শিক্ষকেরা বসলেন লাল সবুজ ও কালো চেয়ারে

প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় ফল বিপর্যয়ের দিক থেকে গত বছর হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলা সারা দেশে দ্বিতীয় স্থানে ছিল। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে ও শিক্ষার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসন গত সোমবার প্রধান শিক্ষকদের নিয়ে মতবিনিময় সভা করে। এতে শিক্ষকদের জন্য নির্ধারিত লাল, সবুজ ও কালো রঙের চেয়ারে বসতে দেওয়া হয়।
যেসব বিদ্যালয়ে পাসের হার ৫০ ভাগের নিচে, সেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের লাল চেয়ারে বসানো হয়।


৫০-এর ওপরে কিন্তু শতভাগের নিচে পাসের হার এমন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের বসতে হয়েছে সবুজ চেয়ারে। আর শতভাগ পাসের হার আছে এমন বিদ্যালয়গুলোর প্রধান শিক্ষকেরা বসেছেন কালো রঙের হাতলওয়ালা চেয়ারে।
সোমবার সকালে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ওই সভার আয়োজন করা হয়। সভায় দেরিতে উপস্থিত হওয়ায় ৩৬ জন শিক্ষককে কারণ দর্শাও নোটিশ দেওয়া হয়। এর মধ্যে তিনজনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়েরের জন্য সুপারিশ করেছেন জেলা প্রশাসক।
মাধবপুর উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মিলন মিয়া বলেন, ‘ফলাফল খারাপ হওয়ার কারণেই লাল চেয়ারে বসানো হয়েছে শিক্ষকদের।’
উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান শ্রীধাম দাসগুপ্ত প্রথম আলোকে বলেন, ‘এটি শিক্ষকদের জন্য এক রকম অপমান। যে বিদ্যালয়গুলো ভালো ফল করেছে, তাদের পুরস্কার দেওয়া যেত। শিক্ষকদের যেভাবে বসানো হয়েছে, সেটি আগের দিনে জমিদারি প্রথার কথা মনে করিয়ে দেয়।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শারমিন জাহানের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক মাহমুদ হাসান। ইউএনও গতকাল মঙ্গলবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘কেউ যদি এটাকে অপমান বলে ধরে নেন, তাহলে অপমান। এর পরও শিক্ষকেরা পরিবর্তন হচ্ছেন না। আজ সকালেও শিক্ষকেরা যথাসময়ে বিদ্যালয়ে হাজির হননি।’
সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন মাধবপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জাকির হোসেন চৌধুরী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সুকুমল রায়, ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান, সাংবাদিক রোকল উদ্দিন প্রমুখ। সভায় ১৪৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, ইউপি চেয়ারম্যান ও সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা বলেন, মাধবপুরে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় মারাত্মক ফল বিপর্যয় ঘটেছে। এতে মাধবপুরবাসী লজ্জিত। ফলাফল বিপর্যয়ের দিকে সারা দেশের মধ্যে হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলা হয়েছে প্রথম। আর মাধবপুর হয়েছে দ্বিতীয়। এ ফল বিপর্যয়ের জন্য শিক্ষকদেরই দায়ী করেন বক্তারা।

No comments

Powered by Blogger.