মিশন ক্যারিয়ার-ফলোঅন এড়ালেন টম ক্রুজ by পিপ্পলি কেয়ারি

০০৫ পেরিয়েছে এক যুগ হলো। অন্তত ফিল্মি দুনিয়ার ক্যালেন্ডার সেটাই বলে। এর মাঝে যদি বলার মতো ছবি না থাকে, তবে কোনো কোনো অভিনেতাকে সরাসরি বাই-বাই বলে দিতে হয়। আরেকটু হলেই সেই কাতারে পড়ে যাচ্ছিলেন মিশন ইম্পসিবলের টম ক্রুজ। এ যাত্রা বেঁচে তো গেলেনই, খুব তাড়াতাড়ি আবার পর্দায় আগুন ধরাতে যাচ্ছেন নিভু নিভু এ তারকা। লিখেছেন পিপ্পলি কেয়ারি


মহাদেশের এ দিকটায় তিনজন হলিউড তারকার নাম জানতে চাওয়া হলেও এসে পড়ে টম ক্রুজের নাম। কিন্তু ২০০৫ সালের পর ওয়ার অব দ্য ওয়ার্ল্ডসের পর খুব একটা বলার মতো ছবি ছিল না তাঁর বাঙ্।ে এদিকে সামনের বছরই বয়স তাঁর ৫০ ছোঁবে। তাই একটা কিছু করে দেখানোর তাগিদটা তাঁর ছিলই। দেখাতে যাচ্ছেন বটে। শুধু অপেক্ষা করতে হবে ডিসেম্বর পর্যন্ত। মুক্তি পাবে মিশন ইম্পসিবল ফোর : ঘোস্ট প্রটোকল। দর্শকের মন জিততে এর পরের মিশনগুলোকেও বলা যায় ছেলের হাতের মোয়া। প্যারামাউন্টের ছবি 'ওয়ান শট', নিউ লাইনের 'রক অব এজেস', ইউনিভার্সালের সঙ্গে একটি সায়েন্স ফিকশন ও টিএইচআরের সঙ্গে আরেকটি বিগ বাজেট সায়েন্স ফিকশন ছবির কাজ চলছে টমকে ঘিরে। সামনের বছরটা তাই হলিউড-পাড়ায় একটু ঘনঘন মহড়া দেবেন ক্রুজ মশাই। তাই বলে কি এত দিন ছবি করেননি? করেছেন। 'নাইট অ্যান্ড ডে' ভালোই আয় করেছে। কিন্তু তাতে নাকি টমকে ঠিক খুঁজে পাওয়া যায়নি। 'আন্ডার-পারফর্মার' বলেছেন সমালোচকরা। আবার মিশন ইম্পসিবলের তৃতীয় পর্বটাও ছিল এক অর্থে ফ্লপ। দ্বিতীয় পর্বের চেয়ে ওটার আয় ছিল ৩০ শতাংশ কম। তাই মন খারাপ করে টমকে আড়ি দেয় প্যারামাউন্ট।
তবে এত দিন পর আবার আলোচনায় টম কেন? সম্ভাব্য উত্তরগুলো পাওয়া গেল একটি ওয়েবসাইটে। তাতে প্রথমেই বলা হয়েছে দর্শক চাহিদার কথা। জেসন স্ট্যাটহাম, ম্যাট ডেমন আর ডিক্যাপ্রিওকে প্রায় মুখস্থ হয়ে গেছে। আর এ মুহূর্তে টম ক্রুজ মানেই দর্শক নস্টালজিক হতে বাধ্য। শুধু টমকে দেখার জন্যই তারা হলে আসবে বলে বিশ্বাস প্রযোজকদের। আর চাহিদার নেপথ্যে কাজ করেছে এক চিলতে রসায়নবিজ্ঞানও। তা হলো, পঞ্চাশে পা দিলেও টমকে দেখায় একেবারে টগবগে যুবকের মতো।
পরের কারণটা হলো সুনাম। দীর্ঘদিন কারোর সঙ্গে যোগাযোগ না রাখলেও পরে সময়মতো হ্যান্ডশেক করতে কুণ্ঠাবোধ করেন না টম। এ কারণেই আবার মজবুত সম্পর্ক গড়েছেন স্কাইড্যান্স প্রডাকশনের প্রধান ডেভিড এলিসনের সঙ্গে। যিনি 'মিশন ইম্পসিবল ফোর' ও 'ওয়ান শট'-এর একজন প্রযোজক।
তৃতীয় কারণটা বেশ শক্তিশালী। আর এই একটি কারণেই যেকোনো অভিনেতা হয়ে যান চোখের মণি, প্রযোজকের চোখে। আর তা হলো কম পারিশ্রমিক। শোনা যাচ্ছে রক অব এজেসের জন্য ক্রুজ নাকি মাত্র ৫০ লাখ ডলার নিচ্ছেন!
টম ক্রুজ আগে যেমন ছিলেন তেমনটা নেই। আশপাশের ভক্তরাও তাঁকে আলগোছে একপাশে সরিয়ে রেখেছে। তবে মহাদেশ ছাড়িয়ে কিন্তু ফিকে হয়ে যায়নি টম ক্রুজের ক্রেজ। হুট করে তাই একগাদা ছবির বর্ষণে সত্যিই সিক্ত হতে যাচ্ছেন এ মহাতারকা। আর যদি পুণ্যজলের ছিটে না লাগে শরীরে? নিঃসন্দেহে একেবারে ইম্পসিবল হয়ে যাবে মিশন ক্যারিয়ার।

No comments

Powered by Blogger.