বিএনপিতে জ্যেষ্ঠ নেতাদের প্রকাশ্য মতবিরোধ by শরীফুল ইসলাম

প্রধান বিরোধী দল বিএনপি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নির্দলীয় সরকারের বিষয়টি জোরেশোরে উচ্চারণ করলেও রূপরেখা কি হবে তা নিয়ে দলের ভেতরেই মতবিরোধ ও দ্বিধাদ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়েছে। এ নিয়ে দলের নেতারা প্রকাশ্যেই পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিতে শুরু করেছেন।


এর ফলে দলের হাইকমান্ড পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দেয়া নেতাদের ওপর মনোক্ষুণ হয়েছেন। এ নিয়ে দলের ভেতরে তোলপাড় চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি লন্ডনে গিয়ে বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনেই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে। তিনি বিএনপিকে সরকারে শরিক হওয়ার প্রস্তাব দেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাবের পর বিএনপি স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আলোচনা করে তা প্রত্যাখ্যান করে প্রকাশ্যেই। এর পর বিভিন্ন মহল থেকে প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাবকে ইতিবাচক হিসেবে মন্তব্য করে এ নিয়ে সরকারের সঙ্গে বিএনপিকে আলোচনায় অংশ নেয়ার আহ্বান জানান। এ পরিস্থিতিতে বিএনপি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে নির্দলীয় গঠন সরকার হলে দলের পক্ষ থেকে সরকারকে সহযোগিতা করার আশ্বাস দেয়। এ পরিস্থিতিতে বিএনপি নির্দলীয় সরকারের একটি প্রস্তাব তৈরি করছে বলে জল্পনা-কল্পনা চলতে থাকে।
গত ১১ আগস্ট দুপুরে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ জাতীয় প্রেসক্লাবে দলীয় এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, আগামী দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার লক্ষ্যে নির্দলীয় সরকারের সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর ওপর ভিত্তি করে রূপরেখা তৈরি করছে বিএনপি। ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, জনগণের রায়ের সঠিক প্রতিফলনের স্বার্থে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন হতে হবে নির্দলীয় সরকারের অধীনেই। এজন্য আমরা সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর ওপর ভিত্তি করে নির্দলীয় সরকারের রূপরেখা তৈরি করছি। যথাসময়ে প্রণীত রূপরেখাটি দেশবাসীর কাছে উপস্থাপন করে তা বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হবে।
জানা যায়, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের দেয়া এ বক্তব্যের পর বিএনপিতে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া হয়। এ খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে সৌদি আরব থেকে খোদ বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া তাঁর বিশ্বস্তদের কাছে ফোন করে ব্যারিস্টার মওদুদের দেয়া বক্তব্য সম্পর্কে জানতে চান। লন্ডন থেকে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানও তার ঘনিষ্ঠজনদের মাধ্যমে ব্যারিস্টার মওদুদের বক্তব্যের কারণ জানতে চান। এর পর বিষয়টি নিয়ে দলের ভেতরই ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলতে থাকে। দলের নেতাদের মধ্যে কেউ কেউ ব্যারিস্টার মওদুদের বক্তব্যকে ইতিবাচক হিসেবে নিলেও অনেকেই হাইকমান্ডের অনুমতি না নিয়ে দেয়া বক্তব্যের বিরোধিতা করতে থাকেন। সোমবার বিএনপির যৌথসভায়ও বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
ব্যারিস্টার মওদুদের বক্তব্য কিভাবে নাকচ করা যায় এ নিয়ে দলীয় হাইকমান্ড অনেক চিন্তাভাবনা করে। অবশেষে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ওপর ব্যারিস্টার মওদুদের বক্তব্য নাকচ করার দায়িত্ব অর্পণ করা হয়। এ পরিপ্রেক্ষিতে ব্যারিস্টার মওদুদের দেয়া বক্তব্যের ৪৮ ঘণ্টা পর সোমবার দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যৌথসভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নির্দলীয় সরকারের রূপরেখা নিয়ে মওদুদের বক্তব্য নাকচ করেন। তবে ফখরুলের বক্তব্যের পর ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ও তাঁর অনুসারীদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

No comments

Powered by Blogger.