ঈদের পর নেপাল যাচ্ছে শেখ জামাল

গামী ৮ থেকে ১৮ নভেম্বর নেপালের পর্যটন নগরী পোখরায় শুরু হচ্ছে সাফল গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট। নেপালের একটি বিখ্যাত দুগ্ধজাত কোম্পানি হচ্ছে সাফল। এ টুর্নামেন্টে অংশ নিচ্ছে গত পেশাদার লীগের চ্যাম্পিয়ন দল শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব। গতকালই (শনিবার) টুর্নামেন্টের ফিকশ্চার চূড়ান্ত হওয়ার কথা। শেখ জামাল ক্লাব ১০ নভেম্বর নেপালের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বে। তাদের প্রথম ম্যাচ ১৪ নভেম্বর। এ টুর্নামেন্টে মোট ১২টি দল অংশ নিচ্ছে। নেপাল পেশাদার লীগের ৮টি ক্লাব, বাংলাদেশ, ভারত ও ভুটানের ১টি করে দল ছাড়াও স্বাগতিক পোখরা একাদশ এ গোল্ডকাপ ফুটবলে অংশ নিচ্ছে।


দলগুলো হচ্ছে—নেপাল পুলিশ, নেপাল আর্মি, এলএইচএমএসসি, স্যামসাং জে ওয়াইসি, ইয়েতি হিমালয়, এনআরটি, থ্রি স্টার ক্লাব, আরসিটি, শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব, দক্ষিণাঞ্চল সমিতি, ট্রান্সপোর্ট ইউনাইটেড এবং পোখরা একাদশ। সাফ ফুটবলের ক্যাম্পে থাকায় নেপাল জাতীয় দলের কোনো ফুটবলারকে এ টুর্নামেন্টে খেলার অনুমতি দেয়নি আনফা (অল নেপাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন)। সাফল পোখরা গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের বাজেট সাড়ে চার লাখ নেপালি রুপি। চ্যাম্পিয়ন দল পাবে আড়াই লাখ রুপি। রানার আপ দল পাবে ১ লাখ ২৫ হাজার রুপি। টুর্নামেন্টের সেরা ফুটবলারকে মোটরসাইকেল দেয়া হবে। টুর্নামেন্টকে সামনে রেখে আয়োজক কমিটির সভাপতি সুদর্শন রণজিত্ বলেন, ‘আমরা এরই মধ্যে স্টেডিয়াম সংস্কার কাজ শেষ করে ফেলেছি। অংশ নেয়া সবক’টি দলই চূড়ান্ত সম্মতি দিয়েছে। নেপাল আর্মি আর স্যামসাং জে ওয়াইসি ক্লাবের মধ্যকার ম্যাচ দিয়ে টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করা হবে।
গত পেশাদার লীগ শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব চ্যাম্পিয়ন হয় রহমতগঞ্জের সঙ্গে প্রমাণিত পাতানো ম্যাচ খেলে। তবুও বাফুফের শীর্ষ বার্তাদের আশীর্বাদে শেখ জামালের শাস্তি হয়নি। তাই নেপালের টুর্নামেন্টে শিরোপা জয় করে শেখ জামাল তাদের কলঙ্ক কিছুটা হলেও ঘোচাতে পারে। এরই মধ্যে শেখ জামাল এ টুর্নামেন্টে খেলতে যাওয়ার আগে জাতীয় দলের সঙ্গে এক প্রস্তুতি ম্যাচে ১-১ গোলে ড্র করেছে। দলবদলে এ মৌসুমে কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব। কোচ সাইফুল বারী টিটোর অধীনে প্রায় দেড় মাস ধরে টানা অনুশীলন করছে দলটি। প্রস্তুতি ম্যাচে শেখ জামাল সাফ গেমসের জন্য প্রস্তুতিরত বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ে ভালো খেলে। সাফল গোল্ডকাপ খেলতে যাওয়ার আগে নিজ দলের লক্ষ্য সম্পর্কে কোচ টিটো বলেন, ‘প্রতিপক্ষ দলগুলো সম্পর্কে আমি তেমন কিছুই জানি না। আমার দলের প্রস্তুতি ভালো। তবে পোখরায় সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে অনেক উঁচুতে খেলা হওয়ায় কিছুটা সমস্যা হবে। তবু আমি নেপালে ভালো খেলার ব্যাপারে আশাবাদী। শিরোপা জয়ের লক্ষ্য নিয়েই আমরা নেপাল যাচ্ছি। নেপালের ক্লাবগুলোতে জাতীয় দলের ফুটবলাররা না খেললেও প্রতিটি ক্লাবেই বিদেশি ফুটবলার খেলছেন। সেখানে থাকা আমার এক বন্ধুর কাছ থেকে এসব তথ্য জেনেছি। ঈদের জন্য তিন দিন অনুশীলন বন্ধ থাকবে।’ এ টুর্নামেন্টে খেলতে ৭ বিদেশি ফুটবলার শেখ জামালের সঙ্গে নেপাল যাচ্ছেন।

No comments

Powered by Blogger.