বরূপে বুকোলা, মোহামেডানও



মাঠে চেপে ধরেছিল রহমতগঞ্জ। মাঠের বাইরে মোহামেডানের ওপর চাপ ছিল আরও। কয়েক দিন আগে বেতনের দাবিতে বিদেশিরা দুই ম্যাচ খেলেননি। একই দাবিতে আগের দিন অনুশীলন বর্জন করা মোহামেডানের স্থানীয় খেলোয়াড়েরা কাল দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত ম্যাচে না নামার সিদ্ধান্তে অটল থাকেন। টাকা পেয়ে তবেই তাঁরা মাঠে এসেছেন।
মাঠে এই মোহামেডানকে শুরুতেই অস্বস্তির কাঁটা বেঁধাল রহমতগঞ্জ। ২৬ মিনিটে পলের ক্রসে ফাঁকায় দাঁড়ানো মামুন হেড করে মোহামেডানের জালে বল পাঠান। অঘটনেরই শঙ্কা তখন সাদা-কালো শিবিরে। গত লিগের প্রথম পর্বে এই রহমতগঞ্জই মোহামেডানকে হারিয়ে দিয়েছিল ১-০ গোলে। শেষ পর্যন্ত সাদা-কালোরা শিরোপা জিততে পারেনি। এবারও সেই অঘটন ঘটলে মোহামেডানের তৃতীয় পেশাদার লিগ শিরোপাও শেষ হয়ে যেতে পারত কালই।
হয়নি বুকোলার নৌপুণ্যে। বুকোলা ওলালেকান ছন্দে থাকলে মোহামেডানকে জয় নিয়ে ভাবতে হয় না। পিছিয়ে পড়া দলকে রহমতগঞ্জের বিপক্ষে ৩-১ গোলে জিতিয়েই সেটি বোঝালেন নাইজেরিয়ান স্ট্রাইকার।
তিন গোলের দুটিই করেছেন বুকোলা। শেষ মিনিটে বাকি গোলটি করে জয়ে অবদান রাখলেন জাহিদ হাসান (এমিলি)।
শেষ গোলের আগ পর্যন্ত পয়েন্ট হারানোর শঙ্কাটা ভালোই পেয়ে বসেছিল সাদা-কালোদের। রহমতগঞ্জ পারল না সুযোগের অপচয় আর চাপের মুখে ভেঙে পড়ায়। পরীক্ষার মুখে পড়ে মোহামেডান উতরে গেল অভিজ্ঞতা আর দলীয় শক্তির প্রয়োগ ঘটিয়ে।
৩২ মিনিটে মামুনের ফ্রি-কিকে বুকোলার হেডে সমতা আসে ম্যাচে। এরপর আবার গোল খেয়ে যাচ্ছিল মোহামেডান। কিন্তু মোহামেডানের গোলরক্ষক আমিনুলকে একা পেয়েও পল বাইরে মেরেছেন সবাইকে অবাক করে।
৬৯ মিনিটে অঘটনের শঙ্কা খানিকটা দূর করে মোহামেডানকে এগিয়ে দিলেন বুকোলা। ওয়ালির ক্রসে সাইডবার ঘেঁষে তাঁর কোনাকুনি হেডে বুকোলার লক্ষ্যভেদ। পেশাদার লিগে রহমতগঞ্জের বিপক্ষে এটি মোহামেডানের ছয় ম্যাচে পঞ্চম জয়। একমাত্র পরাজয় বাদ দিয়ে আগের চার জয় ৭-১, ১-০, ৩-১, ১-০ গোলে।
প্রথম পর্বে গোল-খরায় ভুগতে থাকা বুকোলা গত ম্যাচে দুই গোল করেছিলেন। তাঁর আগে ফেনীতে হ্যাটট্রিক ছিল তাঁর। মনোযোগ দিয়ে খেললে তিনি যে বিপজ্জনক স্ট্রাইকার, সেটি আবার প্রমাণ করলেন কাল। গত লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতার এবার এখন পর্যন্ত গোল হয়েছে ১২টি। এক গোল বেশি নিয়ে জাহিদ হাসানসহ তাঁর ওপরে আছেন চার জন।
দলকে গুরুত্বপূর্ণ জয় এনে দিয়ে খুশি বুকোলা। ম্যাচের পর বললেন, ‘বেতন পাইনি। তবে আমি যেহেতু পেশাদার খেলোয়াড়, তাই মাঠে নামলে ওসব আর মনে রাখি না।’
এই জয়ে ১৮ ম্যাচে মোহামেডানের পয়েন্ট ৪৮। সমান ম্যাচে আবাহনীর ৫২।
আজকের খেলা : শেখ রাসেল-ফরাশগঞ্জ (৪টা, বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম), চট্ট. মোহামেডান-ব্রাদার্স (৩.৩০ মি., চট্টগ্রাম স্টেডিয়াম), বিয়ানীবাজার- শুকতারা (৩.৩০ মি., সিলেট স্টেডিয়াম), সকার ক্লাব-মুক্তিযোদ্ধা (৩.৩০ মি., ফেনী স্টেডিয়াম)।

No comments

Powered by Blogger.