ভিন্নমত-শেয়ারবাজার : রেগুলেটর এসইসি যেসব ক্ষেত্রে ভুল করছে by আবু আহমেদ
আমাদের শেয়ারবাজারে ২০১০ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বরে যে বিপর্যয় নামল, তা মূলত রেগুলেটরি তথা তদারকির ভুলের জন্যই নেমেছিল। সেদিনের সেই এসইসি কোনো সৎ পরামর্শ শোনেনি, দৃঢ় অবস্থান নিতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে বাজারের শক্তিশালী প্লেয়াররা শেয়ারবাজারকে নিজেদের পক্ষে ইচ্ছামতো ব্যবহার করতে সক্ষম হলো।
ভাগ্য ভালো যে বিপর্যয়টা ৮৯০০ সূচকে চলে এসেছিল, দেরি হলে আরো বেশি সর্বনাশ হতো। এসইসির ভুলের মধ্যে ছিল_
এক. অতিমূল্যে আইপিও তথা গণ-অফার বেচতে দেওয়া। দুই. বাজার অতিমূল্যায়নের মুখেও মার্জিন ঋণ তথা ঋণ করে শেয়ার কেনা বন্ধ করতে না পারা। তিন. রাইট ও বোনাস শেয়ার সমানে অনুমোদন দেওয়া। চার. সন্দেহজনক ক্ষেত্রে নিজস্ব অডিটর কর্তৃক, ইস্যুয়ার কর্তৃক পেশকৃত স্থিতিপত্র ও আয়-ব্যয়ের হিসাব পুনঃপরীক্ষা করতে ব্যর্থ হওয়া। পাঁচ. প্রেফারেন্স শেয়ার গড় মূল্যে অর্ডিনারি শেয়ারে রূপান্তরের সুযোগ দেওয়া। ছয়. বেসরকারি কম্পানিকে ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের মাধ্যমে বাজার থেকে অর্থ তুলতে দেওয়া। সাত. অত তাড়াতাড়ি অতগুলো মিউচ্যুয়াল ফান্ডকে অনুমতি দেওয়া এবং মিউচ্যুয়াল ফান্ডকে বিনিয়োগের নিরাপদ হাতিয়ার হিসেবে চালিয়ে দেওয়া। আট. ক্লোজড-ইন্ড মিউচ্যুয়াল ফান্ডে বোনাস-রাইট ইউনিটস ইস্যু করতে দেওয়া এবং ক্লোজড-ইন্ড মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মেয়াদকাল স্পষ্ট করে বিনিয়োগকারীদের না জানানো। ৯. ঢালাওভাবে ইস্যুয়ার বা সম্ভাব্য ইস্যুয়ার কর্তৃক প্লেসমেন্টে আইপিও বেচতে দেওয়া। প্লেসমেন্টের নামে কার্ব মার্কেট গড়ে উঠতে দেওয়া। ১০. আন্ডাররাইটিং বা অবলেখন স্থগিত রাখা; তদস্থলে শত শত কোটি টাকার প্লেসমেন্ট বাণিজ্য করতে দেওয়া। ১১. জেলা-উপজেলা পর্যন্ত ব্রোকার হাউস সম্প্রসারিত হতে দেওয়া, যার ফলে মাত্র দুই বছরে ১৫ লাখ নতুন বিনিয়োগকারী চাহিদার দিকটা ভারী করতে সক্ষম হলো।
আমরা অনেক দিন ধরেই বলে আসছিলাম, শেয়ারবাজার শক্তিশালী করা হোক, এই বাজারকে আমাদের অর্থনীতির উন্নয়নের জন্য পুঁজি সংগ্রহের মূল কেন্দ্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হোক। এই বাজারের মাধ্যমে আমাদের হোটেল, ব্রিজ, বন্দরকে লাখ লাখ মানুষের কাছে বিক্রি করে সে পুঁজি নিয়ে আরো ব্রিজ, হোটেল, বন্দর নির্মাণ করা হোক। কিন্তু সনাতন ব্যুরোক্র্যাট এভাবে অর্থ সংগ্রহ করতে অভ্যস্ত নয়।
