সুচিত্রা সেনের পৈতৃক বাড়ি দখলমুক্ত করার দাবি by সরোয়ার উল্লাস

বাংলা চলচ্চিত্রের প্রখ্যাত অভিনেত্রী সুচিত্রা সেনের পৈতৃক বাড়িটি দখলমুক্ত করে ‘সুচিত্রা সংগ্রহশালা’ করার জোর দাবি জানিয়েছে পাবনাবাসী। দলমত-নির্বিশেষে জেলার সর্বস্তরের মানুষের সমন্বয়ে গঠন করা হয়েছে ‘সুচিত্রা সেন স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদ’।


পরিষদ দাবি আদায়ের লক্ষ্যে সভা-সমাবেশ, মানববন্ধন, সংবাদ সম্মেলন, চলচ্চিত্র উৎসবসহ নানা কর্মসূচি পালন করছে। সুচিত্রা সেন স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাম দুলাল ভৌমিক অভিযোগ করেন, বাড়িটি স্থায়ীভাবে দখলের জন্য জামায়াত নেতারা নানা কৌশলের আশ্রয় নিচ্ছেন। ১৯৮৭ সালে জেলা প্রশাসন তাঁদের বাড়িটি বাৎসরিক ইজারা দেয়। এই ট্রাস্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কেন্দ্রীয় জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা আবদুস সুবহান ও জেলা জামায়াতের আইনবিষয়ক সম্পাদক আবিদ হাসান। ১৯৯১ সালের ১৮ জুন ইমাম গাজ্জালি ট্রাস্ট বাড়িটি স্থায়ী বন্দোবস্ত নেওয়ার আবেদন করে। ওই বছরের আগস্টে ভূমি মন্ত্রণালয় তাদের স্থায়ী বন্দোবস্ত না দিয়ে আবারও বাৎসরিক ইজারা দেয়। পরে ইজারার টাকা পরিশোধ না করায় ১৯৯৫ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ইজারা বাতিল করা হয়। কিন্তু জামায়াত নেতারা বকেয়া পরিশোধ সাপেক্ষে ১৯৯৫ সালের ১৫ আগস্ট আবার ইজারা নবায়ন করিয়ে নেন। এর পর থেকে বাড়িটি তাঁদের দখলে আছে।
জানা গেছে, পাবনা শহরের গোপালপুর মহল্লায় হেমসাগর লেনে সুচিত্রা সেনের পৈতৃক বাড়িটি অবস্থিত। ওই বাড়িতে তিনি শৈশব-কৈশোর কাটিয়েছেন। ১৯৪৬ সালের ফেব্রুয়ারির কথা। নবম শ্রেণীতে পড়া অবস্থায় বিয়ে হয়ে যায় সুচিত্রার। পরে স্বামীর সঙ্গে তিনি কলকাতায় চলে যান। সুচিত্রার বাবা করুণাময় দাশগুপ্ত তখন পাবনা পৌরসভার স্বাস্থ্য পরিদর্শক পদে কর্মরত ছিলেন। ১৯৫১ সালে তিনি অবসরে যান। ১৯৬০-এ করুণাময় দাশগুপ্ত বাড়িটি জেলা প্রশাসনের কাছে ভাড়া দিয়ে পরিবার নিয়ে কলকাতায় পাড়ি জমান। এ সময় প্রশাসন বাড়িটি সরকারি কর্মকর্তাদের কোয়ার্টার বানায়।
সুচিত্রা সেন স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদের সভাপতি এম সাইদুল হক বলেন, ‘জামায়াতের দখল থেকে সুচিত্রা সেনের পৈতৃক বাড়িটি মুক্ত করে “সুচিত্রা সংগ্রহশালা” গড়ে তুলতে জেলাবাসী ঐক্যবদ্ধ। দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ইতিমধ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছে।’
সাইদুল হক জানান, এই আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৯ সালে পাবনা জেলা প্রশাসন বাড়িটির ইজারা বাতিল করে ইমাম গাজ্জালি ট্রাস্টকে দখল ছাড়ার নির্দেশ দেয়। সর্বশেষ ৮ জানুয়ারি পাবনা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদ বাড়িটি দখলমুক্ত করার দাবি জানায়।
জেলা প্রশাসক মোস্তাফিজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, সর্বশেষ আদালত একটি রায়ে স্থিতাবস্থা বাতিল করে ওই বাড়ি থেকে দখলদারদের উচ্ছেদ করে প্রতিবেদন দিতে বলেন। কিন্তু ইজারাগ্রহীতারা সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল করেন। ফলে উচ্ছেদ করা সম্ভব হয়নি। এখন বিষয়টি বিচারাধীন রয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়ায় বাড়িটি দখলমুক্ত করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
ইমাম গাজ্জালি ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা জামায়াতের আইনবিষয়ক সম্পাদক আবিদ হাসান বলেন, ‘চুক্তিতে ইজারা বাতিলের পক্ষে কোনো যুক্তি নেই। প্রশাসন ইজারা চুক্তিতে কোথাও বলেনি, এটি সুচিত্রা সেনের পৈতৃক বাড়ি ছিল। তবু সবার দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ওই বাড়িতে যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি আছে, তা রক্ষায় প্রশাসন বিকল্প ব্যবস্থা নিলে আমরা বাড়িটি ছেড়ে দেব।’

No comments

Powered by Blogger.