শোকাবহ আগস্ট এবং ঈদের পরের রাজনীতি by ড. হারুন রশীদ

আগস্ট কান্নার মাস। বেদনার মাস। শোকাবহ আগস্টে বাঙালী জাতি হারিয়েছে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালী স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। আগামীকাল ১৫ আগস্ট সেই বেদনাবিধুর শোকবিহ্বল দিন।


যার অঙ্গুলির নির্দেশে গোটা বাঙালী জাতি একাত্তরে ‘যার হাতে যা আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা’ করার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। ৯ মাস রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে ছিনিয়ে এনেছিল স্বাধীন বাংলার লাল-সবুজ পতাকা। সেই তাঁকেই কিনা জীবন দিতে হলো এদেশেরই কিছু বিপথগামী সেনাসদস্যের হাতে। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে তাঁর নাম নিশানা মুছে ফেলতে চেয়েছিল ঘাতক চক্র। শুধু তাই নয়, মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত বাংলাদেশকে তারা ফিরিয়ে নিতে চেয়েছিল পাকিস্তানী ভাবধারায়। সত্যি বলতে কী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করার পর রাজনীতির বিপথগামিতার শুরু হয়। নানা ঘটনা প্রবাহের মধ্য দিয়ে সামরিক শাসক জিয়াউর রহমান ক্ষমতাসীন হওয়ার পর প্রকৃত রাজনীতিবিদদের কাছে টানতে না পেরে দলছুটদের নিয়ে দল গঠন করলেন ক্ষমতা পাকাপোক্ত করার জন্য। হালুয়া রুটির আশায় অনেকেই ভিড়লেন সে দলে। দলছুটদের পেয়ে তার মনে আত্মবিশ্বাস দৃঢ় হলো। কিভাবে ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করা যায় তার জন্য নানা ফন্দিফিকির করতে লাগলেন। রাজনীতিবিদরা যাতে তাঁর জন্য হুমকি না হতে পারেন সে জন্য তিনি এমনসব বিধি ব্যবস্থা প্রণয়ন করলেন যাতে প্রকৃত রাজনীতিবিদদের জন্য রাজনীতি করাটা সত্যি কঠিন হয়ে পড়ল। তিনি নিজেই ঘোষণা করলেন, রাজনীতিবিদদের জন্য রাজনীতি কঠিন করার কথা। যে ছাত্ররা ভাষা আন্দোলন করলেন, ৬ দফাকে জনপ্রিয় করলেন, ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান সৃষ্টি করলেন এবং একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে অগ্রসৈনিকের ভূমিকা পালন করলেন সেই ছাত্ররাজনীতির উর্বর ভূমিতে রোপণ করা হলো স্বার্থপরতা এবং ক্ষমতালিপ্সার বিষবৃক্ষ। অস্ত্র, টাকা, আর ক্ষমতার লোভ দেখিয়ে ছাত্রদের একটি অংশকে দলে টানতে সক্ষম হলেন সামরিক শাসক জিয়াউর রহমান। আরেক সামরিক শাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ক্ষমতায় এসে সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখলেন। বিষবৃক্ষে জল ঢাললেন। অনেক ছাতনেতা ক্ষমতার ভাগভাটোয়ারা পেয়ে রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হলেন। এর মাধ্যমে ছাত্ররাজনীতিতে কলুষতার ষোলোকলা পূর্ণ হলো। ক্ষমতায় থাকা এবং যাওয়ার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হতে থাকল ছাত্র নেতারা। অনেকেই এমপি-মন্ত্রী পর্যন্ত হলেন। অস্ত্র টাকা হাতে পেয়ে অরাজকতায় লিপ্ত হলো ওই ছাত্ররা। ছাত্র রাজনীতিতে থেকে আদর্শ নামক বস্তুটি হারিয়ে যেতে থাকল। সেই সঙ্গে জাতীয় রাজনীতি থেকেও। কেননা সামরিক শাসন আমলে একটি নব্য ধনিক শ্রেণীর সৃষ্টি হওয়ায় তারা ক্ষমতার অংশীদার হতে চাইলেন। টাকা দিয়ে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার সংস্কৃতি চালু হলো এবং আরও বেশি টাকা দিয়ে মন্ত্রিত্বের পদ কেনারও ব্যবস্থা হলো। এভাবে রাজনীতি চলে গেল ব্যবসায়িক শ্রেণীর হাতে। নির্বাচনী ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ত্যাগী