় আমরা চিকিৎসা যন্ত্রপাতি আমদানি শুল্ক-করমুক্ত করেছিলাম। এ ছাড়া দেশে বেসরকারি খাতে ভালো ভালো হাসপাতাল ও ক্লিনিক গড়ে উঠেছিল। বিশেষায়িত চিকিৎসার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছিল। এবারও আমরা স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগের জন্য বেসরকারি খাতকে উৎসাহিত করছি এবং বিভিন্ন প্রণোদনা দিচ্ছি।'
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, দেশের চিকিৎসাসেবার মান আগের চেয়ে অনেকটা উন্নত হয়েছে। তবে দরিদ্র মানুষ যাতে সঠিকভাবে এই সেবার সুযোগ পায় সেদিকে সবার খেয়াল রাখা দরকার।
অনুষ্ঠানে ল্যাবএইডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. এম এ শামিম বলেন, 'আমরা কেবল সচ্ছল মানুষেরই নয়, হতদরিদ্র মানুষের জন্য বিশেষ বরাদ্দ রেখেছি। একই সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধা ও প্রতিবন্ধী মানুষের চিকিৎসায় বিশেষ ছাড় দিচ্ছি।' ল্যাবএইডের সঙ্গে প্রায় দুই হাজার চিকিৎসক কাজ করছেন বলেও তিনি জানান।
দিনব্যাপী চতুর্থ আন্তর্জাতিক কার্ডিওলজি ও কার্ডিয়াক সার্জারি সম্মেলন এবং দ্বিতীয় ঢাকা লাইভ কনফারেন্সে দেশের দেড় হাজারের বেশি কার্ডিওলজিস্ট ও কার্ডিয়াক সার্জন উপস্থিত ছিলেন। ২০০৫ সালে ল্যাবএইড কার্ডিয়াক হাসপাতালের উদ্যোগে প্রথম আন্তর্জাতিক কার্ডিওলজি ও কার্ডিয়াক সার্জারি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর যথাক্রমে ২০০৭ ও ২০০৯ সালে নিয়মিত এই দ্বিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের ২৭ জন খ্যাতনামা বিশেষজ্ঞ কার্ডিওলজিস্ট ও কার্ডিয়াক সার্জন উপস্থিত ছিলেন। কনফারেন্সে ছয়টি সেশনে করোনারি আর্টারি ডিজিজ, রিভাসকুলারাইজেশন স্ট্র্যাটেজিস, ভালভিউলার হার্ট ডিজিজ অ্যান্ড অ্যারিদমিয়া, কমপ্লেঙ্ পারকিউটেনিয়াস করোনারি ইন্টারভেনশন, ম্যানেজমেন্ট অব হার্ট ফেইলিউর অ্যান্ড অ্যানজাইনা এবং লেফট মেইন সামিট অ্যান্ড নিউ ফ্রন্টিয়ার্স ইন পিসিআই বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

No comments

Powered by Blogger.