বাংলাদেশ থেকে সরকারিভাবে কর্মী নেবে মালয়েশিয়া

নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে বাংলাদেশ থেকে আবার জনশক্তি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মালয়েশিয়া। এ ছাড়া দেশটি জনশক্তি নিয়োগে বাংলাদেশকে উৎস দেশ (সোর্স কান্ট্রি) ঘোষণা করতেও রাজি হয়েছে। তবে জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রে প্রতারণা বন্ধে সরকারিভাবে লোক নেওয়া হবে।


বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার প্রতিনিধিদলের মধ্যে গতকাল বুধবার বিকেলে অনুষ্ঠিত যৌথ বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ঢাকার ইস্কাটনে প্রবাসীকল্যাণ ভবনে এ বৈঠকে মালয়েশিয়ার পক্ষে নেতৃত্ব দেন সে দেশের মানবসম্পদমন্ত্রী এস সুব্রানিয়াম। বাংলাদেশের পক্ষে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন। প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানসচিব জাফর আহমেদ খান এবং জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) মহাপরিচালক শামসুন নাহারও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি জনশক্তি রপ্তানি বন্ধ আছে। দীর্ঘ এই সময়ে কয়েক দফা আলাপ-আলোচনার পর শেষ পর্যন্ত এবার মালয়েশিয়া শ্রমবাজার চালু করতে রাজি হয়।
প্রবাসীকল্যাণসচিব জাফর আহমেদ খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘অত্যন্ত আন্তরিক পরিবেশে বৈঠক হয়েছে। মালয়েশিয়া সে দেশে বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানির নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে রাজি হয়েছে। তবে অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয় এবং দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণে উভয় দেশের সরকারি পর্যায়েই লোক পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশকে জনশক্তি আমদানির সোর্স কান্ট্রি করার ব্যাপারেও আশ্বাস দিয়েছেন তাঁরা।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী দেশে ফিরে তাঁদের মন্ত্রিসভায় এ ব্যাপরে চূড়ান্ত প্রস্তাব তুলবেন। এর পরই মালয়েশিয়া লোক নেওয়ার ঘোষণা দেবে। তবে পুরো প্রক্রিয়া শেষ করে আনুষ্ঠানিকভাবে লোক পাঠানো শুরু করতে আরও দুই থেকে তিন মাস লেগে যাবে। প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী আজ বিকেলে সংবাদ সম্মেলন করে বৈঠকের বিষয়ে জানাবেন।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ: মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী গতকাল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবনে সাক্ষাৎ করেছেন।
বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) জানায়, দুই দেশের সরকারের মধ্যে চুক্তির মাধ্যমে শ্রমিক নিয়োগে মালয়েশিয়ার সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া মালয়েশিয়ায় অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের শিক্ষা শেষে সে দেশে কাজ করার সুযোগ করে দেওয়ার জন্যও মালয়েশীয় মন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি। মালয়েশিয়া বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি করে তৈরি পোশাক, ওষুধ, পাট, চামড়াজাত পণ্য এবং কৃষি পণ্য নেবে বলেও প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন।
প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন, অ্যাম্বাসেডর অ্যাট লার্জ এম জিয়াউদ্দিন, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব শেখ ওয়াহিদ-উজ-জামান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব মোল্লা ওয়াহিদুজ্জামান ও প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

No comments

Powered by Blogger.