আদর্শবাদী রাজনীতিবিদরা অনেকেই রাজনীতির মাঠ থেকে ছিটকে পড়লেন। অন্যদিকে সামরিক শাসকদের পৃষ্ঠপোষকতায় মৌলবাদী রাজনীতি ফুলেফেঁপে উঠল। এমনকি তারা ক্ষমতার অংশীদার পর্যন্ত হলো। শুধু রাজনীতি নয়, ধর্মকে পুঁজি করে তারা ব্যাংকবীমাসহ অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও স্থাপন করল। ব্যবসা-বাণিজ্যে, রাজনীতিতে ‘মৌলবাদের অর্থনীতি’ এক বিরাট সমস্যা হয়ে দেখা দিল। রাজনীতিতে জায়গা করে নিল সাম্প্রদায়িকতা। স্বাধীনতার বিপক্ষ শক্তি রাজনীতিতে পুনর্বাসিত হওয়ায় একটি সুস্পষ্ট বিভাজন সৃষ্টি হলো। সামরিক শাসকদের সৃষ্টি করা দলগুলো এই বিভাজনকে আরও প্রকট করে তুলল। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ শক্তিকে এভাবে দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে রাখা হলো। সামরিক, বেসামরিক প্রশাসন এমনকি বিচার বিভাগকেও ক্ষতবিক্ষত করা হলো দলীয়করণের মাধ্যমে। এভাবে গণতান্ত্রিক চর্চা ব্যাহত হতে থাকল। এরপর নব্বইয়ের গণ-আন্দোলনের পর গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা শুরু হলেও সে পথও কণ্টকাকীর্ণ হয়ে পড়ল মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ শক্তির হাতে ক্ষমতা ফিরে না আসায়। এক সামরিক সরকার হঠিয়ে সেনাছাউনিতে জন্ম নেয়া দলটিকেই আবার ক্ষমতাসীন করা হলো। এভাবে গণতন্ত্রের ছদ্মাবরণে কার্যত সামরিক শাসকের উত্তরসূরিরাই ক্ষমতায় থেকে গেল। ফলে গণতন্ত্র কাক্সিক্ষত মাত্রায় বিকশিত হতে পারল না। এরপর দীর্ঘ ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার বিকাশ শুরু হয়। এত দিনের পুঞ্জীভূত পাহাড়সম সমস্যার সামনে দাঁড়িয়েও শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার দেশে গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার বিকাশ ঘটাতে সক্ষম হন। দ্রব্যমূল্য, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, বিদ্যুতজ্বালানি, রাস্তাঘাটসহ অবকাঠামোগত খাতে তারা ব্যাপক উন্নয়ন করেন। এই সময় রাজনীতিতেও একটি গুণগত পরিবর্তনের ধারা সূচিত হয়।
কিন্তু সেই সময়ের বিরোধী দল বিএনপি তাদের কূটকৌশল অব্যাহত রাখে। নানাভাবে তারা সরকারকে বেকায়দায় ফেলার চেষ্টা করে। হরতালসহ নানা ধরনের নৈরাজ্যকর কর্মসূচি দিতে থাকে তারা সরকারের বিরুদ্ধে। এসবের মধ্যেও আওয়ামী লীগ স্বাধীনতা পরবর্তী সরকারগুলোর মধ্যে তুলনামূলক ভালভাবে দেশ শাসন করে। কিন্তু এরপরও ২০০১ সালের নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে হারানো হয়। নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আচরণ এই নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণে নিয়ামক হিসেবে কাজ করে। বিচারপতি লতিফুর রহমান প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর পরই ১৩ জন সচিবকে তাৎক্ষণিক বদলি করেন। যা তার এখতিয়ারবহির্ভূত ছিল। কারণ তখনও উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করা হয়নি। এবং সংবিধান অনুযায়ী তত্ত্বাবধায়ক সরকার বলতে বুঝাবে প্রধান উপদেষ্টাসহ উপদেষ্টা পরিষদের সকল সদস্যকে। কাজেই প্রধান উপদেষ্টা এককভাবে কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। এই সিদ্ধান্তটিই বার্তা পৌঁছে দেয় পরিস্থিতি কোন্ দিকে যাচ্ছে।