রাজনৈতিক নেতৃত্বও শেয়ারবাজারের গুরুত্ব বুঝতে বারবার ব্যর্থ হয়েছে। কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ চেম্বারগুলো ব্যস্ত স্বল্প মেয়াদে সরকার থেকে কিছু প্রণোদনা লাভের দৌড়ে। রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্যে একটি শ্রেণী সরকারি খাতের অতিরিক্ত ভক্ত এবং লোকসানি শিল্প-কারখানাগুলো পুনরায় চালু করতে গিয়ে জাতির ঘাড়ে আরো বড় লোকসানের বোঝা তুলে দিয়েছে। আমরা উন্নয়নটা ছেড়ে দিয়েছি ক্ষুদ্রঋণ তথা সুদে মাইক্রোক্রেডিট বিক্রেতাদের কাছে। আর বড় শিল্প স্থাপনের ক্ষেত্রে বিদেশি ঋণ ও ব্যাংকঋণের মাধ্যমে অর্থ জোগানোর মাধ্যমে। আবার এর সঙ্গে বর্তমানে যোগ হয়েছে সাপ্লায়ার্স ক্রেডিট নামে অতিরিক্ত মূল্যের অর্থায়ন প্রক্রিয়া। এই দুর্ভাগা অর্থনীতি যেখানে ৭ থেকে ৭.৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারত, সে অর্থনীতি ৬ থেকে ৬.৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়েই যেন মহাতুষ্ট। যে ৩৩ লাখ বিনিয়োগকারী বুঝে হোক, না বুঝে হোক তাদের সঞ্চয় নিয়ে, ঝুঁকি নিয়ে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগে এগিয়ে এসেছিল। সরকারের উচিত ছিল তাদের বাজারে ধরে রাখা। তাদের উদ্যম ও বাড়তি সঞ্চয়ের জোগান আমাদের অর্থনীতিকে অবশ্যই আরো বেশি গতিতে সামনে এগিয়ে দিত। আজকে জাতীয় অর্থনীতিতে বিনিয়োগ হচ্ছে জিডিপির ২৫ থেকে ২৬ শতাংশ। শেয়ারবাজার কার্যকর থাকলে এই বিনিয়োগ হতো ৩০ থেকে ৩২ শতাংশ। তখন ৭ থেকে ৭.৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করা মোটেই কঠিন হতো না।
দুর্ভাগ্য হলো, ভুল পলিসি গ্রহণ করতে গিয়ে এবং কিছু ধুরন্ধর উদ্যোক্তাকে এই বাজার থেকে অতিরিক্ত অর্থ তুলতে সুযোগ করে দেওয়ার মাধ্যমে শেয়ারবাজারে ধসটা ত্বরান্বিত হলো এবং লাখ লাখ খুদে বিনিয়োগকারী পুঁজি হারিয়ে পথে বসে গেল। আজ যে শেয়ারবাজারে আকাল যাচ্ছে, এটা মূলত ওরা নেই বলে। যা হোক, সরকার বাজারের মহাধসের পর রেগুলেটরকে পুনর্গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। কিন্তু আমরা পুনরুৎকণ্ঠার সঙ্গে লক্ষ করলাম, ওই সংস্থা পুনর্গঠিত হয়েছে কেবল আংশিক। পাঁচজন লোকের স্থলে নতুন করে পাঁচজন লোক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে মাত্র। এই সংস্থায় আরো প্রফেশনাল লোক নিয়োগ দেওয়া অতি জরুরি। কিন্তু বেতন-ভাতার যে অবকাঠামো বর্তমানে আছে, তাতে কোনো সৎ প্রফেশনাল লোক সেখানে চাকরি নিয়ে যাবে না। সে জন্যই সরকার অনেক খোঁজাখুঁজি করেও উপযুক্ত লোক পায় না! বর্তমান এসইসি আশা করি পুরনো ভুলগুলো থেকে শিখবে। দৃঢ় অবস্থান নেওয়ার ক্ষেত্রে এই এসইসি কোনো রকম কম্প্রোমাইজ করবে না। কিছু ক্ষেত্রে নতুন এসইসিকে খেয়াল রাখার পরামর্শ দিচ্ছি_
