পুলিশ কর্মকর্তার সাক্ষ্য-বাবরের পরামর্শে ছেড়ে দেওয়া হয় পাঁচ ব্যক্তিকে
১০ ট্রাক অস্ত্র আটকের সময় আটক পাঁচ ব্যক্তিকে তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ও চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের কমিশনার সাব্বির আলীর সঙ্গে পরামর্শ করে ছেড়ে দেন উপকমিশনার আবদুল্লাহ-হেল বাকী। ১০ ট্রাক অস্ত্র আটক-সংক্রান্ত চোরাচালান মামলায় গতকাল মঙ্গলবার এ সাক্ষ্য দেন পুলিশ কর্মকর্তা মো. মাহমুদুর রহমান।
মাহমুদুর রহমান ২০০৪ সালে অস্ত্র আটকের সময় চট্টগ্রামে পুলিশের সহকারী কমিশনার ছিলেন। বর্তমানে পুলিশ সুপার হিসেবে সিলেটের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) কার্যালয়ে সংযুক্ত আছেন। তিনি গতকাল চট্টগ্রাম মহানগর বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১-এ সাক্ষ্য দেন।
মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, ছেড়ে দেওয়া ওই পাঁচজন ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন উলফার সদস্য। তবে সাক্ষী মাহমুদুর রহমান এই পাঁচজন সম্পর্কে আদালতে বিস্তারিত কিছু বলেননি।
সাক্ষ্যদান শেষে মাহমুদুর রহমানকে বাবরসহ চারজন আসামির কৌঁসুলি জেরা করেন। তিনি এর আগে গত ২৯ জানুয়ারি অস্ত্র মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছিলেন।
ট্রাইব্যুনালের বিচারক এস এম মজিবুর রহমান আজ বুধবার পর্যন্ত আদালত মুলতবি রাখেন। আজ সাবেক শিল্পসচিব শোয়েব আহমেদ আদালতে সাক্ষ্য দেবেন বলে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলিরা জানিয়েছেন।
গতকাল প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) সাদেক হাসান রুমি, মেজর জেনারেল (অব.) ইমামুজ্জামান, এনএসআইয়ের সাবেক পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এনামুর রহমান চৌধুরী ও পুলিশের উপকমিশনার আবদুল্লাহেল বাকীসহ ছয়জন সাক্ষী এসেছিলেন। আজ থেকে তাঁরা পর্যায়ক্রমে আদালতে সাক্ষ্য দেবেন বলে জানা গেছে।
গতকাল সাক্ষী মাহমুদুর রহমানকে প্রথমে জেরা করেন আসামি হাফিজুর রহমানের কৌঁসুলি। তখন পেছনে বসা আসামিরা জেরার বক্তব্য শুনছিলেন না। একপর্যায়ে আসামি জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) সাবেক মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবদুর রহিম ও ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী দাঁড়িয়ে যান। তাঁরা বিচারকের উদ্দেশে বলেন, ‘সাক্ষিকে কী জেরা করা হচ্ছে, তা আমরা শুনতে পাচ্ছি না।’
বিচারক তাঁদের কৌঁসুলি কে, তা জানতে চান। বিচারক বলেন, ‘যা কিছু বলার কৌঁসুলি বলবেন। আসামি হিসেবে আপনারা পরে ৩৪২ ধারায় কথা বলার সুযোগ পাবেন। এখন আপনাদের কৌঁসুলিরা কথা বলবেন। আপনারা বলতে চাইলে কৌঁসুলিদের বাদ দিয়ে দেন।’
