এ্যাপথাস স্টোমাইটাইটিস

এ্যাপথা বলতে বোঝায় আলসার বা ঘা। স্টোমাইটাইটিস হলো মিউকাস লাইনিং বা আবরণের প্রদাহ। প্রকৃতপক্ষে এ্যাপথাস স্টোমাইটিস এ্যাপথাস আলসার নামে সমধিক পরিচিতি। এছাড়া এ্যাপথাস আলসারকে ক্যাঙ্কার সোর নামেও চিহ্নিত করা হয়।


আমাদের দেশের একটি বড় সমস্যা মুখের যে কোন আলসারের চিকিৎসায় এ্যাপথাস আলসারে প্রদত্ত ওষুধ ব্যবহার করা হয়, বিশেষ করে রোগী যখন ওষুধের দোকানে গিয়ে চিকিৎসা গ্রহণ করে। যারা ওষুধের ব্যবসা করে তাদের অধিকাংশই নিজেকে ডাক্তার ভাবতে শুরু করে। তাই এ্যাপথাস আলসারের প্রকৃত স্বরূপ আমাদের সবার জানা প্রয়োজন। এ্যাপথাস আলসার সাধারণত ব্যথাযুক্ত হয়ে থাকে। পুরুষদের চেয়ে মহিলারা বেশি আক্রান্ত হয়ে থাকে। এ্যাপথাস আলসার যে কোন বয়সে হতে পারে। কিন্তু টিনএজ ছেলে-মেয়েদের মাঝে বেশি দেখা যায়। শতকরা ৩০-৪০ ভাগ রোগীর পারিবারিক ইতিহাস থাকে যারা বার বার এ্যাপথাস আলসারে আক্রান্ত হন। অধিকাংশ ক্ষেত্রে ১০-২০ বছর বয়সের মধ্যে এ্যাপথাস আলসার প্রথম কারও মাঝে দেখা যেতে পারে। তবে দুই বছরের শিশুর মাঝেও হঠাৎ করে এ আলসার দেখা যেতে পারে। এ্যাপথাস আলসার কারও কারও ক্ষেত্রে বছরে দুই বার দেখা যেতে পারে আবার অন্যদের মাঝে অনেক বার দেখা যেতে পারে। এ্যাপথাস আলসার হলে মসলাযুক্ত খাবার খেতে খুবই সমস্যা হয়। এ্যাপথাস আলসার বেশিরভাগ ক্ষেত্রে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভাল হয়ে যায়। এ কারণেই মুখের আলসার সম্পর্কে সাধারণ মানুষ মজা করে বলেন যে, মুখের ঘা ওষুধ খেলে ভালো হতে সময় লাগে ১৪ দিন আর ওষুধ না খেলে সময় লাগে ৭ দিন। বিষয়টি নিয়ে হাস্যরস করা যায় ঠিকই, কিন্তু বেশি ব্যথা থাকলে অবশ্যই ওষুধ সেবন করতে হবে। তাছাড়া মুখের আলসারটি এ্যাপথাস আলসার না অন্য খারাপ কিছু সেটি অবশ্যই জানা জরুরী। এ্যাপথাস আলসার না হয়ে মুখের আলসারটি খারাপ কিছু হলে আলসার নিয়ে মুখের হাসি বা হাস্যরস বিলীন হতে সময় লাগবে না।
এ্যাপথাস আলসার কোথায় হয় : মুখের যে অংশগুলো সাধারণত চলমান বা নড়াচড়া করে সেখানেই এ্যাপথাস আলসার হয়ে থাকে, যেমন-জিহ্বা, ঠোঁট ও চিবুকের অভ্যন্তরের আবরণের ওপর। এছাড়া মাড়িতেও এ্যাপথাস আলসার হতে পারে।
এ্যাপথাস আলসার দেখতে কেমন : এ্যাপথাস আলসার সাদা অথবা হলুদ ডিম্বাকৃতির হয়। চারপাশে প্রদাহযুক্ত লালবর্ডার লাইন দেখা যায়। লাল বাউন্ডারির মধ্যে ধূসর, সাদা বা হলুদ এলাকা হয় ফিব্রিন গঠনের কারণে। ফিব্রিন একটি প্রোটিন যা রক্ত জমাট বাঁধার সঙ্গে সম্পৃক্ত।
এ্যাপথাস আলসারের কারণসমূহ : প্রকত কারণ এখনও অজানা। সম্ভাব্য কারণসমূহ যার প্রভাবে এ্যাপথাস আলসার হতে পারে সেগুলো হলো
১. আঘাতজনিত কারণে যেমন টুথব্রাশের খোঁচা।
২. মানসিক চাপ।
৩. ঘুমের ব্যাঘাত বা অপর্যাপ্ত ঘুম।
৪. অতিরিক্ত সাইট্রাস ফল সেবন যেমনÑকমলা অথবা লেবু।
৫. খাদ্যে এলার্জিজনিত কারণে।
৬. রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার সমস্যা।
৭. ভিটামিন বি১২, আয়রন এবং ফলিক এসিডের অভাবজনিত কারণে।
৮. নিকোরানডিল এবং কিছু কেমোথেরাপির কারণেও এ্যাপথাস আলসার হতে পারে।
৯. ক্রনস ডিজিজেও এ্যাপথাস আলসার হতে পারে।
১০. টুথব্রাশের এ্যাবরেশনের কারণে এ্যাপথাস আলসার হতে পারে।
১১. ধারালো বা এ্যাব্রেসিভ খাবার যেমনÑটোস্ট, চিপস্ দ্বারা কোন ক্ষত।
১২. দাঁত দ্বারা কামড়ানোর ফলে কোন ক্ষত।
১৩. ডেন্টাল ব্রেস মিউকাস মেমব্রেনের ক্ষতিসাধন করে এ্যাপথাস আলসার সৃষ্টি করতে পারে
১৪. সিলিয়াক ডিজিজের ক্ষেত্রেও এ্যাপথাস আলসার হতে পারে।
চিকিৎসা : মসলাযুক্ত খাবার গ্রহণ কমাতে হবে। * কসমেটিক মাউথওয়াশ অর্থাৎ হালকা গরম পানি ও লবণ মিশিয়ে কুলকুচি করা যেতে পারে। * ভিটামিন বি১২ দেয়া যেতে পারে। * এ্যামলেক্সানকস্ ওরাল পেস্ট এ্যাপথাস আলসার সারাতে সাহায্য করে এবং ব্যথা কমায়।
ডা. মোঃ ফারুক হোসেন
মুখ ও দন্তরোগ বিশেষজ্ঞ

No comments

Powered by Blogger.