সাড়ে আট হাজার ডাকঘর ই-কেন্দ্রে রূপান্তরিত হবে

ডাকঘরের মাধ্যমে বিদেশ থেকে পাঠানো টাকা তাৎক্ষণিকভাবে গ্রাহকের কাছে পৌঁছে যাবে। ওয়েব ক্যামেরার সাহায্যে বিদেশে থাকা আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা যাবে। আর তাৎক্ষণিকভাবে চিঠিপত্র, দলিলাদিও পৌঁছে যাবে গ্রাহকের কাছে।


গ্রাহকদের এমন তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক সেবা সুবিধা দেওয়ার লক্ষ্যে দেশের আট হাজার ৫০০টি ডাকঘরে ই-সেন্টার চালু হবে।
এ জন্য ‘পোস্ট ই-সেন্টার ফর রুরাল কমিউনিটি’ শীর্ষক ৫৪০ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)।
গতকাল মঙ্গলবার শেরেবাংলা নগরে এনইসির সম্মেলন কক্ষে এই একনেকের সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেকের চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা।
প্রকল্প প্রস্তাবনা অনুযায়ী, সারা দেশের প্রতিটি জেলার গ্রামীণ এলাকার আট হাজার ৫০০টি ডাকঘরকে (পোস্ট অফিস) ই-সেন্টারে রূপান্তর করা হবে। এ প্রকল্পের মেয়াদকাল ধরা হয়েছে ২০১১ সালের জুলাই থেকে ২০১৫ সালের জুন পর্যন্ত। প্রকল্পটি পুরোপুরি দেশীয় অর্থে বাস্তবায়ন করা হবে।
এ প্রকল্পের অন্য মূল উদ্দেশ্য হলো: গ্রামীণ জনসাধারণের জন্য ইন্টারনেট ও অন্যান্য প্রযুক্তি-সুবিধা প্রদান করা; গ্রামীণ ছাত্রছাত্রীদের কাছে পরীক্ষার ফলাফল পৌঁছে দেওয়া; কৃষিপণ্যের তথ্যকেন্দ্র স্থাপন করা; ডাকঘরগুলো উন্নত প্রযুক্তি, তথ্যভান্ডার ও ডিজিটাল ফটো স্টুডিওতে রূপদান এবং কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যবিষয়ক তথ্য গ্রামীণ জনগণের মধ্যে পৌঁছে দেওয়া। ডাক বিভাগ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।
একনেক সভাশেষে প্রকল্পটি সম্পর্কে পরিকল্পনামন্ত্রী এ কে খন্দকার বলেন, দেশের গ্রামীণ ডাকঘরগুলো প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে এগুলোকে প্রাণ দেওয়া হবে। ডাকঘরগুলোর মাধ্যমে মুহূর্তেই দেশ-বিদেশ থেকে যে কেউ অর্থ গ্রাহকের কাছে পাঠাতে পারবেন।
এ সময় পরিকল্পনা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব ভুঁইয়া সফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
গতকালের একনেকে মোট এক হাজার ৮০৭ কোটি টাকার ছয়টি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়। এর মধ্যে এক হাজার ৫৮৯ কোটি টাকা সরকারের নিজস্ব তহবিল এবং ২১৮ কোটি টাকা প্রকল্পের সাহায্য থেকে মেটানো হবে।
গতকাল একনেকে অনুমোদিত আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হলো ৭১৯ কোটি টাকার ‘১০০০টি ইউনিয়ন পরিষদে অপটিক্যাল ফাইবার কেব্ল নেটওয়ার্ক উন্নয়ন প্রকল্প’। এ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের গ্রামপর্যায়ে নির্ভরযোগ্য ও সহজলভ্য তথ্য-যোগাযোগ ও প্রযুক্তিগত সুবিধা সম্প্রসারিত হবে।
এ প্রকল্পের আওতায় ১১ হাজার ৬০ কিলোমিটার অপটিক্যাল ফাইবার কেব্ল স্থাপন করা হবে। প্রকল্পটির মেয়াদকাল ২০১১ সালের জুলাই থেকে ২০১৩ সালের জুন মাস পর্যন্ত। বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন্স কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।
অনুমোদিত অন্য প্রকল্পগুলো হলো: ৭৯ কোটি টাকা ব্যয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন; ১০০ কোটি টাকার কর্মসংস্থান ও আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে উপজেলা পর্যায়ে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম জোরদারকরণ প্রকল্প; ২২৩ কোটি টাকা ব্যয়ে খাদ্য ও জীবিকা নিরাপত্তা (এফএলএস) প্রকল্প এবং ১৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে দক্ষিণ উপকূলীয় অঞ্চলে (বরিশাল ও পটুয়াখালী) বীজ বর্ধন খামার স্থাপন প্রকল্প।
একনেক সভায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

No comments

Powered by Blogger.