এক. তারা যে আইপিও অনুমোদন করতে যাচ্ছে, সেই আইপিও তো বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে আসবে। ভালো কথা। তবে যারা ভালো ইপিএস দেখিয়ে বেশি প্রিমিয়ামে আইপিও বেচতে চায়, তারা আয় অনুপাতে সরকারকে ট্যাঙ্ দিয়েছে কি না সেটা দেখা। তারা তাদের ইস্যুটি, তথা পেইড-আপ ক্যাপিটাল কখন বাড়িয়েছে, সেটাও পরীক্ষা করা দরকার। অনেক চালাক ইস্যুয়ার শুধু বেশি শেয়ার বেচার জন্য অ্যাসেট রিভ্যালু করে আইপিও বেচতে তৎপর হয়েছে। এ ক্ষেত্রে এসইসির ভূমিকা আরো কঠিন হওয়া উচিত। যারা বেআইনিভাবে প্লেসমেন্টে শেয়ার বিক্রি করেছে, সেসব ইস্যুয়ারকে অতিরিক্ত প্রিমিয়ামের বিপরীতে সুদসহ প্লেসমেন্ট ক্রেতাকে অর্থ ফেরত দিতে বাধ্য করা। যেসব অডিটর ও ভ্যালুয়ার প্রচলিত মান উপেক্ষা করে রিপোর্ট জমা দিয়েছে, তাদের কালো তালিকাভুক্ত করা। প্রেফারেন্স শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ক্ষেত্রে স্পষ্ট নীতিমালা তৈরি করে দেওয়া। মিউচ্যুয়াল ফান্ড ব্যক্তিগত বিও অ্যাকাউন্ট অপারেট করা থেকে বিরত রাখা। কম্পানির উদ্যোক্তাদের ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ শেয়ার ধারণ করতে রেগুলেশন জারি করা। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনে কম্পানি আইন সংশোধন করা যেতে পারে। কম্পানিগুলোকে নিজেদের শেয়ার নিয়ে ব্যবসা করা থেকে দূরে রাখা। আয় হলেই যে বোনাস শেয়ার ইস্যু করা যেতে পারে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত থেকে কম্পানিগুলোকে বিরত রাখা। কোনো দেশেই বিজনেস প্ল্যান ছাড়া বোনাস শেয়ার ইস্যু করা ইক্যুইটি তথা শেয়ার ক্যাপিটাল বাড়াতে দেওয়া হয় না। আমাদের এই বাজারে ইস্যুয়ার নিজে অতিরিক্ত শেয়ার বেচে লাভবান হওয়ার জন্য বোনাস শেয়ার ইস্যু করে। আরো অনেক কথা আছে। পরে কখনো লিখব।
লেখক : অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, অর্থনীতিবিদ ও শেয়ারবাজার বিশ্লেষক
এক. অতিমূল্যে আইপিও তথা গণ-অফার বেচতে দেওয়া। দুই. বাজার অতিমূল্যায়নের মুখেও মার্জিন ঋণ তথা ঋণ করে শেয়ার কেনা বন্ধ করতে না পারা। তিন. রাইট ও বোনাস শেয়ার সমানে অনুমোদন দেওয়া। চার. সন্দেহজনক ক্ষেত্রে নিজস্ব অডিটর কর্তৃক, ইস্যুয়ার কর্তৃক পেশকৃত স্থিতিপত্র ও আয়-ব্যয়ের হিসাব পুনঃপরীক্ষা করতে ব্যর্থ হওয়া। পাঁচ. প্রেফারেন্স শেয়ার গড় মূল্যে অর্ডিনারি শেয়ারে রূপান্তরের সুযোগ দেওয়া। ছয়. বেসরকারি কম্পানিকে ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের মাধ্যমে বাজার থেকে অর্থ তুলতে দেওয়া। সাত. অত তাড়াতাড়ি অতগুলো মিউচ্যুয়াল ফান্ডকে অনুমতি দেওয়া এবং মিউচ্যুয়াল ফান্ডকে বিনিয়োগের নিরাপদ হাতিয়ার হিসেবে চালিয়ে দেওয়া। আট. ক্লোজড-ইন্ড মিউচ্যুয়াল ফান্ডে বোনাস-রাইট ইউনিটস ইস্যু করতে দেওয়া এবং ক্লোজড-ইন্ড মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মেয়াদকাল স্পষ্ট করে বিনিয়োগকারীদের না জানানো। ৯. ঢালাওভাবে ইস্যুয়ার বা সম্ভাব্য ইস্যুয়ার কর্তৃক প্লেসমেন্টে আইপিও বেচতে দেওয়া। প্লেসমেন্টের নামে কার্ব মার্কেট গড়ে উঠতে দেওয়া। ১০. আন্ডাররাইটিং বা অবলেখন স্থগিত রাখা; তদস্থলে শত শত কোটি টাকার প্লেসমেন্ট বাণিজ্য করতে দেওয়া। ১১. জেলা-উপজেলা পর্যন্ত ব্রোকার হাউস সম্প্রসারিত হতে দেওয়া, যার ফলে মাত্র দুই বছরে ১৫ লাখ নতুন বিনিয়োগকারী চাহিদার দিকটা ভারী করতে সক্ষম হলো।
