নিউজিল্যান্ডের ঘাম ঝরিয়ে হারল জিম্বাবুয়ে

য়ানডে ও টোয়েন্টি টোয়েন্টির ভিড়ে টেস্টের জৌলুস নাকি কমে গেছে। কে বলে তা? কাল বুলাওয়েতে জিম্বাবুয়ে-নিউজিল্যান্ড ম্যাচের শেষ দিন দেখলে নিশ্চয়ই তাঁরা মত পাল্টাতে বাধ্য হবেন। আভিজাত্যের সব অহং নিয়ে, টানটান উত্তেজনার পূর্ণ রোমাঞ্চ নিয়ে টেস্ট ক্রিকেটের রূপ-রস-সৌরভ মেলে ধরেছিল বুলাওয়েতে। তাতে ক্রিকেটীয় ফলে ৩৪ রানে জয়ী নিউজিল্যান্ড। কিন্তু সত্যিকারের বিজয় তো ওই টেস্ট ক্রিকেটের।ক্রিকেট বিশ্বের নানা প্রান্তে এখন দারুণ আকর্ষণীয় সব সিরিজ। ওদিকে অস্ট্রেলিয়া-দক্ষিণ আফ্রিকার দ্বৈরথ, এদিকে পাকিস্তান-শ্রীলঙ্কার মহারণ।


কম চিত্তাকর্ষক নয় ভারত-ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজও। এসবের ভিড়ে জিম্বাবুয়ে-নিউজিল্যান্ড একমাত্র টেস্টটি একটু চাপা পড়েই ছিল। কাল তা উদ্ভাসিত হলো ক্রিকেটীয় কারণে। অবিস্মরণীয় শেষ দিনে ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত জিতে নিল ৩৪ রানে।
জিম্বাবুয়ের সামনে চতুর্থ ইনিংসে জয়ের জন্য ৩৬৬ রানের লক্ষ্য ছুড়ে দিয়েছিল নিউজিল্যান্ড। ২ উইকেটে ৬১ রান নিয়ে শেষ করে চতুর্থ দিন। অর্থাৎ শেষ দিনে ৮ উইকেট হাতে নিয়ে ৩০৫ রানের প্রয়োজনীয়তার সামনে দাঁড়ায় স্বাগতিকরা। লক্ষ্যটা যে প্রায় অসম্ভব, সেটি বুঝতে বিশেষজ্ঞ হওয়ার প্রয়োজন নেই। কিন্তু সেটিকে তো প্রায় সম্ভব করেই ফেলেছিল জিম্বাবুয়ে। তৃতীয় উইকেটে মায়োয়ো-টেলরের ৯৬ রানে বিপর্যয় সামলায়, চতুর্থ উইকেটে টাটেন্ডা টাইবুকে সঙ্গী করে সমর্থকদের চোখে স্বপ্নের আবির এঁকে দেন টেলর। ১০৮ রানের এ জুটির সময় জিম্বাবুয়েকেই মনে হচ্ছিল সম্ভাব্য বিজয়ী। কারণ ৭ উইকেট হাতে নিয়ে জয়ের ১০১ রানের মধ্যে চলে এসেছিল তারা।
এর পরই আবার ম্যাচের রং বদল। ১৪৭ বলে ১১৭ রান করা টেলরকে ফিরিয়ে কিউইদের ম্যাচে ফেরান ক্রিস মার্টিন। আরেক সেট ব্যাটসম্যান টাইবুকে (৬৩) আউট করেন ড্যানিয়েল ভেট্টোরি। রান-বল-উইকেটের সমীকরণে প্রতি মুহূর্তে উত্তেজনার রেণু ছড়ায় বুলাওয়ে টেস্ট। এর সঙ্গে শেষ পর্যন্ত আর পাল্লা দিতে পারেনি স্বাগতিকরা। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে ৩৩১ রানেই থেমে যায় তারা। ৬৬ রানে শেষ ৭ উইকেট হারিয়ে মুঠোয় এসে যাওয়া ম্যাচটি ফসকে বেরিয়ে যায় জিম্বাবুয়ের। ৮৫ রানে ৫ উইকেট নিয়ে কিউইদের জয়ের নায়ক মিডিয়াম পেসার ডগ ব্রেসওয়েল। ক্রিকইনফো
নিউজিল্যান্ড : ৪২৬ ও ২৫২/৮ (ডিক্লে.)। জিম্বাবুয়ে : ৩১৩ ও ৩৩১ (টেলর ১১৭, টাইবু ৬৩; ব্রেসওয়েল ৫/৮৫, ভেট্টোরি ৩/৭১)। ফল : নিউজিল্যান্ড ৩৪ রানে জয়ী।

No comments

Powered by Blogger.