আবার টাইব্রেকার নাটক-সেমিতে শেখ জামাল

টানা দুই দিন একই ছবি। ১২০ মিনিটের উত্তেজনায় ঠাসা লড়াই ২-২। তারপর পিনপতন নীরবতায় টাইব্রেকারে নিষ্পত্তি। আগের সন্ধ্যায় বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের এই মঞ্চে টাইব্রেকারে হেসেছিল মুক্তিযোদ্ধা। কাল হাসল শেখ জামাল ধানমন্ডি। একরাশ হতাশা নিয়ে ক্লাবে ফিরে গেল চ্যাম্পিয়ন আবাহনী।


আবাহনীর এই বিদায় ফেডারেশন কাপের ইতিহাসেই সম্ভবত একটা ‘প্রথম’ যোগ করে দিয়েছে। মৌসুমসূচক এই টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে আবাহনী-মোহামেডান নেই—এর আগে এমন হয়েছে বলে মনে করতে পারলেন না কেউই।
আবাহনী ভাগ্যকে দুষতেই পারে। দুবার বল বারে লেগেছে। দুবার পিছিয়ে পড়েও দারুণভাবে ম্যাচে ফিরেছে। টাইব্রেকারে দুবার পিছিয়েও আবার ফেরা, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সাডেন ডেথের প্রথম শটে অধিনায়ক সামাদ ইউসুফ গোল করতে পারলেন না। তারই সৌজন্যে আকাশি-নীলদের জন্যটি হয়ে গেল দুঃখের রাত।
গতবার এই আবাহনীর কাছেই ফেডারেশন কাপের ফাইনালে শেখ জামাল হেরেছিল ৫-৩ গোলে। এবার প্রতিশোধ নেওয়া গেল। আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণে ম্যাচটা ছিল দারুণ গতিময়। অনেক দিন পর মনে রাখার মতো ম্যাচ। আর এমন দিনেই পোস্টের নিচে নায়ক আমিনুল। শেখ জামালের গোলরক্ষক টাইব্রেকারে আটকে দিয়েছেন আবাহনীর দুটি শট।
ফ্রাঙ্ক, ওয়ালী ও ইব্রাহিম টাইব্রেকারে গোল পেয়েছেন। রনির চতুর্থ শটটা রুখেছেন আমিনুল। এরপর টাইব্রেকারে যাঁর গোল মিস করার ঘটনা খুবই কম, সেই সুজন মারলেন বাইরে। সাডেন ডেথে সামাদের দুর্বল শট বাঁদিকে ঝাঁপিয়ে আটকালেন আমিনুল।
শেখ জামালের টমাস, ফেমি ও সবুজ গোল করেছেন। কোমলের শট রুখে দেন আবাহনীর গোলরক্ষক সোহেল। পঞ্চম শটটা ইসা মারলেন বাইরে। এরপর সেই মুহূর্ত। সাডেন ডেথে মিশুর গোল উল্লাসে ভাসিয়েছে শেখ জামালকে।
হতাশ আবাহনীর কোচ আলী আকবর পোরমুসলিমি বললেন, ‘নির্ধারিত সময়েই জেতার কথা আমাদের। আমরা টাইব্রেকারে কেন যাব? ভাগ্যই হারিয়েছে আমাদের।’ শেখ জামালের কোচ সাইফুল বারীও মানলেন, ‘ফুটবলে জিততে ভাগ্যও লাগে। সেটি আজ আমাদের সঙ্গে ছিল।’
দুটি ফ্রিকিক থেকে আবাহনী প্রতিপক্ষকে গোল উপহার দিয়েছে। মার্কিং ঠিকমতো না করায় জামালের গোল দুটি করেছেন নাইজেরিয়ার স্ট্রাইকার অ্যালেন। ১-০ হওয়ার পর পরই আবাহনীকে ম্যাচে ফেরান নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ফেরা জাহিদ। দারুণ শটে ইব্রাহিম করে দেন ২-২। কিন্তু দলকে জেতাতে না পারার আক্ষেপই সঙ্গী হলো তাঁর।
শেখ জামাল: আমিনুল, ইউসুফ, মিশু, রায়হান, কোমল, শরীফ (সোহেল), রাজু (সোহেল রানা), ফেমি (সবুজ) টমাস ইউকো, ইউসুফ ইশা, অ্যালেন।
আবাহনী: সোহেল, সামাদ ইউসুফ, সুজন, ওয়ালী, নাসির, প্রাণতোষ, আরমান আজিজ (তৌহিদ), জাহিদ (রনি), ইব্রাহিম, ফ্রাঙ্ক, লাকি পল।

No comments

Powered by Blogger.