সহযোগী সংগঠনের যোগ্য নেতার খোঁজে হাসিনা by পাভেল হায়দার চৌধুরী

ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের বর্তমান নেতা এবং সাবেক ছাত্রনেতাদের জীবনবৃত্তান্ত ও রাজনৈতিক ক্যারিয়ার খতিয়ে দেখছেন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সহযোগী সংগঠনের আসন্ন সম্মেলনে সংগঠনগুলোর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব কাদের হাতে দেওয়া যায় সে লক্ষ্যে তিনি নেতাদের বিষয়ে


খোঁজখবর নিচ্ছেন বলে নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।
সূত্র মতে, সম্ভাব্য নেতাদের সম্পর্কে সরকারি বিভিন্ন এজেন্সি তথ্য সংগ্রহ করেছে। এ ছাড়া শেখ হাসিনা নিজেও এ বিষয়ে আস্থাভাজন দলীয় কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলেছেন।
আগামী ১১ জুলাই স্বেচ্ছাসেবক লীগের, ১৪ জুলাই যুবলীগের, ১৭ জুলাই জাতীয় শ্রমিক লীগের এবং ১৯ জুলাই কৃষক লীগের কাউন্সিলের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। জানা গেছে, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষক লীগ ও জাতীয় শ্রমিক লীগের সম্মেলনকে কেন্দ্র করে নেতৃত্ব পেতে যাঁরা মাঠে কাজ করছেন, তাঁদের বাইরেও এক ডজন নেতার বিষয়ে খোঁজ নিয়ে রাখছেন শেখ হাসিনা। সহযোগী সংগঠনের নেতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে শেখ হাসিনা সংগঠনগুলোর রাজনীতিতে কার কী ভূমিকা ছিল, কার রাজনৈতিক ত্যাগ কতখানি, কে সুসংগঠক, মেধাবী, বিচক্ষণ, সেসব বিবেচনা করছেন গুরুত্বের সঙ্গে।
এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী কালের কণ্ঠকে জানান, আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের কাউন্সিল হবে সংগঠনের নিজ নিজ গঠনতন্ত্র অনুযায়ী। তিনি বলেন, সহযোগী সংগঠনের নেতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ রাজনৈতিক ত্যাগী, সুসংগঠক, মেধাবী, বিচক্ষণ নেতৃত্ব আসুক, তা চান শেখ হাসিনা।
স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাদের মধ্যে যাঁদের বিষয়ে শেখ হাসিনা খোঁজখবর নিচ্ছেন, তাঁদের মধ্যে আছেন বর্তমান সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ দেবনাথ, সহসভাপতি অধ্যাপক আব্দুল হান্নান, নির্মল রঞ্জন গুহ ও সৈয়দ নুরুল ইসলাম। যুবলীগের নেতাদের মধ্যে বর্তমান সাধারণ সম্পাদক মির্জা আজম, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. মীজানুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক মঞ্জুরুল আলম শাহিন, অ্যাডভোকেট মামুন অর রশীদের বিষয়ে আওয়ামী লীগপ্রধান খোঁজ নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। এ ছাড়া ছাত্রলীগের সাবেক নেতা মাইনুদ্দিন হাসান চৌধুরী, ইকবালুর রহিম, বাহাদুর বেপারী, অজয়কর খোকন, নজরুল ইসলাম বাবুসহ বেশ ককেয়জন নেতার জীবনবৃত্তান্ত দেখছেন প্রধানমন্ত্রী। নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, মাঠে তৎপরতা রয়েছে এমন এক সাবেক ছাত্রলীগ নেতার নাম আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় এক নেতা শেখ হাসিনার কাছে প্রস্তাব করলে তিনি বলেন, 'ওই সাবেক ছাত্রনেতা যেন ছাত্রলীগ নিয়েই ব্যস্ত থাকেন।'
জানা গেছে, রাজনৈতিক ত্যাগ-তিতিক্ষা আছে এবং 'ক্রাইসিস পিরিয়ড' মোকাবিলায় অগ্রণী ভূমিকা রাখতে পারেন এমন নেতাদেরই সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ পদে দেখতে চান আওয়ামী লীগের সভাপতি। তবে সংগঠনগুলোর অভ্যন্তরে যাঁরা আছেন, তাঁদের মধ্য থেকেই পরবর্তী নেতৃত্বে আসতে পারেন বলে একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।
সূত্র মতে, ছাত্রলীগের যেসব সাবেক নেতা সহযোগী বিভিন্ন সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটিতে পদ পেতে আগ্রহী, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক সভাপতি লিয়াকত শিকদার, সাবেক সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম বাবু এমপি, সাবেক সহসভাপতি বলরাম পোদ্দার, শাহজাদা মহিউদ্দিন, রফিকুল ইসলাম কোতোয়াল, আবদুল আলিম, ঢাকা কলেজ শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান, দেলোয়ার হোসেন, সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মাহমুদ হাসান রিপন, সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন, সাবেক ছাত্রনেতা এমদাদ হাওলাদার, নিরঞ্জন ভৌমিক নীরু, আবু আব্বাস ভুঁইয়া, আবদুল্লাহ আল মামুন, রাসেদুল মাহমুদ রাসেল, হাসানুজ্জামান লিটন, ইলিয়াসুজ্জামান, আশরাফুর রহমান ও খায়রুল হাসান জুয়েল।

No comments

Powered by Blogger.