গুলিতে বিএসপিআইয়ের ছাত্র নিহত-কাপ্তাইয়ে চার ছাত্রসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে পুলিশের মামলা
রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে বাংলাদেশ সুইডেন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের (বিএসপিআই) ছাত্রদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনায় চার ছাত্রসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। তবে ছাত্র হত্যার ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি। ইনস্টিটিউট কর্তৃপক্ষের নির্দেশে শিক্ষার্থীরা গতকাল ছাত্রাবাস ছেড়ে গেছেন। শিক্ষা কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।
সংঘর্ষে নিহত সাঈদ কায়সার রায়হানের মরদেহ গতকাল চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার বানুয়া গ্রামে তাঁর পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) বিশ্বাস আফজাল হোসেন গতকাল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ইনস্টিটিউটের পাশের সড়কে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
কাপ্তাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইউসুফ সিদ্দিকী জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় চার ছাত্রসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ইব্রাহিম খলিল। আসামিরা হলেন: বিএসপিআইয়ের ছাত্র শাকিল, মাসুম, রাকিব ও ভুবন। অন্য দুই আসামি হলেন মানিক ও আরাফাত। এর মধ্যে মানিক স্থানীয়। আর কাপ্তাইয়ের বাইরের বাসিন্দা আরাফাত বিএসপিআইয়ে তাঁর এক বন্ধুর কাছে বেড়াতে এসে কয়েক দিন ধরে ক্যাম্পাসে অবস্থান করছিলেন। তাঁদের বিরুদ্ধে পুলিশের ওপর হামলা, কাজে বাধা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানো, জনগণের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করাসহ বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়েছে।
সংঘর্ষের জের ধরে গতকাল কাপ্তাই সদর থেকে লিচুবাগান পর্যন্ত যান চলাচল বন্ধ ছিল। কাপ্তাই নতুন বাজারের অনেক দোকানপাটও বন্ধ থাকে।
বেলা ১১টার দিকে বিএসপিআই ক্যাম্পাসে গিয়ে এর পাশের সড়কে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন থাকতে দেখা যায়। ক্যাম্পাসে কোনো শিক্ষার্থীকে পাওয়া যায়নি। কায়সার হত্যার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে পোস্টার সাঁটানো রয়েছে। ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ মোছাদ্দেকুল বারিকে কয়েকজন শিক্ষকসহ তাঁর কক্ষে বসে থাকতে দেখা যায়। অধ্যক্ষ জানান, ‘আজ (মঙ্গলবার) সকাল আটটার মধ্যে শিক্ষার্থীদের ছাত্রাবাস ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। শিক্ষা-কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়েছে।’ তিনি জানান, গুলিতে নিহত হওয়া ছাত্রের নাম সাইদ কায়সার। তাঁর বাবার নাম আবদুল মান্নান, মা জয়নব বেগম। কায়সার নিহত হওয়ার ঘটনায় ইনস্টিটিউটের পক্ষ থেকে মামলা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল দুপুর দুইটার দিকে গ্রামের বাড়ি বানুয়া গ্রামে জানাজার পর কায়সারের মরদেহ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। জানাজায় ইনস্টিটিউটের শিক্ষকেরাও অংশ নেন।
অতিরিক্ত ডিআইজি আফজাল হোসেন গতকাল দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, কোন পরিস্থিতিতে এবং কার নির্দেশে পুলিশ গুলি করেছে, তদন্ত শেষে তা জানা যাবে। এ ঘটনায় কেউ অপরাধী প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গত সোমবার কাপ্তাই নতুন বাজার এলাকায় দ্রুতগতিতে মোটরসাইকেল চালানোয় বিএসপিআইয়ের এক ছাত্রসহ দুজনকে থামার নির্দেশ দেন কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নুরুজ্জামান। একজন পালিয়ে গেলেও আরাফাতকে আটক করে পুলিশ। ইউএনও তাৎক্ষণিক ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে আরাফাতকে তিন দিন পুলিশ হেফাজতে রাখার ও ৩০০ টাকা জরিমানার আদেশ দেন। এ খবরে ইনস্টিটিউট থেকে শতাধিক ছাত্র এসে আরাফাতকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান কায়সার।
No comments