নরসিংদীর মেয়র হত্যা : পুলিশ প্রত্যাহার তাহলে কিসের আলামত : ফারুক

রসিংদীর পৌর মেয়র হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জেলার তিন পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার ও বদলির সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক। গতকাল সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মহিলা দলের এক মানববন্ধন কর্মসূচিতে তিনি বলেন, নরসিংদীর পৌর মেয়র হত্যাকাণ্ড ও পরবর্তী ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনার সময় জেলার শীর্ষ যে পুলিশ কর্মকর্তারা দায়িত্বে ছিলেন, তাদের প্রত্যাহার করে নিয়েছে সরকার। তারাই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও সাক্ষী। যারা ঘটনা জানতেন, দেখেছেন, তাদের প্রত্যাহার তাহলে কীসের আলামত?


নরসিংদীর পৌর মেয়র আওয়ামী লীগ নেতা লোকমান হোসেন হত্যাকাণ্ডের রাতেই পুলিশ ঢাকা থেকে গ্রেফতার করে নরসিংদী জেলা বিএনপি সভাপতি ও কেন্দ্রীয় শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক খায়রুল কবীর খোকনকে। তবে হত্যাকাণ্ডের ৪৮ ঘণ্টা পর বৃহস্পতিবার রাতে লোকমানের ছোট ভাই মো. কামরুজ্জামান একটি মামলা করেন। এতে ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজুর ভাই সালাউদ্দিন আহমেদ বাচ্চুসহ ১৪ জনকে আসামি করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মী। পরদিন শুক্রবার জেলার পুলিশ সুপার আক্কাস উদ্দিন ভূঁইয়াকে প্রত্যাহার এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এসবি) এনামুল কবীর ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিজয় বসাককে বদলির আদেশ দেয়া হয়।
খায়রুল কবীর খোকনের মুক্তির দাবিতে জাতীয়তাবাদী মহিলা দল আয়োজিত এই মানববন্ধন কর্মসূচিতে জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, খোকনকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে। লোকমান হত্যার সঙ্গে কারা জড়িত—তা তার পরিবারের সদস্যরা বলে দিয়েছেন। এ নিয়ে মামলাও হয়েছে। কিন্তু ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে সরকার খোকনকে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার করেছে।
খোকনকে জামিন দেয়া হয়নি জানিয়ে ফারুক অভিযোগ করে বলেন, সরকার বিচার বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ করছে বলেই জামিন হয়নি। একদিকে আওয়ামী লীগের ওবায়দুল কাদের সাহেবরা বলছেন অপরাধীর বিচার হবে। অথচ মামলার পরও অপরাধীরা গ্রেফতার হয়নি। ক্ষমতাসীন দলের নেতারা এভাবে জনগণের সঙ্গে তামাশা করছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সেনা মোতায়েন নিয়ে খালেদা জিয়াকে জড়িয়ে বক্তব্য দেয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনারও সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এরকম বক্তব্য দুঃখজনক। এর মাধ্যমে তিনি দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক আমাদের সেনাবাহিনীর ভাবমর্যাদা ক্ষুণ্নম্ন করেছেন।
বৃহস্পতিবার জেলহত্যা দিবসের আলোচনা সভায় শেখ হাসিনা বলেছিলেন, তিনি (খালেদা জিয়া) আশা করেছিলেন সেনাবাহিনী এসে ভোট চুরি করে তাদের জিতিয়ে দেবে। সেনাবাহিনীর দায়িত্ব কি ভোট চুরি করা?
মানববন্ধনে আরও বক্তৃতা করেন বিএনপি সহ-সভাপতি সেলিমা রহমান, যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী, মহিলা দলের সভাপতি নূরে আরা সাফা, সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা, কেন্দ্রীয় নেতা বিলকিস ইসলাম, মহানগর সভাপতি সুলতানা আহমেদ প্রমুখ।

No comments

Powered by Blogger.