না-ফেরার দেশে 'যাযাবর' ভূপেন

নিজেকে তিনি যাযাবরই ভাবতেন। এ পরিচয় তিনি দিতেন আগ বাড়িয়েই। সংগীতের জগতে তাঁর পরিচয় ব্রহ্মপুত্রের কবি, চারণ কবি। গানের মাঝে জানের জাদু বুনতেন তিনি। আর সেই জাদুর মায়ার শক্তি, প্রগাঢ় প্রেম প্রজন্মের পর প্রজন্ম উদ্বুদ্ধ করে চলেছে লাখো মানুষকে। সেই যাযাবর গানের পাখি, উপমহাদেশের প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী ভূপেন হাজারিকা আর নেই। চিরতরে থেমে গেছে তাঁর দরাজ কণ্ঠ। গতকাল শনিবার বিকেলে মুম্বাইয়ের আন্ধেরির কোকিলাবেন ধিরুভাই আম্বানি হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর।


হাসপাতালের জনসংযোগ বিভাগের প্রধান জয়ন্ত নারায়ণ সাহা জানান, দুটি কিডনিই বিকল হয়ে যাওয়ায় চার দিন ধরে ডায়ালাইসিস চলছিল। এরপর তাঁর দেহের বিভিন্ন অঙ্গ সাড়া দিতে ব্যর্থ হয়। গতকাল বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে (বাংলাদেশ সময় বিকেল ৫টা) তিনি মারা যান।
শ্বাসকষ্ট নিয়ে গত ৩০ জুন ধিরুভাই আম্বানি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন কিংবদন্তি শিল্পী ভূপেন। সে সময় তাঁকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়। এর পর থেকে তিনি চিকিৎসাধীনই ছিলেন। গত মঙ্গলবার পরীক্ষা করে দেখা যায়, তাঁর দুটি কিডনিই অকেজো হয়ে গেছে।
ভূপেন হাজারিকা ১৯২৬ সালের ৮ সেপ্টেম্বর ভারতের আসামে এক শিক্ষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। প্রাথমিক পড়াশোনা করেন গুয়াহাটিতে। ১৯৯৪ সালে বানারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি বিএ পাস করেন। পরের বছর ওই বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই রাষ্ট্রবিজ্ঞানে মাস্টার্স করেন। এরপর তিনি যুক্তরাষ্ট্রে যান। সেখানে কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে গণযোগাযোগ বিষয়ে পিএইচডি করেন।
ভূপেন হাজারিকা শুধু কবি বা গায়ক ছিলেন না। তিনি ছিলেন একাধারে গীতিকার, সুরকারও। লেখালেখি দিয়ে তিনি জাতির মননকে সমৃদ্ধ করেছেন। সাংবাদিকতাও করেছেন বহুদিন। তিনি চলচ্চিত্র নির্মাণ করে নাম কামিয়েছেলিন। সেই সঙ্গে অভিনেতা হিসেবেও কারো চেয়ে কম ছিলেন না।
গান লিখে সুর দেওয়ার কাজটি ভূপেন শুরু করেন মাত্র ১০ বছর বয়সেই। বাংলা ও হিন্দি_দুই ভাষায়ই আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা পায় তাঁর গান। তাঁর দরাজ গলায় গাওয়া 'আমি এক যাযাবর', 'মানুষ মানুষের জন্যে', 'প্রতিধ্বনি শুনি', 'সাগর সঙ্গমে' গানগুলো বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়েও স্থান করে নেয়। তবে কয়েক বছর আগে হিন্দুত্ববাদী রাজনৈতিক দল বিজেপিতে যোগ দিয়ে ভক্তদের মাঝে বিতর্কিত হন তিনি। ভারতীয় চলচ্চিত্রে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি ১৯৯২ সালে দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার পান। সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস, টাইমস অব ইন্ডিয়া অনলাইন।
প্রধানমন্ত্রীর শোক : ভূপেন হাজারিকার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল এক শোকবার্তায় তিনি সংগীতজগতে তাঁর অবদানের কথা স্মরণ করে বলেন, তাঁর মৃত্যুতে বিশ্ব সংগীত ও সংস্কৃতি অঙ্গন এক অনন্য প্রতিভাকে হারাল।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান।

No comments

Powered by Blogger.