বুনো কাঁঠাল by এস এম আতিকুল্লাহ
আভিধানিক নাম ‘অচ’, ‘বনাচ’ বা ‘বড়চাঁদ’। জন্মে প্রাকৃতিক বনে এবং ফল দেখতে খানিকটা কাঁঠালের মতো। এ জন্য লোকজন বলে ‘বুনো কাঁঠাল’। বুনো কাঁঠাল খাওয়া যায় না, তবে এর ফল ও পাতার ভেষজ গুণাবলি আছে। দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে, বিশেষ করে জোয়ার-ভাটাবিধৌত খাল ও নদীতীর এলাকায় বুনো কাঁঠালগাছ দেখা যায়।
লবণাক্ততা সহ্য করতে পারে বলে সুন্দরবন এলাকায় এর আধিক্য বেশি। তবে সমতল পলল ভূমিতেও ভালো হয়। পাশাপাশি জলাভূমি, পুকুরপাড় ও রাস্তার পাশেও জন্মে এ গাছ।
দেশের বাইরে শ্রীলঙ্কা, ভারত, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, মিয়ানমার, চীন ও অস্ট্রেলিয়ায়ও বুনো কাঁঠালগাছ জন্মাতে দেখা যায়।
বুনো কাঁঠাল জেনটিয়ানালেস (Gentianales) বর্গের দ্বিবীজপত্রী আবৃতবীজী উদ্ভিদ। উদ্ভিদতাত্ত্বিক পরিচয়ে Morinda citrifolia এবং রুবিয়েসি (Rubiaceae) পরিবারের সদস্য। এই পরিবারকে কফি পরিবার নামে আখ্যায়িত করা হয়। এই উদ্ভিদ পরিবারের ৪৫০টি গণের অন্তর্গত প্রায় ৬৫০০টি প্রজাতির অস্তিত্ব রয়েছে। এই পরিবারের অন্যান্য বেশ পরিচিত উদ্ভিদের মধ্যে আছে কদম, কেলিকদম, রঙ্গন, ভুইপাট, কফি ও গন্ধরাজ।
বুনো কাঁঠাল মাঝারি ধরনের সবুজ বৃক্ষ। উদ্ভিদের বাহ্যিক অবয়ব লক্ষ করলে দেখা যায়, কাণ্ড মসৃণ ও তামাটে বর্ণের। কাণ্ডের মাথার দিক নরম ও চারকোনাকার। উদ্ভিদের পত্র উপপত্রযুক্ত, বৃন্তক ও পত্রবৃন্ত খাটো। পত্রফলক উপবৃত্তাকার, পুরু, রসাল; অনেকটা কদমপাতার সদৃশ। পত্র শিরা বেশ স্ফীত ও স্পষ্ট। ফুলের পুংদণ্ড খাটো ও রোমশ, পরাগধানী আয়তাকার থেকে ডিম্বাকার। বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে ফুল ধরে এবং কার্তিক-অগ্রহায়ণ মাসে ফল পাকে।
বুনো কাঁঠালের ফুল সহবাসী। বকের মতো সাদা সাদা ফুল বুনো পরিবেশে সহজেই দৃষ্টি কাড়ে। ছোট আকারের যৌগিক রসাল ফলকে উদ্ভিদবিদ্যার ভাষায় বেরি ফল বলে। মাংসল ফল ডালে ডালে থোকার মতো ধরে। ফল দেখতে অনেকটা কাঁঠালের মতো। কাঁচা অবস্থায় হালকা সবুজ এবং পাকলে হালকা হলুদ বর্ণ ধারণ করে। ফলে অনেক বীচি থাকে, শরিফা বা কাঁঠালের মতো বিন্যস্ত থাকে।
বুনো কাঁঠাল মানুষের আহারযোগ্য নয়। কিন্তু বনের পশুপাখি এই ফল খায়। বুনো কাঁঠালের পাতার রস বলকারক এবং ডায়রিয়া, আমাশয় ও আলসার নিরাময়ক বলে জনশ্রুতি আছে। কাঁচা ফল রক্তক্ষরণ রোধ করে বলে দাবি করেছেন পটুয়াখালীর কলাপাড়ার স্থানীয় কয়েকজন। কাঠের কদর আছে আসবাব, খুঁটি ও কৃষি যন্ত্রপাতির বাঁট ইত্যাদি তৈরির কাজে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের পক্ষ থেকে ২০১০ সালে দক্ষিণাঞ্চলের পটুয়াখালী ও বরগুনা অঞ্চলের ৩০০ বসতবাড়িতে একটি জরিপ চালানো হয়। এতে মাত্র একটি বুনো কাঁঠালগাছের খোঁজ মেলে। পরবর্তী সময়ে বাগেরহাট জেলার মোরেলগঞ্জ উপজেলার সমতল ভূমির বসতবাড়িতে একটি এবং পটুয়াখালীর মহিষকাটা বাজারে আরেকটি গাছ শনাক্ত করা হয়েছে।
