হত্যার পর ৩২ টুকরো করে ছড়িয়ে দেওয়া হয় মেঘনায়

স্বার্থে আঘাত হানলে মানুষ নাকি পিশাচের চেয়েও ভয়ংকর হয়ে ওঠে। সে কথা অক্ষরে অক্ষরে সত্য প্রমাণ করেছে ভৈরবের নরঘাতক তাহের। নৌ-ডাকাতি অব্যাহত রাখার জন্য দলের সাবেক নেতা ফরিদকে গত ২৬ আগস্ট ধরে নিয়ে পৈশাচিক কায়দায় হত্যার পর মৃতদেহটি ৩২ টুকরো করে মেঘনা নদীতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে দিয়েছে সেসহ দলের আরো পাঁচ ঘাতক।


গত শনিবার সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে তাহের নিজের মুখে প্রকাশ করেছে ফরিদ হত্যাকাণ্ডের কারণ ও কাহিনী। ফরিদের স্ত্রীর দায়ের করা হত্যা মামলায় গত শুক্রবার তাহেরকে কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার শ্রীনগরের ভবানীপুর এলাকায় মেঘনা নদীতে ভাসমান একটি নৌকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত ২৬ আগস্ট বিকেলে উপজেলার শ্রীনগরের ভবানীপুরে নিজ বাড়ি থেকে তাহেরসহ কয়েকজন ফরিদকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ হন। গত ৮ সেপ্টেম্বর ফরিদের স্ত্রী সাফিয়া বেগম বাদী হয়ে থানায় হত্যা ও লাশ গুমের একটি মামলা করেন।
ভৈরব থানার ওসি মো. শাহজাহান কবীর জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের কাছে ফরিদকে হত্যার পর লাশ টুকরো টুকরো করে খলাপাড়ার মেঘনা নদীতে ফেলে দেওয়ার কথা স্বীকার করেছে তাহের। পরে ১৯ নভেম্বর বিকেলে কিশোরগঞ্জের বিচারিক হাকিম আয়েজ উদ্দিনের কাছে ১৬৪ ধারায় স্বেচ্ছায় দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে একই কথা অকপটে স্বীকার করে তাহের। ওই দিন সন্ধ্যায় তাকে কিশোরগঞ্জ জেলহাজতে পাঠানো হয়। তাহেরের বিরুদ্ধে ভৈরব থানায় দুটি হত্যা, একটি অস্ত্র, একটি ডাকাতি ও দুটি মারামারির মামলা রয়েছে। পরে সাংবাদিকদের কাছে একই তথ্য জানায় সে।
তাহের জানায়, ওই হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয় সেসহ ছিদ্দিক (৪৩), মস্তু (৪৫), আক্তার (৪৬), হুমায়ুন (৪৫) ও লতু (৪৬) নামের আরো পাঁচ পেশাদার ঘাতক। তারা সবাই একই এলাকার বাসিন্দা। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ফরিদকে বাড়ি থেকে ডেকে মস্তুর বাড়ির একটি নির্জন ঘরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ছিদ্দিক বল্লম দিয়ে তাঁর পেটে প্রথম আঘাত করে। সঙ্গে সঙ্গে ফিনকি দিয়ে রক্ত বের হতে থাকে। পরে তাহের একটি ধারালো ছুরি দিয়ে তাঁকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। ওই সময় ফরিদের মাথায় লাঠি দিয়ে আঘাত করে মস্তু। সঙ্গে সঙ্গে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন ফরিদ। অর্ধমৃত ফরিদকে একটি ধানের বস্তায় ঢুকিয়ে উপজেলার খলাপাড়ায় মেঘনা নদীতে রাখা একটি নৌকায় ওঠানো হয়। বস্তা থেকে নৌকায় নামানোর পর ফরিদের আবার জ্ঞান ফিরে। নিচু স্বরে ফরিদ তাদের আকুতি করে বলেন 'আমাকে তোমরা প্রাণে মেরো না। আমি এলাকা ছেড়ে চলে যাব। তোমাদের কথা কাউকে বলব না।' কিন্তু সে আকুতি কানে নেয়নি ঘাতকরা। বরং ফরিদের ফরিয়াদ শুনে মস্তু তাঁর বুকে উঠে দুই হাত চেপে ধরে আর আক্তার তাঁর মাথা টান টান করে ধরে। এ অবস্থায় ফরিদকে জবাই করে দেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়। এতেও তাদের বর্বরতা থামেনি। এরপর একটি চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে মৃতদেহটি ৩২ টুকরো করা হয়। দেহের খণ্ডগুলো পরে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ফেলে দেওয়া হয় মেঘনা নদীতে। সন্ধ্যায় ইফতারের আগ-মুহূর্ত থেকে শুরু করে রাত ৯টা পর্যন্ত চলে তাদের ওই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের প্রক্রিয়া।

No comments

Powered by Blogger.