আমরা অনেক দিন ধরেই বলে আসছিলাম, শেয়ারবাজার শক্তিশালী করা হোক, এই বাজারকে আমাদের অর্থনীতির উন্নয়নের জন্য পুঁজি সংগ্রহের মূল কেন্দ্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হোক। এই বাজারের মাধ্যমে আমাদের হোটেল, ব্রিজ, বন্দরকে লাখ লাখ মানুষের কাছে বিক্রি করে সে পুঁজি নিয়ে আরো ব্রিজ, হোটেল, বন্দর নির্মাণ করা হোক। কিন্তু সনাতন ব্যুরোক্র্যাট এভাবে অর্থ সংগ্রহ করতে অভ্যস্ত নয়।
রাজনৈতিক নেতৃত্বও শেয়ারবাজারের গুরুত্ব বুঝতে বারবার ব্যর্থ হয়েছে। কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ চেম্বারগুলো ব্যস্ত স্বল্প মেয়াদে সরকার থেকে কিছু প্রণোদনা লাভের দৌড়ে। রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্যে একটি শ্রেণী সরকারি খাতের অতিরিক্ত ভক্ত এবং লোকসানি শিল্প-কারখানাগুলো পুনরায় চালু করতে গিয়ে জাতির ঘাড়ে আরো বড় লোকসানের বোঝা তুলে দিয়েছে। আমরা উন্নয়নটা ছেড়ে দিয়েছি ক্ষুদ্রঋণ তথা সুদে মাইক্রোক্রেডিট বিক্রেতাদের কাছে। আর বড় শিল্প স্থাপনের ক্ষেত্রে বিদেশি ঋণ ও ব্যাংকঋণের মাধ্যমে অর্থ জোগানোর মাধ্যমে। আবার এর সঙ্গে বর্তমানে যোগ হয়েছে সাপ্লায়ার্স ক্রেডিট নামে অতিরিক্ত মূল্যের অর্থায়ন প্রক্রিয়া। এই দুর্ভাগা অর্থনীতি যেখানে ৭ থেকে ৭.৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারত, সে অর্থনীতি ৬ থেকে ৬.৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়েই যেন মহাতুষ্ট। যে ৩৩ লাখ বিনিয়োগকারী বুঝে হোক, না বুঝে হোক তাদের সঞ্চয় নিয়ে, ঝুঁকি নিয়ে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগে এগিয়ে এসেছিল। সরকারের উচিত ছিল তাদের বাজারে ধরে রাখা। তাদের উদ্যম ও বাড়তি সঞ্চয়ের জোগান আমাদের অর্থনীতিকে অবশ্যই আরো বেশি গতিতে সামনে এগিয়ে দিত। আজকে জাতীয় অর্থনীতিতে বিনিয়োগ হচ্ছে জিডিপির ২৫ থেকে ২৬ শতাংশ। শেয়ারবাজার কার্যকর থাকলে এই বিনিয়োগ হতো ৩০ থেকে ৩২ শতাংশ। তখন ৭ থেকে ৭.৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করা মোটেই কঠিন হতো না।
