হাসপাতালে দুর্ভোগ-সেবাতেও মেলে উৎসবের পূর্ণতা

টানা ছুটিতে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসক ও সেবিকার কম উপস্থিতির কারণে রোগীদের দুর্ভোগ চরমে_ এমন খবর নতুন নয়। প্রায় প্রতি ঈদেই এমন খবর আমরা পড়ে থাকি। সাধারণ রোগী তো বটেই, সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদেরও জরুরি বিভাগে গিয়ে চিকিৎসাহীন পড়ে থাকতে দেখা যায়। সারাদেশ যখন উৎসবে মগ্ন থাকে, তখন হাসপাতালে তৈরি হয় করুণ চিত্র। এবার ঈদের তিন দিনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি।


ফলে হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক ও সেবিকা সংকট দীর্ঘায়িত হয়েছে। কোথাও কোথাও সেবা কাজ চলেছে ওয়ার্ডবয় ও পরিচ্ছন্নতা কর্মীর মাধ্যমে। আমরা অস্বীকার করব না যে হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসক ও সেবিকাদেরও উৎসব পালনের অধিকার রয়েছে। কিন্তু মানুষের জীবন-মরণের প্রশ্ন যেখানে জড়িত, সেখানে অন্য যে কোনো প্রয়োজনই গৌণ হতে বাধ্য। দুর্ভাগ্যক্রমে ঈদের ছুটিতে হাসপাতালগুলো মানবতার সেই দাবির প্রতি যথাযথ সাড়া দিতে ব্যর্থ হয়েছে। কিছু হাসপাতালের জরুরি বিভাগ বন্ধ থাকার যে অভিযোগ পাওয়া গেছে, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। উৎসবে কিংবা দুর্যোগে_ সদা প্রস্তুত থাকাই যেখানে জরুরি বিভাগ স্থাপনের মূল উদ্দেশ্য, সেখানে এমন চিত্র কেবল হতাশাই বৃদ্ধি করে। ঈদের মতো গণছুটিতে বরং জরুরি বিভাগে বাড়তি তৎপরতাই জরুরি। কারণ ঈদের মতো গণছুটিতে স্বাভাবিকের বেশ কয়েক গুণ মানুষ ঝুঁকি নিয়ে দেশের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াত করে থাকে। দুর্ঘটনার সংখ্যাও বেড়ে যায়। এও মনে রাখা জরুরি, গণউৎসব ও ছুটির সময় কেউ সামান্য অসুবিধা নিয়ে হাসপাতালে হাজির হয় না। আবার তাদের সংখ্যা খুব বেশিও নয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সামান্য বাড়তি ব্যবস্থা অনেককে নতুন জীবনদান করতে পারে। সেবার ব্রত নিয়ে চিকিৎসা পেশায় আসা মানুষের জন্য মুমূর্ষু কাউকে সুস্থ করার চেয়ে আনন্দের বিষয় আর কী হতে পারে? অথচ সমকালের প্রতিবেদনে জানা যাচ্ছে, ঈদের ছুটিতে জরুরি সেবা জোরদার করার সরকারি নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও কোনো কোনো হাসপাতালে তা মানা হয়নি। আমরা চাই, এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করুক। কোন কোন হাসপাতালের জরুরি বিভাগ বন্ধ ছিল কিংবা খোলা থাকলেও চিকিৎসক ও সেবিকা অনুপস্থিত ছিল, তা চিহ্নিত করা হোক। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উচিত হবে, বিভিন্ন উৎসব ও ছুটির সময় হাসপাতালের সেবা কার্যক্রম যাতে সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হয়, সে জন্য একটি স্থায়ী ব্যবস্থা প্রবর্তন করা। এ জন্য খুব বেশি আয়োজনেরও প্রয়োজন নেই। এ ক্ষেত্রে আমাদের হাসপাতালগুলো ইলেকট্রনিক সংবাদ মাধ্যমের প্রতি দৃষ্টি দিতে পারে। এর কর্মীরা ঈদের ছুটিতে যেভাবে নিরন্তর কাজ করে যান, তা নিঃসন্দেহে শিক্ষণীয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ উৎসব ও টানা ছুটির সময় দায়িত্ব পালনরত চিকিৎসক ও সেবিকাদের আকর্ষণীয় ভাতা প্রদান করতে পারে। তাতে করে সেবার মানসিক প্রশান্তির সঙ্গে যুক্ত হবে বাড়তি আনন্দ। আমরা প্রত্যাশা করি, ঈদের সময় হাসপাতালে চিকিৎসা ব্যাহত করে ছুটি ভোগের যে অনাকাঙ্ক্ষিত মনোবৃত্তি আমরা বছরের পর বছর বহন করে চলছি, তা ত্যাগ করার সময় হয়েছে। দুই মাস পর আরেকটি ঈদ আসছে। তখন এবারের পুনরাবৃত্তি দেখতে চাই না।
 

No comments

Powered by Blogger.