পুলিশ কর্মকর্তা মাহমুদুর রহমান গতকাল সিইউএফএল জেটিঘাটে অস্ত্র খালাস থেকে দামপাড়া পুলিশ লাইনে ট্রাকে করে পৌঁছানো পর্যন্ত বিস্তারিত বর্ণনা দেন। তিনি বলেন, ‘পরে আমি শুনেছি, অস্ত্র পরিবহনের জন্য এনএসআইয়ের ফিল্ড অফিসার ট্রাক ভাড়া করেন। এ-সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন পুলিশের উপকমিশনারের (বন্দর) কাছে দেখেছি। পরে আরও শুনেছি, ঘটনাস্থল সিইউএফএল জেটিঘাট থেকে আটক পাঁচ ব্যক্তিকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ও তৎকালীন পুলিশ কমিশনার সাব্বির আলীর সঙ্গে পরামর্শ করে তৎকালীন উপকমিশনার তাঁদের ছেড়ে দেন।
বেলা পৌনে পাঁচটায় মাহমুদুর রহমানের জেরা শেষ হয়। এরপর আসামি পক্ষের কৌঁসুলিরা সাক্ষ্য গ্রহণের সময় এক সপ্তাহ বাড়ানোর আবেদন করেন। এর বিরোধিতা করে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (পিপি) কামালউদ্দিন আহাম্মদ বলেন, ‘এ মামলার ভিআইপি সাক্ষীরা চট্টগ্রামে এসেছেন। প্রয়োজনে তাঁদের আমি এ মুহূর্তে আদালতে হাজির করাতে পারব। তাঁদের সাক্ষ্য নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।’
বিচারকের অনুমতি নিয়ে পিপি গুরুত্বপূর্ণ পাঁচজন সাক্ষীকে আদালতে হাজির করান। বিচারক সাক্ষ্য গ্রহণের দিন পিছিয়ে দেবেন কি না, তা সাক্ষীদের কাছে জানতে চান। তাঁরা বলেন, ‘স্যার, যেটা ভালো হয় তা করুন।’ এরপর বিচারক আজ বুধবার পর্যন্ত আদালত মুলতবি ঘোষণা করেন।
২০০৪ সালের ১ এপ্রিল রাতে চট্টগ্রাম ইউরিয়া সার কারখানার (সিইউএফএল) জেটিঘাট থেকে ১০ ট্রাক অস্ত্র আটক করা হয়। এ ঘটনায় দুটি মামলা হয়। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে মামলার তদন্ত বেশি দূর এগোতে পারেনি। পরে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে নতুন করে তদন্ত শুরু হয়। বর্তমান সরকারের আমলে এ মামলার সম্পূরক অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। তাতে সাবেক দুজন মন্ত্রী মতিউর রহমান নিজামী ও লুৎফুজ্জামান বাবরসহ সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা, সচিব ও উলফা নেতা পরেশ বড়ুয়াসহ নয়জনকে আসামি করা হয়। তাঁদের মধ্যে পরেশ বড়ুয়া ও সাবেক অতিরিক্ত সচিব নুরুল আমিন পলাতক।
মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, ছেড়ে দেওয়া ওই পাঁচজন ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন উলফার সদস্য। তবে সাক্ষী মাহমুদুর রহমান এই পাঁচজন সম্পর্কে আদালতে বিস্তারিত কিছু বলেননি।
সাক্ষ্যদান শেষে মাহমুদুর রহমানকে বাবরসহ চারজন আসামির কৌঁসুলি জেরা করেন। তিনি এর আগে গত ২৯ জানুয়ারি অস্ত্র মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছিলেন।
ট্রাইব্যুনালের বিচারক এস এম মজিবুর রহমান আজ বুধবার পর্যন্ত আদালত মুলতবি রাখেন। আজ সাবেক শিল্পসচিব শোয়েব আহমেদ আদালতে সাক্ষ্য দেবেন বলে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলিরা জানিয়েছেন।
গতকাল প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) সাদেক হাসান রুমি, মেজর জেনারেল (অব.) ইমামুজ্জামান, এনএসআইয়ের সাবেক পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এনামুর রহমান চৌধুরী ও পুলিশের উপকমিশনার আবদুল্লাহেল বাকীসহ ছয়জন সাক্ষী এসেছিলেন। আজ থেকে তাঁরা পর্যায়ক্রমে আদালতে সাক্ষ্য দেবেন বলে জানা গেছে।
