ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পাঁচটি স্কুলে বর্ষায় ক্লাসই করা যায় না by বিশ্বজিৎ পাল বাবু,

নাসিরনগর উপজেলা সদর থেকে প্রায় আট মাইল দূরে রামপুর বেসরকারি রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়। শুকনো মৌসুমে হেঁটে আর বর্ষায় যেতে হয় নৌকায়। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নূর মোহাম্মদ এখন সদর থেকে হেঁটে প্রতিদিন বিদ্যালয়ে যান বলে দাবি করেন।নূর মোহাম্মদ জানালেন, হেঁটে যেতে দেড়-দুই ঘণ্টা সময় লাগে। বর্ষায় নৌকায় যেতে লাগে ঘণ্টাখানেক। এ অবস্থায় বিদ্যালয়ে গিয়ে পাঠদানে সমস্যা হয়। তিনি বলেন, 'সব কিছু সয়ে গেছে।'


তাঁর এ কথার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করলেন আরেক শিক্ষক। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই শিক্ষক বলেন, 'প্রধান শিক্ষক নূর মোহাম্মদ নিয়মিত স্কুলে যান না। শিক্ষা অফিসে নিয়মিতই ওনার দেখা মেলে। অবশ্য ওনারই বা দোষ কোথায়! প্রতিদিন ১৫-১৬ কিলোমিটার হেঁটে আসা-যাওয়া করা তাঁর মতো বয়সে সম্ভব নয়।'
রামপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো ব্রাহ্মণবাড়িয়ার হাওর অঞ্চল বাঞ্ছারামপুর ও নাসিরনগরের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এমন অনেক শিক্ষকই আছেন যাঁরা কর্মস্থল দূরে হওয়ায় নিয়মিত স্কুলে যান না। ফলে ব্যাহত হয় পাঠদান।
হাওরাঞ্চলের স্কুলগুলোতে রয়েছে আরো কিছু সমস্যা। অন্তত এমন পাঁচটি স্কুলের সন্ধান পাওয়া গেছে যেখানে বর্ষায় ক্লাস করা সম্ভব হয় না। পানিতে থই থই করে বিদ্যালয় এলাকাসহ চারপাশ। সব মিলিয়ে বেহাল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার হাওরের প্রাথমিক শিক্ষা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাঞ্ছারামপুরের হাওর এলাকার মিরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সাতদিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তাতুয়াকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হোসেনপুর মধ্য বেসরকারি রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়, হোসেনপুর উত্তর বেসরকারি রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বর্ষায় ক্লাস করা সম্ভব হয় না। এসব বিদ্যালয়ের মাঠ নিচু হওয়ায় সহজেই পানিতে তলিয়ে যায়।
হোসেনপুর উত্তর বেসরকারি রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. আবদুল লতিফ কালের কণ্ঠকে বলেন, 'বর্ষায় পানি উঠে যায় বলে ওই সময় আমাদের স্কুলে ক্লাস করা সম্ভব হয় না। সামান্য কিছু মাটি ভরাট করলেই এ অবস্থা থেকে উত্তরণ সম্ভব। আমি বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।'
এ ব্যাপারে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. কবির হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, 'বর্ষায় কিছু স্কুলে পানি উঠে। তবে এতে খুব একটা সমস্যা হয় না। যে স্কুলের মাঠে মাটি ফেলা প্রয়োজন সেসব স্কুলের বিষয়ে উপজেলা চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলেছি।'
নাসিরনগর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি আবদুল হামিদ খানের মতে, উপজেলার সবকটি হাওরের স্কুলেই নানা সমস্যা বিরাজ করছে। বিশেষ করে বেসরকারি রেজিস্টার্ড প্রাথমিক স্কুলগুলোয় শিক্ষক সমস্যা প্রকট। তিনি বলেন, 'আমার মনে হয়, শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া না গেলে এ সমস্যা থেকে উত্তোরণ সম্ভব নয়।'

No comments

Powered by Blogger.