বাজার পরিস্থিতি

অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে রমজান ও ঈদে নিত্যপ্রয়োজনীয় কিছু পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধির সুযোগ কাজে লাগিয়ে ব্যবসায়ীদের একটি অংশ অতিরিক্ত মুনাফা লোটার চেষ্টা করে। রমজানের মহান শিক্ষা সংযমী হওয়ার পরিবর্তে জনদুর্ভোগ সৃষ্টির এই অপচেষ্টা দীর্ঘকালের। তাদের এই অহিতকর তৎপরতায় পিষ্ট হয় সাধারণ মানুষ।


দুর্ভোগ সৃষ্টিকারীদের উস্কে দেওয়ার জন্য প্রশাসনের ব্যর্থতা ও দুর্নীতি সহায়ক ভূমিকা পালন করে। প্রতিবছর রোজা শুরু হওয়ার আগে থেকে এ বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রত্যয় ঘোষণা করে সরকার। ব্যবসায়ীদের সংগঠন থেকেও সরকারের সঙ্গে সুর মেলাতে দেখা যায় মাঝেমধ্যে। বিভিন্ন সময় বাজার পরিদর্শনকারী টিম গঠন করে বাজার তদারকির দায়িত্ব নিতেও দেখা যায় তাদের। কিন্তু খুব কম সময়ই সরকারের এই ঘোষণা ও ব্যবসায়ীদের সংগঠনের তৎপরতা কার্যকর হয়। এবার কিছুটা হলেও ব্যতিক্রম লক্ষ করা গেছে। যে কারণে রোজা শুরু হওয়ার আগের ক্রমবর্ধমান মূল্যবৃদ্ধি কিছুটা সহনীয় পর্যায়ে টেনে ধরতে সক্ষম হয়েছে। রোজায় বেশি ব্যবহৃত ভোজ্য তেল, চিনি, ডাল ও খেজুরের দাম এবার রমজানে এসে অস্বাভাবিক বাড়েনি। কিন্তু তার পরও স্বস্তিবোধ করার কোনো কারণ নেই। ব্যবসায়ীদের একটি অংশ উঠেপড়ে লেগেছে অধিক প্রয়োজনীয় কিছু দ্রব্যের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাজার থেকে অতিরিক্ত মুনাফা অর্জনের জন্য। তারই আভাস পাওয়া গেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে দেওয়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবেদনে। তাতে এ ধরনের ৪০ ব্যবসায়ীর অপতৎপরতা সম্পর্কে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ব্যবসায়ীরা ঈদ সামনে রেখে ভোজ্য তেল, ডাল ও চিনির বাজার অস্থিতিশীল করতে চাইছে। গতকাল বৃহস্পতিবারের কালের কণ্ঠে এ-সংক্রান্ত একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মিলগুলো ভোজ্য তেল পরিশোধন ক্ষমতার অর্ধেক ব্যবহার করে কিংবা সরবরাহ কমিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করছে। আবার ডিও ব্যবসায়ীরাও নানা অবৈধ তৎপরতার মাধ্যমে এই সংকট সৃষ্টিতে সহযোগিতা করছে। প্রতিবেদনে কারসাজির সঙ্গে জড়িতদের নামও উল্লেখ করা হয়েছে। সুতরাং তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সরকারের কোনো অসুবিধা থাকার কথা নয়। অন্যদিকে রোজার আগে আমদানিকারকদের এলসি খোলার ক্ষেত্রে ঢিলেমির কথাও আমরা জেনেছিলাম। চাহিদার কথা জানার পরও তারা এলসি খুলছিল না। সরবরাহ চেইনে আঘাত করাই ছিল সেসব ব্যবসায়ীর মূল উদ্দেশ্য। একই প্রসঙ্গ প্রযোজ্য চিনির ক্ষেত্রেও। ঈদের আগে ও রমজানে চিনির প্রয়োজন হয় বেশি। সংগত কারণে ঈদের আগে পর্যাপ্ত চিনির মজুদ গড়ে তোলার কথা। সরকারের বক্তব্য প্রয়োজনীয় মজুদ আছেও। সেই তথ্য অনুযায়ী চিনি সংকটের কোনো আশঙ্কা না থাকলেও প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সরবরাহে ঘাটতি তৈরি করতে চেষ্টা চালাচ্ছে চিনি ব্যবসায়ীদের একটি অংশও। একই সঙ্গে উৎপাদন কমিয়ে দেওয়ারও পরিকল্পনা করেছে মিল মালিকদের কয়েকজন। স্বাভাবিক সময়ে দৈনিক তিন হাজার ৮০০ টন চিনির চাহিদা থাকে বাংলাদেশে। কিন্তু রমজান মাসে তা বেড়ে দাঁড়ায় পাঁচ হাজার ৭০০ টনে। এই সময়ের বাড়তি চাহিদা পূরণের জন্য আগে থেকেই প্রস্তুত থাকার কথা। একই রকম কথা প্রযোজ্য ডালের ক্ষেত্রেও। ডালের সরবরাহেও ঘাটতি সৃষ্টির প্রচেষ্টা চলছে। ঈদ সামনে রেখে বাজার পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা যাতে সফল না হয় সে জন্য সরকারকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

No comments

Powered by Blogger.