ধবল-ধোলাই এড়ানোর লড়াই ভারতের

অ্যাডিলেড টেস্টে ভারতের হারানোর কিছুই নেই। কিন্তু পাওয়ার আছে অনেক কিছু। ধবল-ধোলাইয়ের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার ব্যাপার তো আছেই। আরও আছে গোটা অস্ট্রেলিয়া সফরে ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের হারিয়ে ফেলা আত্মবিশ্বাস পুনরুদ্ধারের বিষয়টি। সেই সঙ্গে দেশবাসীর জন্য কিছুটা হলেও মুখরক্ষার ব্যাপার-স্যাপারগুলো সঙ্গে নেওয়া।


মাত্র নয় মাস আগেই ওয়ানডে বিশ্বকাপের শিরোপাটা ঊর্ধ্বে তুলে ধরেছিল মহেন্দ্র সিং ধোনির দল। এরপর অনেক আশা নিয়ে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ খেলতে গিয়েছিল তারা। পতনের সূচনা তখনই। ইংলিশ ভূমিতে টানা চারটি টেস্টে হেরে হোয়াইটওয়াশ। আত্মবিশ্বাসের দেয়াল ভেঙে-চুরে যায় তখনই।
আগের সেই সর্বজয়ী অস্ট্রেলীয় দল আর নেই। দলে নেই শেন ওয়ার্ন, ম্যাকগ্রা, গিলেস্পিরা। সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সও এমন আহামরি কিছু নয়। সবদিক বিবেচনায় নিয়ে ‘ডাউন আন্ডারে’ সিরিজ জয়ের এত ভালো সুযোগ ভারতের সামনে আর কখনোই আসেনি। কিন্তু সিরিজ শুরু হওয়ার পর দেখা গেল ঘটনা ঘটছে স্বপ্নের ঠিক উল্টোটা। প্রথম তিন টেস্টে শোচনীয়ভাবে হেরে আরেকটি ধবল-ধোলাইয়ের প্রহর গুনছে ভারতীয় দল। ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া মিলিয়ে বিদেশের মাটিতে টানা সাত টেস্টে হার। কয়েকটি আবার ইনিংস ব্যবধানে। ১৯৬৮ সালের পর বিদেশের মাটিতে পারফরম্যান্স হিসেবে এত জঘন্য পরিস্থিতি নাকি ভারতীয় দলের জন্য আর আসেনি।
অ্যাডিলেড টেস্ট নিয়ে কথা হচ্ছিল। এই টেস্ট জয়ের প্রাথমিক কাজটা অস্ট্রেলিয়া সেরে রেখেছে রিকি পন্টিং আর মাইকেল ক্লার্কের দুরন্ত দুটি দ্বি-শতকের কল্যাণে। ৬০৪ রান সংগ্রহ করে অনেকটি ইনিংস জয়ের পথও পরিষ্কার। এখন প্রশ্ন হচ্ছে ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা সব হিসাব পাল্টে দিয়ে এই টেস্টে নিজেদের হূত সম্মান কি পুনরুদ্ধার করতে পারবেন?
পার্থ টেস্টের পরপরই অনেক গণমাধ্যম অবিচুয়ারি লিখে ফেলেছিল ভিভিএস লক্ষণের। বলা হচ্ছিল, রাহুল দ্রাবিড়ও নাকি শেষ সিরিজ খেলছেন। তাদের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সও তেমনই নির্দেশনা দিচ্ছিল। কিন্তু এই দুই ‘অভিজ্ঞ’ ব্যাটসম্যানকে বাদ দিলে দলের বাকিদের পারফরম্যান্স কি পাতে তোলার মতো? বীরেন্দর শেবাগের অনেক বীরত্বগাথা দেখেছে ক্রিকেট বিশ্ব, অস্ট্রেলিয়ায় এসে তিনি এত নিষ্প্রভ কেন? শচীন টেন্ডুলকার অপেক্ষায় আছেন শততম আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরির। এটা নিঃসন্দেহে দারুণ এক ক্রিকেটীয় উপলক্ষ। কিন্তু ভারতীয় দলের সম্মান বাঁচানোর জন্য ওটা কি যথেষ্ট? মহেন্দ্র সিং ধোনি বিশ্বকাপ জেতার নয় মাসের মাথাতেই দেখছেন মুদ্রার উল্টো পিঠ। গৌতম গম্ভীরও কি নিজের নামের প্রতি সুবিচার করেছেন?
অ্যাডিলেড টেস্টেও যদি ভারত অন্য তিন টেস্টের ভাগ্যবরণ করে, তাহলে এটা লিখে দেওয়া যায়, গত ১০ বছরে ক্রিকেট বিশ্বের সবচেয়ে প্রার্থিত লাইনআপের শেষটা ঘনিয়ে এসেছে। অন্তত, ভারতীয় গণমাধ্যম ও সাবেকদের কথা-বার্তাতেও তা-ই মনে হচ্ছে। এ ধরনের ব্যর্থতার সঙ্গে যে দীর্ঘদিন পরিচয় নেই ভারতীয় ক্রিকেটের।
অ্যাডিলেডে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি ভারতীয়দের। টেস্টে তিন দিন বাকি থাকতে পরাজয়ের বাজনাটাই বড্ড জোরে শুনছে ভারতীয় সমর্থকেরা। তাদের মনে এখন লাখ টাকার প্রশ্ন, ‘ভারত কি ধবল-ধোলাই এড়াতে পারবে?’

No comments

Powered by Blogger.