এভাবে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিএনপি ক্ষমতাসীন হওয়ার পর পরই শুরু হয় ব্যাপক নিপীড়ন নির্যাতন। হত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগসহ সারাদেশে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা হয়। এবং আওয়ামী লীগ সমর্থকরাই যে এসবের শিকার হন সেটি তো আর বলার অপেক্ষা রাখে না। এথনিক ক্লিনজিং চলে মারাত্মক রকমে। পূর্ণিমাসহ অনেক নির্যাতিত নারী আজও সেই নারকীয় বর্বরতার সাক্ষী হয়ে আছেন। ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতাসীন হওয়ার পর দুর্নীতি লুটপাট মহামারী আকার ধারণ করে। বিশেষ করে হাওয়া ভবনকেন্দ্রিক দুর্নীতির একটি বলয় গড়ে ওঠে, যা দুর্নীতিতে সারাবিশ্বে বাংলাদেশকে চ্যাম্পিয়ন হতে সহায়তা করে। এত কিছু করার পরও বিএনপি আবারো ক্ষমতাসীন হওয়ার জন্য নানা কূটকৌশলের আশ্রয় নেয়। বয়স বাড়িয়ে নিজেদের পছন্দের সাবেক প্রধান বিচারপতি কেএম হাসানকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান করার অপচেষ্টা করা হয়। তাঁকে নিয়ে চরম বিতর্ক দেখা দিলে তিনি নিজে থেকেই প্রধান উপদেষ্টা হওয়ার ব্যাপারে অসম্মতি জানান। এরপর অন্য অনেক অপশন থাকা সত্ত্বেও সবাইকে অবাক করে দিয়ে দলীয় নির্দেশে রাষ্ট্রপতি ইয়াজ উদ্দিন আহম্মেদ নিজেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নেন। (বিরোধীদলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সম্প্রতি স্বীকার করেছেন তাঁদের এই সিদ্ধান্তটি ভুল ছিল) এর ফলে পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটে। এরপর নানা ঘটনা প্রবাহের মধ্য দিয়ে ফখরুদ্দিন আহমদ এবং মইনউদ্দিন আহমদের তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতাসীন হয়। ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে তাঁরা ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করার চেষ্টা চালান। এই অপচেষ্টার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। এ কারণে তাকে কারান্তরীণ করা হয়। সমতা আনার জন্য পরে অবশ্য বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকেও কারাগারে নেয়া হয়। কিন্তু মুক্তিকামী জনতা এসব অন্যায় মানেনি। তারা ভোট ও ভাতের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধার করেন। বিএনপির দুঃশাসন দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যাপক জনরায় পায় আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার। বিশেষ করে যুদ্ধাপরাধের বিচারের প্রশ্নে তরুণ ভোটাররা মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী দল আওয়ামী লীগকে ক্ষমতাসীন করে। কিন্তু ক্ষমতায় না বসতেই ষড়যন্ত্রের ডালপালা বিস্তার হতে থাকে। মাত্র এক মাসের মাথায় ঘটানো হয় পিলখানা হত্যাকা-ের মতো নারকীয় ঘটনা। সরকার অত্যন্ত ধৈর্যের সঙ্গে পরিস্থিতি সামাল দেয়। এরপর প্রতিশ্রুত যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু হলে আবার নতুন করে ষড়যন্ত্রে মেতে ওঠে অপশক্তি। দেশে-বিদেশে তারা টাকা ঢালতে থাকে যুদ্ধাপরাধের বিচার বন্ধে। বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া প্রকাশ্য জনসভায় যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে অবস্থান নিয়ে তাদের বিচার বন্ধ করার দাবি তোলেন। তাঁরা অতীতের মতো সংসদ বর্জনের অপসংস্কৃতি থেকেও বেরিয়ে আসতে পারেননি। এক্ষেত্রে তাঁরা সর্বকালের সব রেকর্ড ভঙ্গ করেছেন। সংসদে যোগ না দিয়ে আন্দোলন করে সরকার হটানোর কথা বলে আসছেন।
বিরোধীদলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এরই মধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন ঈদের পর তত্ত্বাবধায়ক ইস্যুতে কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি হাতে নেয়া হবে। আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারের পতন ঘটিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে বাধ্য করা হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাটি তো আসলে রাজনীতিবিদদের পরস্পরকে অবিশ্বাসের ফল। তিনটি জাতীয় নির্বাচন ইতোমধ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হয়েছে। কিন্তু এর ফলাফলেও পরাজিত দল সন্তুষ্ট থাকেনি। কখনও সূক্ষ্ম কারচুপি, কখনও স্থ’ূল কারচুপি, কখনও বা ডিজিটাল কারচুপির অভিযোগ তোলা হয়েছে। আর সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা তো বলার অপেক্ষাই রাখে না। যে সর্ষে দিয়ে ভূত তাড়ানোর কথা, দেখা গেল সেই সর্ষেতেই ভূত। এখন আবার সেই ভূতকেই আমন্ত্রণ জানিয়ে আনার কথা বলা হচ্ছে। বিরোধী দল লাগাতারভাবে সংসদে অনুপস্থিত থাকছে। এর পরিবর্তে তারা সহিংস আন্দোলন সংগ্রামের পথ বেছে নিয়েছে। দেশের ভবিষ্যতকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে সম্পূর্ণ এক অনিশ্চিত গন্তব্যে। কিন্তু এই অচলায়তন ভাঙবে কবে?
পঞ্চদশ সংশোধনী পাস হওয়ার পর তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার বিলোপ হয়েছে। এক্ষেত্রে সবচেয়ে ভাল বিকল্প হচ্ছে শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন। ইতোমধ্যেই নতুন নির্বাচন কমিশন দায়িত্ব নিয়েছে। এখন দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করার ব্যাপারে সরকার, বিরোধী দলসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিকতা নিয়ে এগিয়ে আসা প্রয়োজন। তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের পর নির্বাচন কমিশন যেন সরকারের প্রভাবমুক্ত থেকে নির্বাচন পরিচালনা করতে পারে সেটি নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরী। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিকল্প হচ্ছে নির্বাচন কমিশন। এখন নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করার জন্য দৃশ্যমান কিছু পরিবর্তন অবশ্যম্ভাবী। এ জন্য সবার আগে নির্বাচন কমিশনের ওপর নির্বাহী বিভাগের নিয়ন্ত্রণ, নির্ভরশীলতা কমিয়ে কমিশনকে সত্যিকার অর্থে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিতে হবে যাতে রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থা রাখতে পারে।
কী পদ্ধতিতে নির্বাচন হবে কিংবা ক্ষমতায় থাকা না থাকার ইস্যুগুলোই রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে প্রাধান্য পাচ্ছে। ফলে জনস্বার্থ উপেক্ষিত হচ্ছে। সমঝোতার পরিবর্তে বৈরিতাই স্থান করে নিচ্ছে রাজনীতিতে। এ অবস্থা দেশকে এক সঙ্কটজনক অবস্থায় নিপতিত করছে। কিন্তু এ অবস্থা তো কারও কাম্য হতে পারে না। তাই জনকলাণ্যের রাজনীতিই সকলের প্রত্যাশা। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে জনকল্যাণই ছিল মুখ্য বিষয়। তাকে হত্যার মধ্য দিয়ে রাজনীতিতে যে বিষবাষ্প ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে তা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। জাতীয় শোক দিবসে নতুন করে শপথ নিতে হবে যাতে জনকল্যাণই মুখ্য বিষয় হয় রাজনীতির। অনিশ্চিত অন্ধকারের পথে আর এক মুহূর্ত নয়। হীনস্বার্থ নয়, একটি সুখী সমৃদ্ধ গণতান্ত্রিক অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই কেবল বঙ্গবন্ধুসহ সকল শহীদের রক্তঋণ শোধ করা সম্ভব। রাজনৈতিক দলগুলোকে এ ব্যাপারে অবশ্যই ঐকমত্যে পৌঁছতে হবে।
harun_press@yahoo.com

No comments

Powered by Blogger.