এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে অগ্নিসংযোগ- দুটি তদন্তই ঝুলে যাওয়ার শঙ্কা

সিলেট এমসি কলেজের ছাত্রাবাস পোড়ানোর এক মাসেও তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে পারছে না জেলা প্রশাসন ও কলেজ কর্তৃপক্ষের তদন্ত কমিটি। দুই দফা সময় বাড়িয়েও প্রতিবেদন জমা দিতে না পারার কারণ ‘গুরুত্ব’ দিয়ে তদন্ত করছেন বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।


দুটি তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন না পাওয়ায় পুলিশও অগ্নিসংযোগকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারছে না। এ অবস্থায় দুটি তদন্তই ঝুলে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। গত ৮ জুলাই এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে ছাত্রশিবির-ছাত্রলীগের সংঘর্ষের পর ছাত্রাবাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। ছাত্রাবাস থেকে শিবিরের নেতা-কর্মীদের বিতাড়িত করতেই ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা ছাত্রাবাসে আগুন দিয়েছে—এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসনের পক্ষে সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মো. শহীদুল আলমের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি এবং কলেজ কর্তৃপক্ষের পক্ষে কলেজের শিক্ষক তৌফিক ইয়াজদানীকে প্রধান করে আরও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। দুটি তদন্ত কমিটিকে ১৫ দিনের মধ্যে ঘটনার তদন্ত করে অগ্নিসংযোগকারীদের চিহ্নিত করার নির্দেশনা ছিল। তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটি ছাত্রাবাসে অগ্নিসংযোগকারী হিসেবে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী ২৬ জনের নাম উল্লেখ করে প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। এতে ঘটনার মদদদাতা হিসেবেও সিলেট নগরের টিলাগড় এলাকার বাসিন্দা আওয়ামী লীগের দুই নেতার নাম উল্লেখ করা হয়। গত ২২ জুলাই প্রতিবেদন দাখিলের দিন আরও ১০ দিন সময় বাড়িয়ে অধিকতর তদন্ত শুরু করে।
একইভাবে গত ২৭ জুলাই কলেজ কর্তৃপক্ষের তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন দাখিলের জন্য তিন দিন সময় বাড়ায়। এ হিসাবে দুটো তদন্ত কমিটি যথাক্রমে ১ ও ৩০ জুলাই প্রতিবেদন দাখিল করার সময় পার করেছে। শিক্ষার্থীদের আশঙ্কা, ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের নাম তদন্তে আসায় ধীরগতির কৌশল অবলম্বন করে দুটি তদন্ত কমিটির কার্যক্রম স্থবির করে শেষ পর্যন্ত ঝুলে পড়ার অবস্থা সৃষ্টি করতে একটি চক্র তৎপরতা শুরু করেছে। তবে এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে রাজি নন দুটো তদন্ত কমিটির সদস্যরা। যোগাযোগ করলে জেলা প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান মো. শহীদুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, তদন্তে প্রশাসনিক অবহেলার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এসব ঘটনা এড়াতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভুলগুলো চিহ্নিত করে কীভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব—তারও নির্দেশনা থাকবে।
একইভাবে কলেজ কর্তৃপক্ষের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান তৌফিক ইয়াজদানী বলেন, তদন্ত চলছে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো কিছুই বলা যাবে না। তদন্তে ধীরগতির কারণে পুলিশ অগ্নিসংযোগকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারছে না। এ নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে পুলিশের একটি দল ঘটনার তদন্ত করছে। কিন্তু জেলা প্রশাসন ও কলেজ কর্তৃপক্ষের তদন্তের ধীরগতির কারণে পুলিশের তদন্তও অগ্রসর হচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে। এ ব্যাপারে সিলেট মহানগর পুলিশের কমিশনার অমূল্য ভূষণ বড়ুয়া প্রথম আলোকে বলেন, গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত চলছে। তদন্তকাজ শেষ হওয়ার আগে এ সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করতে চাই না।

No comments

Powered by Blogger.