প্রথম অবাধ নির্বাচনে স্বতঃস্ফূর্ত ভোট দিল লিবীয়রা

গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় উত্তরণের লক্ষ্যে গতকাল শনিবার নির্বাচন হয়েছে লিবিয়ায়। অন্তর্বর্তী সরকারের স্থলে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে শাসনক্ষমতা হস্তান্তরের লক্ষ্যে এ নির্বাচন হয়। ১৯৬৪ সালের পর এটাই সেখানে প্রথম সাধারণ নির্বাচন। নির্বাচনের ব্যাপারে ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ছিল।


যদিও বেশ কয়েকটি এলাকায় ভোট বাধাগ্রস্ত হয়েছে। গাদ্দাফিবিরোধীদের সাবেক ঘাঁটি বেনগাজিতে ব্যালট পোড়ানোর ঘটনা ঘটেছে।
গতকাল সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ভোট হয়। জাতীয় পরিষদের ২০০ সদস্য নির্বাচনের জন্য ভোট দেন লিবীয়রা। প্রধানমন্ত্রী মনোনয়ন, মন্ত্রিসভা গঠন এবং সংবিধান প্রণয়নই এই পরিষদের মূল কাজ হবে। ধারণা করা হচ্ছে, সংবিধান প্রণয়নের পর আগামী এক বছরের মধ্যে দেশটির পার্লামেন্ট নির্বাচন হবে। জাতীয় পরিষদ নির্বাচনের ফল ঘোষণার পরপরই অন্তর্বর্তী সরকার বিলুপ্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী জাতীয় পরিষদের প্রধান মুস্তাফা আবদুল জলিল।
প্রায় তিন হাজার ৭০০ প্রার্থী গতকালের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর মধ্যে আড়াই হাজার প্রার্থীই দাঁড়িয়েছেন স্বতন্ত্রভাবে। জাতীয় পরিষদের ১২০টি আসন স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বাকি ৮০টি রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে। নিবন্ধিত ২৮ লাখ ভোটার এর মধ্য থেকে পছন্দের প্রার্থীকে বেছে নিবেন। নির্বাচনের ফল পেতে আগামীকাল সোমবার পর্যন্ত লেগে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। লিবিয়ায় নিকট অতীতে কোনো নির্বাচন না হওয়ায়, ভোটের গতিপ্রকৃতি সম্পর্কে ধারণা করা যাচ্ছে না। তবে আরব বসন্তের পর তিউনিসিয়া ও মিসরে ইসলামপন্থীদের বিজয়ের কারণে লিবিয়ায়ও তাদের অবস্থান ভালো থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে। গতকাল লিবীয়দের একটি বড় অংশই জীবনে প্রথমবারের মতো ভোট দেয়।
রাজধানী ত্রিপোলিতে ভোট দিতে আসা ফৌজিয়া ওমরান বলেন, 'এ আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না। এটা একটা ঐতিহাসিক দিন। আমি ভোট দিয়েছি। আমি আশা করব সঠিক প্রার্থীকেই আমি ভোট দিয়েছি এবং তিনি আমাদের বিভ্রান্ত করবেন না।' গাদ্দাফিবিরোধী আন্দোলন শুরুর শহর বেনগাজিতেও ভোটাররা লাইন ধরে দাঁড়িয়ে ভোটে অংশ নেন। হেইদা আবদুল শেখ নামের এক ভোটার বলেন, 'একজন লিবীয় নারী হিসেবে আমি আরো ভালো জীবন আশা করি। নিজের জীবন অপচয় হয়ে গেছে বলে মনে হয় আমার। তবে স্থানীয় নেতাদের কাছে আমার প্রত্যাশা থাকবে_তাঁরা এমন পরিবেশ তৈরি করবেন যাতে আমার সন্তানরা আরো ভালো জীবন পায় এবং আকাঙ্ক্ষা পূরণের সুযোগ পাবে।' ভোটাররা কালো, লাল ও সবুজ পতাকা উড়িয়ে ভোটের আনন্দ উদ্যাপন করেন।
নির্বাচনের আগে থেকেই বেনগাজিভিত্তিক পূর্বাঞ্চল ও মরুভূমিময় দক্ষিণাঞ্চলে ভোট নিয়ে অনিশ্চয়তা ছিল। রাজধানী ত্রিপোলির শাসনের পরিবর্তে পূর্বাঞ্চলের স্বায়ত্তশাসন দাবি করছে বেনগাজিভিত্তিক সাবেক কয়েকটি বিদ্রোহী গোষ্ঠী। নির্বাচনের ওপর এর প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা ছিল। জাতীয় পরিষদে পশ্চিমাঞ্চলের জন্য ১০২টি এবং পূর্বাঞ্চলের জন্য ৬০টি আসন সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। এ নিয়েও বিরোধ দেখা দেয়। গত শুক্রবার বেনগাজিতে কয়েক শ বিক্ষোভকারী ভোট বর্জনের ঘোষণা দেয়। ব্যালট পেপার বহনকারী একটি হেলিকপ্টারে গুলি চালানো হয় এবং এক নির্বাচনী কর্মকর্তা এ ঘটনায় আহত হন। গতকাল বেনগাজি, পূর্বাঞ্চলীয় শহর আজদাবিয়া, দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর জালো ও ওজলার কয়েকটি পোলিং স্টেশনে হামলার কারণে ভোটগ্রহণ বন্ধ করে দেওয়া হয়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ১০১টি কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ বন্ধ ছিল। এক হাজার ৫৫৪টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে এক হাজার ৪৫৩টি কেন্দ্রে ভোট অব্যাহত ছিল বলে জানায় নির্বাচন কমিশন। সূত্র : এএফপি, আলজাজিরা।

No comments

Powered by Blogger.