গতকাল সাক্ষী মাহমুদুর রহমানকে প্রথমে জেরা করেন আসামি হাফিজুর রহমানের কৌঁসুলি। তখন পেছনে বসা আসামিরা জেরার বক্তব্য শুনছিলেন না। একপর্যায়ে আসামি জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) সাবেক মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবদুর রহিম ও ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী দাঁড়িয়ে যান। তাঁরা বিচারকের উদ্দেশে বলেন, ‘সাক্ষিকে কী জেরা করা হচ্ছে, তা আমরা শুনতে পাচ্ছি না।’
বিচারক তাঁদের কৌঁসুলি কে, তা জানতে চান। বিচারক বলেন, ‘যা কিছু বলার কৌঁসুলি বলবেন। আসামি হিসেবে আপনারা পরে ৩৪২ ধারায় কথা বলার সুযোগ পাবেন। এখন আপনাদের কৌঁসুলিরা কথা বলবেন। আপনারা বলতে চাইলে কৌঁসুলিদের বাদ দিয়ে দেন।’
পুলিশ কর্মকর্তা মাহমুদুর রহমান গতকাল সিইউএফএল জেটিঘাটে অস্ত্র খালাস থেকে দামপাড়া পুলিশ লাইনে ট্রাকে করে পৌঁছানো পর্যন্ত বিস্তারিত বর্ণনা দেন। তিনি বলেন, ‘পরে আমি শুনেছি, অস্ত্র পরিবহনের জন্য এনএসআইয়ের ফিল্ড অফিসার ট্রাক ভাড়া করেন। এ-সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন পুলিশের উপকমিশনারের (বন্দর) কাছে দেখেছি। পরে আরও শুনেছি, ঘটনাস্থল সিইউএফএল জেটিঘাট থেকে আটক পাঁচ ব্যক্তিকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ও তৎকালীন পুলিশ কমিশনার সাব্বির আলীর সঙ্গে পরামর্শ করে তৎকালীন উপকমিশনার তাঁদের ছেড়ে দেন।
বেলা পৌনে পাঁচটায় মাহমুদুর রহমানের জেরা শেষ হয়। এরপর আসামি পক্ষের কৌঁসুলিরা সাক্ষ্য গ্রহণের সময় এক সপ্তাহ বাড়ানোর আবেদন করেন। এর বিরোধিতা করে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (পিপি) কামালউদ্দিন আহাম্মদ বলেন, ‘এ মামলার ভিআইপি সাক্ষীরা চট্টগ্রামে এসেছেন। প্রয়োজনে তাঁদের আমি এ মুহূর্তে আদালতে হাজির করাতে পারব। তাঁদের সাক্ষ্য নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।’
বিচারকের অনুমতি নিয়ে পিপি গুরুত্বপূর্ণ পাঁচজন সাক্ষীকে আদালতে হাজির করান। বিচারক সাক্ষ্য গ্রহণের দিন পিছিয়ে দেবেন কি না, তা সাক্ষীদের কাছে জানতে চান। তাঁরা বলেন, ‘স্যার, যেটা ভালো হয় তা করুন।’ এরপর বিচারক আজ বুধবার পর্যন্ত আদালত মুলতবি ঘোষণা করেন।
২০০৪ সালের ১ এপ্রিল রাতে চট্টগ্রাম ইউরিয়া সার কারখানার (সিইউএফএল) জেটিঘাট থেকে ১০ ট্রাক অস্ত্র আটক করা হয়। এ ঘটনায় দুটি মামলা হয়। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে মামলার তদন্ত বেশি দূর এগোতে পারেনি। পরে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে নতুন করে তদন্ত শুরু হয়। বর্তমান সরকারের আমলে এ মামলার সম্পূরক অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। তাতে সাবেক দুজন মন্ত্রী মতিউর রহমান নিজামী ও লুৎফুজ্জামান বাবরসহ সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা, সচিব ও উলফা নেতা পরেশ বড়ুয়াসহ নয়জনকে আসামি করা হয়। তাঁদের মধ্যে পরেশ বড়ুয়া ও সাবেক অতিরিক্ত সচিব নুরুল আমিন পলাতক।
No comments