এ প্রজাতিটি জার্মপ্লাজম বন গবেষণাকেন্দ্রের জিনব্যাংকে সংরক্ষণ করা দরকার। এ ছাড়া ব্যাপকভিত্তিক সামাজিক বনায়নের ক্ষেত্রে এ গাছ লাগানো যেতে পারে। বন বিভাগের সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির নার্সারিগুলো পরীক্ষামূলক এর চারা তৈরির চেষ্টা করতে পারে।
দেশের বাইরে শ্রীলঙ্কা, ভারত, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, মিয়ানমার, চীন ও অস্ট্রেলিয়ায়ও বুনো কাঁঠালগাছ জন্মাতে দেখা যায়।
বুনো কাঁঠাল জেনটিয়ানালেস (Gentianales) বর্গের দ্বিবীজপত্রী আবৃতবীজী উদ্ভিদ। উদ্ভিদতাত্ত্বিক পরিচয়ে Morinda citrifolia এবং রুবিয়েসি (Rubiaceae) পরিবারের সদস্য। এই পরিবারকে কফি পরিবার নামে আখ্যায়িত করা হয়। এই উদ্ভিদ পরিবারের ৪৫০টি গণের অন্তর্গত প্রায় ৬৫০০টি প্রজাতির অস্তিত্ব রয়েছে। এই পরিবারের অন্যান্য বেশ পরিচিত উদ্ভিদের মধ্যে আছে কদম, কেলিকদম, রঙ্গন, ভুইপাট, কফি ও গন্ধরাজ।
বুনো কাঁঠাল মাঝারি ধরনের সবুজ বৃক্ষ। উদ্ভিদের বাহ্যিক অবয়ব লক্ষ করলে দেখা যায়, কাণ্ড মসৃণ ও তামাটে বর্ণের। কাণ্ডের মাথার দিক নরম ও চারকোনাকার। উদ্ভিদের পত্র উপপত্রযুক্ত, বৃন্তক ও পত্রবৃন্ত খাটো। পত্রফলক উপবৃত্তাকার, পুরু, রসাল; অনেকটা কদমপাতার সদৃশ। পত্র শিরা বেশ স্ফীত ও স্পষ্ট। ফুলের পুংদণ্ড খাটো ও রোমশ, পরাগধানী আয়তাকার থেকে ডিম্বাকার। বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে ফুল ধরে এবং কার্তিক-অগ্রহায়ণ মাসে ফল পাকে।
বুনো কাঁঠালের ফুল সহবাসী। বকের মতো সাদা সাদা ফুল বুনো পরিবেশে সহজেই দৃষ্টি কাড়ে। ছোট আকারের যৌগিক রসাল ফলকে উদ্ভিদবিদ্যার ভাষায় বেরি ফল বলে। মাংসল ফল ডালে ডালে থোকার মতো ধরে। ফল দেখতে অনেকটা কাঁঠালের মতো। কাঁচা অবস্থায় হালকা সবুজ এবং পাকলে হালকা হলুদ বর্ণ ধারণ করে। ফলে অনেক বীচি থাকে, শরিফা বা কাঁঠালের মতো বিন্যস্ত থাকে।
বুনো কাঁঠাল মানুষের আহারযোগ্য নয়। কিন্তু বনের পশুপাখি এই ফল খায়। বুনো কাঁঠালের পাতার রস বলকারক এবং ডায়রিয়া, আমাশয় ও আলসার নিরাময়ক বলে জনশ্রুতি আছে। কাঁচা ফল রক্তক্ষরণ রোধ করে বলে দাবি করেছেন পটুয়াখালীর কলাপাড়ার স্থানীয় কয়েকজন। কাঠের কদর আছে আসবাব, খুঁটি ও কৃষি যন্ত্রপাতির বাঁট ইত্যাদি তৈরির কাজে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের পক্ষ থেকে ২০১০ সালে দক্ষিণাঞ্চলের পটুয়াখালী ও বরগুনা অঞ্চলের ৩০০ বসতবাড়িতে একটি জরিপ চালানো হয়। এতে মাত্র একটি বুনো কাঁঠালগাছের খোঁজ মেলে। পরবর্তী সময়ে বাগেরহাট জেলার মোরেলগঞ্জ উপজেলার সমতল ভূমির বসতবাড়িতে একটি এবং পটুয়াখালীর মহিষকাটা বাজারে আরেকটি গাছ শনাক্ত করা হয়েছে।
এ প্রজাতিটি জার্মপ্লাজম বন গবেষণাকেন্দ্রের জিনব্যাংকে সংরক্ষণ করা দরকার। এ ছাড়া ব্যাপকভিত্তিক সামাজিক বনায়নের ক্ষেত্রে এ গাছ লাগানো যেতে পারে। বন বিভাগের সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির নার্সারিগুলো পরীক্ষামূলক এর চারা তৈরির চেষ্টা করতে পারে।
No comments