দুর্ভাগ্য হলো, ভুল পলিসি গ্রহণ করতে গিয়ে এবং কিছু ধুরন্ধর উদ্যোক্তাকে এই বাজার থেকে অতিরিক্ত অর্থ তুলতে সুযোগ করে দেওয়ার মাধ্যমে শেয়ারবাজারে ধসটা ত্বরান্বিত হলো এবং লাখ লাখ খুদে বিনিয়োগকারী পুঁজি হারিয়ে পথে বসে গেল। আজ যে শেয়ারবাজারে আকাল যাচ্ছে, এটা মূলত ওরা নেই বলে। যা হোক, সরকার বাজারের মহাধসের পর রেগুলেটরকে পুনর্গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। কিন্তু আমরা পুনরুৎকণ্ঠার সঙ্গে লক্ষ করলাম, ওই সংস্থা পুনর্গঠিত হয়েছে কেবল আংশিক। পাঁচজন লোকের স্থলে নতুন করে পাঁচজন লোক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে মাত্র। এই সংস্থায় আরো প্রফেশনাল লোক নিয়োগ দেওয়া অতি জরুরি। কিন্তু বেতন-ভাতার যে অবকাঠামো বর্তমানে আছে, তাতে কোনো সৎ প্রফেশনাল লোক সেখানে চাকরি নিয়ে যাবে না। সে জন্যই সরকার অনেক খোঁজাখুঁজি করেও উপযুক্ত লোক পায় না! বর্তমান এসইসি আশা করি পুরনো ভুলগুলো থেকে শিখবে। দৃঢ় অবস্থান নেওয়ার ক্ষেত্রে এই এসইসি কোনো রকম কম্প্রোমাইজ করবে না। কিছু ক্ষেত্রে নতুন এসইসিকে খেয়াল রাখার পরামর্শ দিচ্ছি_
এক. তারা যে আইপিও অনুমোদন করতে যাচ্ছে, সেই আইপিও তো বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে আসবে। ভালো কথা। তবে যারা ভালো ইপিএস দেখিয়ে বেশি প্রিমিয়ামে আইপিও বেচতে চায়, তারা আয় অনুপাতে সরকারকে ট্যাঙ্ দিয়েছে কি না সেটা দেখা। তারা তাদের ইস্যুটি, তথা পেইড-আপ ক্যাপিটাল কখন বাড়িয়েছে, সেটাও পরীক্ষা করা দরকার। অনেক চালাক ইস্যুয়ার শুধু বেশি শেয়ার বেচার জন্য অ্যাসেট রিভ্যালু করে আইপিও বেচতে তৎপর হয়েছে। এ ক্ষেত্রে এসইসির ভূমিকা আরো কঠিন হওয়া উচিত। যারা বেআইনিভাবে প্লেসমেন্টে শেয়ার বিক্রি করেছে, সেসব ইস্যুয়ারকে অতিরিক্ত প্রিমিয়ামের বিপরীতে সুদসহ প্লেসমেন্ট ক্রেতাকে অর্থ ফেরত দিতে বাধ্য করা। যেসব অডিটর ও ভ্যালুয়ার প্রচলিত মান উপেক্ষা করে রিপোর্ট জমা দিয়েছে, তাদের কালো তালিকাভুক্ত করা। প্রেফারেন্স শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ক্ষেত্রে স্পষ্ট নীতিমালা তৈরি করে দেওয়া। মিউচ্যুয়াল ফান্ড ব্যক্তিগত বিও অ্যাকাউন্ট অপারেট করা থেকে বিরত রাখা। কম্পানির উদ্যোক্তাদের ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ শেয়ার ধারণ করতে রেগুলেশন জারি করা। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনে কম্পানি আইন সংশোধন করা যেতে পারে। কম্পানিগুলোকে নিজেদের শেয়ার নিয়ে ব্যবসা করা থেকে দূরে রাখা। আয় হলেই যে বোনাস শেয়ার ইস্যু করা যেতে পারে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত থেকে কম্পানিগুলোকে বিরত রাখা। কোনো দেশেই বিজনেস প্ল্যান ছাড়া বোনাস শেয়ার ইস্যু করা ইক্যুইটি তথা শেয়ার ক্যাপিটাল বাড়াতে দেওয়া হয় না। আমাদের এই বাজারে ইস্যুয়ার নিজে অতিরিক্ত শেয়ার বেচে লাভবান হওয়ার জন্য বোনাস শেয়ার ইস্যু করে। আরো অনেক কথা আছে। পরে কখনো লিখব।
লেখক : অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, অর্থনীতিবিদ ও শেয়ারবাজার বিশ্লেষক
No comments