সম্ভাবনার দ্বারে দাঁড়িয়ে by কামরুজ্জামান মিলু

তুনদের মধ্যে মডেল ও অভিনেতা হিসেবে সুপরিচিত সাবি্বর আহমেদ। তাঁর অভিনীত বেশ কিছু নাটক ও বিজ্ঞাপন বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে প্রচারিত হচ্ছে। সম্ভাবনাময় এই মডেল ও অভিনেতার সঙ্গে কথা বলে তাঁকে নিয়ে লিখেছেন কামরুজ্জামান মিলু।


'তখন আমার বয়স আট বছর। প্রায়ই দেখতাম, বাবা টেঙ্টাইল মিল থেকে বাসায় ফিরে বিশ্রাম নিতে নিতে ঘুমিয়ে পড়তেন। ঠিক তখনই সুযোগ বুঝে কৌশলে বাবার পকেট থেকে ২০ টাকা বের করে নিয়ে সোজা সিনেমা হলে দৌড় দিতাম। কিন্তু সিনেমা দেখে বেরিয়ে ভয়ে আর বাড়ি ফেরার সাহস হতো না। শুধু তা-ই নয়, বাসায় ফেরার পর আমাকে রশি দিয়ে বেঁধে উত্তম-মধ্যমও দেওয়া হতো। তবু নতুন কোনো ছবি সিনেমা হলে এলেই দৌড় দিতাম তা দেখার জন্য।'_এভাবেই শৈশবের কথা বলছিলেন সাবি্বর।
মাগুরার কেশবমোর জেলাপাড়ার ছেলে সাবি্বর। মাগুরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়া অবস্থায় ১৯৯৯ সালে 'অনন্যা থিয়েটার'-এ প্রথম মঞ্চে কাজ শুরু করেন। এরপর স্কুল-কলেজ পাড়ি দিয়ে ২০০৫ সালে ঢাকায় চলে আসেন। মঞ্চে কাজ করার নেশায় আবারও 'প্রাঙ্গণে মোর' নাট্যদলে যোগ দেন। সেখান থেকে 'শ্যামাপ্রেম' ও 'লোকনায়ক' নাটকে অভিনয় করেন।
"টিভি নাটকে অভিনয়ের সুযোগ পাওয়ার পেছনে ছোট্ট একটি গল্প আছে। ২০০৬ সালে একদিন শিল্পকলায় আড্ডার মাধ্যমে মামুনুর রশীদের ভাতিজা তারেক খানের সঙ্গে পরিচয় হয়। এরপর তাঁরই সহযোগিতায় 'প্রেম সৈনিক' নামের একটি নাটকে অভিনয়ের সুযোগ সৃষ্টি হয়। এটাই ছিল তাঁর টিভিতে অভিনীত প্রথম নাটক। এরপর সাইপ্রাসে বসবাসরত বড় ভাইয়ের (ফজলে রাব্বী) অনুপ্রেরণায় একটি ফটোসেশন করে বিভিন্ন বিজ্ঞাপন এজেন্সিতে ছবি জমা দিতে শুরু করেন। এর পরই ক্যারোট কমিউনিকেশন থেকে 'বাংলালিংক'-এর ঈদে বাড়ি যাওয়া নিয়ে একটি স্টিল বিজ্ঞাপনে প্রথম কাজ করার সুযোগ মেলে। তারপর বেশ কিছু বিজ্ঞাপনচিত্রে মডেল হিসেবে কাজ করেন। এর মধ্যে সামীর আহমেদের 'এপি দশনচূর্ণ টুথ পাউডার, তানভীর হাসানের 'মি. ম্যাঙ্গো', ফাগুন আহমেদের 'সিটিসেল জুম আল্ট্রা', অমিতাভ রেজার 'মেন্টোস চকোলেট' এবং নাফিস আহমেদের 'পাওয়ার এনার্জি ড্রিংক'-এর বিজ্ঞাপনে দারুণ জনপ্রিয়তা পাই।" বলছিলেন এ নবীন অভিনেতা।
মডেলিং নিয়ে ব্যস্ততা থাকলেও পড়াশোনায় কখনোই অবহেলা করেননি তিনি। ২০০৮ সালে মডেলিংয়ের পাশাপাশি কবি কাজী নজরুল ইসলাম কলেজ থেকে হিসাববিজ্ঞানে অনার্স সম্পন্ন করেন। পড়াশোনার চাপ কমার সঙ্গে সঙ্গে অভিনয়ের চাপটা বেড়ে যায় আগের চেয়ে। বেশ কিছু এক ঘণ্টার এবং ধারাবাহিক নাটকে টানা অভিনয় করেছেন। তাঁর অভিনীত ও প্রচারিত নাটকের তালিকায় আছে রুমানা রশিদ ঈশিতার 'একা', লুৎফুন্নাহার মৌসুমীর '১০০ মিটার', চয়নিকা চৌধুরীর 'আঁচড়', আশরাফুল আলম রিপনের 'মনে পড়ে রুবি রায়', 'পোস্টার' ও 'বন্ধুতা', সুমন আনোয়ারের 'ডোরাকাটা', আবু সাইয়ীদের 'পাশাপাশি' ইত্যাদি। এ ছাড়া আসছে ঈদে প্রচারের অপেক্ষায় রয়েছে বেশ কিছু নাটক। এর মধ্যে কৌশিক শংকর দাসের 'আংশিক নয় পুরো সত্য', মামুনুর রশীদের 'আওয়াজ', রিপন নবীর 'সাগরনীল', মিন্টু কৌরির 'মামার ব্রেকিং নিউজ', আতিকুল চৌধুরীর 'দৃষ্টি বালিকা ও শেষ বিকেলে', রিয়াজুল রিজুর 'ঘুম নেই', আহমেদ সুষ্ময়ের 'লাভ ইন দ্য সিটি' এবং সোহাগের 'রাজধানী'। নাটকগুলো এবার ঈদে বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে প্রচারিত হবে।
অভিনয়টা বেশি উপভোগ করেন সাবি্বর। তাই ভবিষ্যতে চলচ্চিত্রেও কাজ করার ইচ্ছা আছে তাঁর। এ ব্যাপারে সাবি্বর বলেন, 'শিল্পের বড় জায়গা হচ্ছে চলচ্চিত্র। শিল্পীর বিকাশ ঘটে চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে। তাই চরিত্র বুঝে ভালো কোনো চলচ্চিত্রে অভিনয় করতে চাই।'
পরিবারের পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে সবার ছোট সাবি্বর। কাজের বাইরে ব্যক্তিগত জীবনে অবসর পেলেই বই পড়েন এবং প্রচুর মুভি দেখেন।
কাজের ব্যস্ততার মাঝেও এ বছর হিসাববিজ্ঞানে মাস্টার্স সম্পন্ন করেছেন তিনি। যে চরিত্রে প্রাণ আছে এবং যে চরিত্রের মাধ্যমে মানুষের খুব কাছে পেঁৗছা যায়, ঠিক এমন চরিত্রেই অভিনয় করার ইচ্ছা আছে তাঁর।
অভিনয় ও মডেলিং নিয়েই থাকতে চান সাবি্বর। অন্য কোনো ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা আছে কি না_এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'না, আমি এই জায়গাটাতেই থাকতে চাই। কারণ, নাটক ও চলচ্চিত্র হচ্ছে সমাজ পরিবর্তনের হাতিয়ার। এই হাতিয়ারকে সামনে রেখে কাজ করছি এবং ভবিষ্যতেও কাজ করে যেতে চাই।'

No comments

Powered by Blogger.