ভারতে সবার জন্য বিনা মূল্যে ওষুধ প্রকল্প শিগগিরই

সরকারি হাসপাতালে সব রোগীকে বিনা মূল্যে ওষুধ সরবরাহের বিরাট প্রকল্প হাতে নিয়েছে ভারত সরকার। তারা এ কাজে প্রায় ৫০০ কোটি ডলার খরচ করবে। সরকারের চূড়ান্ত অনুমোদনের পর আগামী অক্টোবর থেকে পাঁচ বছর মেয়াদি এ প্রকল্পের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে।


স্বাস্থ্য খাতকে আরো জনমুখী করার লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা গতকাল শুক্রবার এক বিবৃতিতে এ কথা জানিয়েছেন।
চিকিৎসকরা এখন থেকে আর কোনো বিদেশি দামি ওষুধ রোগীদের ব্যবস্থাপত্রে সুপারিশ করতে পারবেন না বলেও সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। দেশীয় ওষুধ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তুলনামূলক কম খরচে উৎপাদিত জেনেরিক নামের (ওষুধের উপাদানের মূল নাম, কম্পানি প্রদত্ত নাম নয়) ওষুধ সুপারিশ করতে হবে তাঁদের। সরকারের এমন সিদ্ধান্তে দীর্ঘদিন ধরে ভারতে ব্যবসা প্রসারের চেষ্টা চালিয়ে আসা পশ্চিমা বড় ওষুধ কম্পানিগুলো বেকায়দায় পড়বে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ জোট সরকার (সংযুক্ত প্রগতিশীল মোর্চা) 'সবার জন্য বিনা মূল্যে ওষুধ' প্রকল্পে ২০ হাজার কোটি রুপি অর্থ জোগান দেবে। বাকি ছয় হাজার ৬০০ কোটি রুপির জোগান দেবে দেশের ২৮টি রাজ্য সরকার। ২০১৪ সালের সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখেই কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন সরকার এ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব অরুণ পাণ্ডা ই-মেইলে এক বিবৃতিতে বলেন, 'নতুন এই পরিকল্পনা অনুমোদন পেলে সবার জন্য ওষুধ সরবরাহের ক্ষেত্রে তা হবে এক বিশাল পদক্ষেপ।' প্রস্তাবটি সরকারের অনুমোদনের জন্য আগামী মাসে মন্ত্রিপরিষদে তোলা হলেও ইতিমধ্যে প্রকল্পে প্রথম দফার অর্থের জোগান দেওয়া হয়ে গেছে। প্রাথমিক পর্যায়ে ২০১২-১৩ অর্থবছরের জন্য এক হাজার কোটি রুপি বরাদ্দ করা হয়েছে সরকারের তরফ থেকে। 'সবার জন্য বিনা মূল্যে ওষুধ' প্রকল্পের অন্যতম উদ্যোক্তা প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং ইতিমধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে বিপুল পরিমাণ ওষুধ সংগ্রহের জন্য একটি কেন্দ্রীয় সরবরাহ বিভাগ চালু করার নির্দেশ দিয়েছেন।
১২০ কোটিরও বেশি মানুষের দেশ ভারতে চিকিৎসা ব্যয় দিন দিন বাড়ছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকার হাসপাতালগুলোতে দেশীয় কম্পানির মাধ্যমে অপেক্ষাকৃত কম খরচে তৈরি ওষুধ সরবরাহ করতে চাইছে। একই সঙ্গে বিদেশি দামি ব্র্যান্ড নামে (কম্পানি প্রদত্ত নাম) ওষুধ রোগীদের ব্যবহারের সুপারিশ না করতে চিকিৎসকদেরও সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। তেমন প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসককে জরিমানা করা হবে। শুধু দেশীয় কম্পানির তৈরি সুলভ ও দামে সস্তা জেনেরিক নামের ওষুধ দিতে হবে রোগীদের।
বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের মতো বিশাল জনসংখ্যার একটি দেশে সরকারের এমন সিদ্ধান্ত বহুজাতিক বিদেশি ওষুধ কম্পানিগুলোকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করবে। কারণ ওই সব কম্পানি অনেক দিন ধরেই ভারতে ব্যবসা প্রসারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে এ মুহূর্তে ফাইজার ও গ্ল্যাঙ্ােস্মিথক্লাইনের মতো বৃহৎ ওষুধ কম্পানি ভারতীয় ওষুধ কম্পানির মাধ্যমে জেনেরিক ওষুধ তৈরি করছে।
স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষজ্ঞরা সরকারের এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্নীতিমুক্ত না হওয়ায় প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কাও প্রকাশ করেছেন অনেকে। ভারতে মেডিসিনস সানস ফ্রন্টিয়ার্সের প্রধান পিয়েরাঙ্গেলো গান্দিনি বলেন, 'নীতিগতভাবে প্রকল্পটি বেশ ভালো। তবে বাস্তবায়ন করতে গেলে কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে। কারণ বিশেষত গ্রামাঞ্চলে স্বাস্থ্য কাঠামো নাজুক হওয়ায় প্রকল্পের মৌলিক মান বজায় রাখা সম্ভব নাও হতে পারে।' সূত্র : এএফপি, স্কাই নিউজ।

No comments

Powered by Blogger.