কোনো বিক্ষোভ হয়নি-আরও পড়ল বাজার

ড় দরপতনের ধারা অব্যাহত রয়েছে দেশের শেয়ারবাজারে। প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাধারণ মূল্যসূচক গতকাল মঙ্গলবার প্রায় ২ দশমিক ৮৬ শতাংশ বা ১৩৩ পয়েন্ট কমেছে। এর ফলে চলতি সপ্তাহের তিন কার্যদিবসে ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচক কমেছে প্রায় ৪৪০ পয়েন্ট।


অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক গতকাল প্রায় ২ দশমিক ১৭ শতাংশ বা ২৯২ পয়েন্ট কমে গেছে। গত তিন কার্যদিবসে সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক কমেছে প্রায় এক হাজার ৬৬ পয়েন্ট।
টানা দরপতনে ঢাকার বাজারের সাধারণ মূল্যসূচক গতকাল দিন শেষে নেমে এসেছে প্রায় সাড়ে চার হাজার পয়েন্টে। এটি গত প্রায় ২৫ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। এর আগে ২০০৯ সালের ২৭ ডিসেম্বর ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচক চার হাজার ৪৭৫ পয়েন্টের সর্বনিম্ন অবস্থানে ছিল। সেই হিসাবে ঢাকার বাজারের সাধারণ মূল্যসূচক ২০০৯ সালের ডিসেম্বর মাসের অবস্থানে ফিরে গেছে।
এদিকে বড় দরপতন হলেও গতকাল আর কোনো বিক্ষোভ-সমাবেশ হয়নি। অথচ কয়েক দিন ধরেই রাজপথে বিনিয়োগকারীদের একাংশ বিক্ষোভ-সমাবেশ করে আসছিল। দরপতনে ক্ষুব্ধ হয়ে তারা গত সোমবার মতিঝিল এলাকায় হরতাল আহ্বান করেছিল। তবে রাতেই তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।
গতকাল মতিঝিলের ডিএসই ভবন ও তৎসংলগ্ন এলাকায় সকাল থেকে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পুলিশের কড়া নজরদারি থাকায় কোনো বিক্ষোভ-সমাবেশের চেষ্টা করেনি কেউ।
এদিকে মতিঝিল থানা পুলিশের হাতে আটক বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের কয়েকজন নেতাসহ আটজন বিনিয়োগকারীকে মুচলেকার বিনিময়ে গতকাল দুপুরের পর ছেড়ে দেওয়া হয়।
পরে পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহদাত উল্লাহ প্রথম আলোকে জানান, ‘আটক ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে গতকাল দুপুর ১২টার পর পুলিশ তাঁদের ছেড়ে দেয়।’
অন্যদিকে পুঁজিবাজারের বর্তমান পরিস্থিতিতে সবাইকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন ডিএসইর সভাপতি শাকিল রিজভী। গতকাল দুপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘পুঁজিবাজারে উত্থান-পতন থাকবে। একসময় ডিএসইতে দৈনিক মাত্র এক কোটি টাকার লেনদেন হতো। সেই লেনদেন একপর্যায়ে তিন হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়। একইভাবে এখন লেনদেন অনেক কমে গেছে। কিন্তু এতে চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই। বাজার তার নিজ গতিতে আবারও ঘুরে দাঁড়াবে।’
ডিএসইতে গতকাল ২৫৯টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয়। এর মধ্যে ২৩০টিরই দাম কমেছে, বেড়েছে মাত্র ১৮টির আর অপরিবর্তিত ছিল ১১টির দাম। দিন শেষে ডিএসইতে ২৩৩ কোটি ৪৬ লাখ টাকার লেনদেন হয়, যা আগের দিনের চেয়ে ৫৩ লাখ টাকা কম।
চট্টগ্রামের বাজারের সার্বিক মূল্যসূচক গতকাল দিন শেষে নেমে এসেছে ১৩ হাজার ১৩৬ পয়েন্টে। সিএসইতে এই দিন ১৭৬টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয়। এর মধ্যে ১৫৮টিরই দাম কমেছে, বেড়েছে ১৫টির আর অপরিবর্তিত ছিল তিনটির দাম। চট্টগ্রামের বাজারে গতকাল দিন শেষে ৩০ কোটি টাকার লেনদেন হয়, যা আগের দিনের চেয়ে পাঁচ কোটি টাকা কম।

No comments

Powered by Blogger.