মুক্তারের ছয়ে জয়-আবাহনীকে ৩ উইকেটে হারাল ভিক্টোরিয়া

মুক্তারের ব্যাট থেকে আসা বলটি লং অফ দিয়ে সীমানার বাইরে যাওয়া মাত্র সাত নম্বর বক্সে দুই সঙ্গীর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লেন লুৎফর রহমান বাদল। পুরো ভিক্টোরিয়া শিবির মাঠে প্রবেশ করে মুক্তার আলীকে কাঁধে তুলে নিয়ে বন্য আনন্দে মেতে উঠল। অন্যদিকে মিনিট পাঁচেক আগেও জয়ের হাতছানিতে বিভোর আবাহনী শিবিরে পাথরের নীরবতা। সত্যিই অনেক দিন পর ঘরোয়া ক্রিকেটে দারুণ একটি ম্যাচ হলো।


শেষ ওভারে জয়ের জন্য ভিক্টোরিয়ার প্রয়োজন ছিল ১৫ রান, হাতে তিন উইকেট। আবুল হোসেন রাজুর প্রথম দুই বলে দুটি চার মেরে নাটকীয়ভাবে খেলার মোড় ঘুরিয়ে দেন মুক্তার। তৃতীয় বলে দুই রান এলেও পরের দুই বলে দুটি সিঙ্গেলস আসায় শেষ বলে ভিক্টোরিয়ার জয়ের জন্য প্রয়োজন পড়ে ৩ রানের। আর মুক্তার আলী ছয় মেরে আবাহনীর প্রায় মুঠোয় চলে যাওয়া জয় ছিনিয়ে নিয়ে আসেন। তাই ব্যর্থ হয়ে যায় আবাহনীর অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহর অপরাজিত সেঞ্চুরি। তবে কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে লাখো সমর্থকের প্রত্যাশা মাথায় নিয়ে বোলিংয়ের অভিজ্ঞতা থাকা রজত ভাটিয়াকে বাদ দিয়ে ৪৮ এবং ৫০ নম্বর ওভারে আবুল হোসেন রাজুর মতো অনভিজ্ঞ পেসারের হাতে বল তুলে দেওয়ায় ব্যাটিংয়ে সফল হলেও অধিনায়কত্বে পাস হতে পারেননি মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ।
তবে এমন কঠিন অবস্থায় চলে যাওয়ার পরও নাকি তরুণ মুক্তার জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী ছিলেন, 'আমি উইকেটে গিয়েই রুবেল ভাইকে বলি, আপনি কোনো চিন্তা করবেন না। ম্যাচ আমি ঠিকই বের করে নেব। শেষ ওভারের প্রথম দুই বলে দুটি চার মারার পর আমি আরও নিশ্চিত হয়ে যাই।' শেষ বলে তাদের তিন রান প্রয়োজন থাকলেও মুক্তারের নাকি পরিকল্পনা ছিল ছয় মারার, 'আমি আগেই ঠিক করে নিয়েছিলাম, বলকে সীমানার বাইরে পাঠাব। যদি স্লোয়ার বা ওভারপিচ দেয় তাহলে টেনে লং অফের ওপর দিয়ে এবং শর্ট বল দিলে থার্ডম্যানের ওপর দিয়ে মারার পরিকল্পনা নিয়েছিলাম।' তবে এমন নাটকীয়তায় চলে যাওয়া ম্যাচটি কিন্তু ভিক্টোরিয়ার পকেটে ছিল। দলীয় ১২ রানে ওপেনার আহমেদ শেহজাদ আউট হওয়ার পর দ্বিতীয় উইকেটে তামিম ইকবাল এবং শোয়েব মালিকের ১৬৮ রানের জুটিতে একেবারে সহজ জয়ের দিকে যাচ্ছিল তারা। আবাহনীর ইংলিশ পেসার পিটার ট্রেগোর স্লোয়ার তুলে মারতে গিয়ে ৮৬ রান করা তামিম ক্যাচ দিয়ে এলে শুরু হয় নাটকীয়তা। পরের বলেই ভিক্টোরিয়ার সবচেয়ে ধারাবাহিক জহুরুল ইসলাম অমি মিড অনে ক্যাচ দিলে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগিয়েছিলেন ট্রেগো। পাকিস্তানের কামরান সাজিদ হ্যাটট্রিক ঠেকালেও পরের ওভারেই স্পিনার ফরহাদ হোসেনকে উইকেট দিয়ে আসেন। দলের রান দুইশ' হওয়ার আগে দুর্দান্ত খেলতে থাকা শোয়েব মালিক (৮৫) আম্পায়ার শরফুদ্দৌলা ইবনে সৈকতের বিতর্কিত সিদ্ধান্তে রান আউটের ফাঁদে পড়লে ভীষণ চাপে পড়ে যায় ভিক্টোরিয়া। আর জয় থেকে ৫১ রান দূরে থাকা অবস্থায় অধিনায়ক সাকিব মিডিয়াম পেসার ফরহাদ রেজাকে পুল করতে গিয়ে বল আকাশে তুলে দিলে ম্যাচ আবাহনীর নিয়ন্ত্রণে চলে গিয়েছিল। আচমকা জেগে ওঠে আকাশি-নীল সমর্থকরা। জয়ের সুবাসে উন্মত্ত সমর্থকদের গলা ফাটানো চিৎকারে আবাহনীকে ম্যাচে ফেরানো পিটার ট্রেগো প্রায় নৃত্য শুরু করেছিলেন। কিন্তু সব থেমে যায় মুক্তার আলীর মারমুখী ১০ বলে ২৪ এবং মোশাররফ রুবেলের ১৮ রানের হার না মানা ইনিংসে।
সকালে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে ৩০ রানের মধ্যেই ট্রেগো, রজত ভাটিয়াসহ তিন উইকেট হারিয়ে বসেছিল আবাহনী। কিন্তু চতুর্থ উইকেটে মার্শাল আইয়ুব এবং অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ ৯৩ রান যোগ করে আবাহনীকে একটা শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করিয়ে দেন। এরপর ষষ্ঠ উইকেটে মাহমুদুল্লাহ ও ফরহাদ হোসেন ৭৪ বলে অবিচ্ছিন্নভাবে ৯৪ রান যোগ করলে ২৫৩ রানের বড় স্কোর দাঁড় করিয়েছিল আবাহনী। অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ ১২৫ বলে ১০৯ রানে অপরাজিত থাকেন। মিরপুরের মাঠে আড়াইশ'র ওপরে রান মানেই নিরাপদ স্কোর। শঙ্কা জেগেছিল, মোহামেডানের পর আবাহনীর কাছেও কি হারতে যাচ্ছে তারকাদের দল ভিক্টোরিয়া! কিন্তু তামিম-শোয়েবের দায়িত্বপূর্ণ ব্যাটিং এবং শেষ মুহূর্তে মুক্তার আলীর ঝড়ে দারুণ এক জয় পেয়ে ৫ ম্যাচে ৮ পয়েন্ট নিয়ে ভিক্টোরিয়া এখন লীগের শীর্ষে।

No comments

Powered by Blogger.